বিজয় হাজারে ট্রফি ক্রিকেটে এক ম্যাচে তিন সেঞ্চুরি এবং ৫০ ওভারে ৫৭৪ রান তুলে বিশ্ব রেকর্ড গড়ল বিহার। ৩২ বলের সেঞ্চুরিতে লণ্ডভণ্ড অরুণাচল। (১৫৫ ক্যারেক্টার) ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে ইতিহাস গড়েছে বিহার। বুধবার বিজয় হাজারে ট্রফির উদ্বোধনী দিনে অরুণাচল প্রদেশের বিপক্ষে তারা ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৫৭৪ রানের পাহাড় দাঁড় করিয়েছে, যা লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের বিশ্ব রেকর্ড। এই বিধ্বংসী ইনিংসে বিহারের অধিনায়ক সাকিবুল গণি মাত্র ৩২ বলে সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন, যা কোনো ভারতীয় ব্যাটারের দ্রুততম লিস্ট ‘এ’ সেঞ্চুরি। এছাড়া ১৪ বছর বয়সী বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশী মাত্র ৩৬ বলে সেঞ্চুরি করে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন।
কিভাবে বিজয় হাজারে ট্রফিতে ৫৭৪ রানের বিশ্ব রেকর্ড গড়ল বিহার?
বিজয় হাজারে ট্রফির প্রথম দিনেই বিহারের ব্যাটাররা অরুণাচল প্রদেশের বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছেন। দলটির হয়ে অধিনায়ক সাকিবুল গণি এবং উদীয়মান তারকা বৈভব সূর্যবংশী বিধ্বংসী সেঞ্চুরি করে এই রান পাহাড় গড়তে সহায়তা করেন। এর আগে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ সংগ্রহের রেকর্ডটি ছিল তামিল নাড়ুর দখলে। ২০২২ সালে একই প্রতিপক্ষ অরুণাচলের বিপক্ষে তারা ৫০৬ রান করেছিল। এই ঐতিহাসিক জয় নিয়ে The Times of India তাদের বিস্তারিত রিপোর্টে বিহারের ব্যাটিং তাণ্ডবকে অভূতপূর্ব হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ম্যাচের শুরুতে সূর্যবংশী বিধ্বংসী ব্যাটিং শুরু করলে ২৬.৪ ওভারেই বিহার ২ উইকেটে ২৬১ রান তুলে ফেলে। এরপর বাকি ১৪০ বলে বিহারের ব্যাটাররা আরও ৩১৩ রান যোগ করেন, যা আধুনিক ক্রিকেটের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের নতুন সংজ্ঞা লিখেছে। ইনিংসের শেষ দিকে অধিনায়ক সাকিবুল গণির ৩২ বলের সেঞ্চুরি দলটিকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যায় যা ছাড়িয়ে যাওয়া যেকোনো দলের জন্য প্রায় অসম্ভব। এই রেকর্ড সম্পর্কে India Today জানিয়েছে যে এটি ঘরোয়া ক্রিকেটের মানকে বিশ্ব দরবারে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বৈভব সূর্যবংশী ও সাকিবুল গণির দ্রুততম সেঞ্চুরির মাহাত্ম্য কতটুকু?
মাত্র ১৪ বছর ২৭২ দিন বয়সে বৈভব সূর্যবংশী লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। তিনি মাত্র ৩৬ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত ৮৪ বলে ১৯০ রানের একটি অতিমানবীয় ইনিংস খেলেন, যেখানে ১৬টি চার ও ১৫টি ছক্কা ছিল। সূর্যবংশীর বিদায়ের পর দৃশ্যপটে আসেন অধিনায়ক সাকিবুল গণি, যিনি সূর্যবংশীর গতিকেও হার মানিয়েছেন। গণি মাত্র ৩২ বলে সেঞ্চুরি করেন, যা লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে কোনো ভারতীয় ব্যাটারের দ্রুততম সেঞ্চুরির নতুন রেকর্ড। এর আগে এদিনই ঝাড়খণ্ডের হয়ে ইশান কিশান ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করে আগের রেকর্ডটি কয়েক ঘণ্টার জন্য নিজের করে নিয়েছিলেন।
সাকিবুল গণি শেষ পর্যন্ত ৪০ বলে ১২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন, যাতে ১০টি চার ও ১২টি ছক্কা ছিল। গণির এই সেঞ্চুরিটি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের ইতিহাসে সামগ্রিকভাবে দ্রুততম সেঞ্চুরির তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে। জেইক ফ্রেজার ম্যাকগার্কের ২৯ বলের বিশ্ব রেকর্ড এবং এবি ডি ভিলিয়ার্সের ৩১ বলের সেঞ্চুরির পরেই এখন অবস্থান করছেন সাকিবুল গণি। এই ব্যাটিং শৈলী নিয়ে The Economic Times তাদের বিশেষ কলামে লিখেছে যে সূর্যবংশী এবং গণি ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকে বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
এক নজরে বিহারের বিশ্ব রেকর্ড ইনিংস
| ব্যাটারের নাম | রান (বল) | চার/ছক্কা | বিশেষ কৃতিত্ব |
| বৈভব সূর্যবংশী | ১৯০ (৮৪) | ১৬/১৫ | ৩৬ বলে সেঞ্চুরি, সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান |
| সাকিবুল গণি | ১২৮* (৪০) | ১০/১২ | ৩২ বলে সেঞ্চুরি, ভারতীয় দ্রুততম রেকর্ড |
| আয়ুশ লোহারুকা | ১১৬ (৫৬) | ১১/৮ | ইনিংসের তৃতীয় সেঞ্চুরিয়ান |
| বিহার (দলীয়) | ৫৭৪/৬ | ৩৮টি ছক্কা | লিস্ট ‘এ’ ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় রান |
কেন অরুণাচল প্রদেশের বোলাররা বিহারকে থামাতে ব্যর্থ হলো?
অরুণাচল প্রদেশের বোলিং আক্রমণ শুরু থেকেই বিহারের হিটারদের সামনে দিশেহারা ছিল। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে মাত্র ২ জন ব্যাটারের ৫০০ রান করার নজির থাকলেও, বিহারের বিপক্ষে অরুণাচলের বোলাররা প্রতি ওভারেই গড়ে ১১ রান করে খরচ করেছেন। বিশেষ করে ইনিংসের দ্বিতীয় ভাগে বিহার যখন ৩১৩ রান যোগ করল, তখন বোলারদের মধ্যে কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। অরুণাচল প্রদেশের মতো প্লেট গ্রুপ বা দুর্বল ঘরোয়া দলগুলোর বিপক্ষে বড় দলগুলোর এমন বিশাল রান করার প্রবণতা নিয়ে The Indian Express এক বিশ্লেষণে ঘরোয়া কাঠামোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিহারের ইনিংসের শেষ দিকে সাকিবুল গণির বিধ্বংসী রূপ অরুণাচলের বোলারদের লাইন এবং লেন্থ পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়। বিহার তাদের পুরো ইনিংসে মোট ৩৮টি ছক্কা হাঁকায়, অর্থাৎ ২২৮ রান আসে শুধুমাত্র ছক্কা থেকেই। বোলারদের অনভিজ্ঞতা এবং সূর্যবংশী-গণির মারমুখী মেজাজ এই বিশাল রেকর্ডের পথ প্রশস্ত করেছে। যদিও ঘরোয়া ক্রিকেটে দলগুলোর মধ্যে শক্তির পার্থক্য থাকে, তবে ওয়ানডে বা লিস্ট ‘এ’ ফরম্যাটে ৫৭৪ রান সংগ্রহ করা একটি বিরলতম ঘটনা হিসেবে ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিল।
ইশান কিশানের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড কেন মাত্র কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হলো?
বিজয় হাজারে ট্রফির উদ্বোধনী দিনটি ছিল রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলা। ঝাড়খণ্ডের হয়ে খেলা ইশান কিশান এদিনই কর্ণাটকের বিপক্ষে ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছিলেন। কিন্তু তার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি বিহারের অধিনায়ক সাকিবুল গণি। একই দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রাঁচিতে অরুণাচলের বিপক্ষে ব্যাটিং করতে নেমে গণি মাত্র ৩২ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে কিশানের রেকর্ডটি ভেঙে দেন।
এই রেকর্ড ভাঙা-গড়ার চিত্রটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে সরব আলোচনা চলছে। কিশান এবং গণি ছাড়াও এদিন সূর্যবংশীও দ্রুততম ভারতীয় সেঞ্চুরির তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। কিশানের ৩৩ বলের ইনিংসটি যেখানে বড় অর্জন ছিল, সেখানে গণির ৩২ বলের ইনিংসটি ছিল অবিশ্বাস্য। এটি প্রমাণ করে যে আধুনিক ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে পাওয়ার হিটিংয়ের মান কতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে। কিশান এবং গণির এই ব্যক্তিগত দ্বৈরথ আগামী দিনে জাতীয় দলের ওয়ানডে ফরম্যাটের জন্য শক্তিশালী ব্যাটিং পাইপলাইন নিশ্চিত করছে।
বৈভব সূর্যবংশী কি হতে যাচ্ছেন ভারতের আগামীর সুপারস্টার?
মাত্র ১৪ বছর বয়সে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ১৯০ রানের ইনিংস খেলা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। বৈভব সূর্যবংশী কেবল সেঞ্চুরি করেননি, বরং ৩৬ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়ে তিনি তার বিধ্বংসী মেজাজের প্রমাণ দিয়েছেন। ক্রিকেটের পরিসংখ্যানে তাকে এখন ‘বিস্ময় বালক’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। তার ১৬টি চার ও ১৫টি ছক্কার ইনিংসটি আইপিএল এবং জাতীয় দলের স্কাউটদের নজর কাড়তে বাধ্য। Fox Sports Australia এর প্রতিবেদনে তাকে ভারতীয় ক্রিকেটের পরবর্তী বিশাল সেনসেশন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
সূর্যবংশী একজন বাঁহাতি ওপেনার হিসেবে ইনিংসের শুরু থেকেই বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পছন্দ করেন। তার সেঞ্চুরির স্ট্রাইক রেট এবং দীর্ঘ ইনিংস খেলার ক্ষমতা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে। এছাড়াও তিনি এদিন এবি ডি ভিলিয়ার্সের দ্রুততম লিস্ট ‘এ’ ১৫০ রানের রেকর্ডটিও ভেঙেছেন, যা তিনি মাত্র ৫৯ বলে পূর্ণ করেন। ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তরা ইতিমধ্যে তাকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত এবং অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন সূর্যবংশী হতে পারেন আগামীর সেই তারকা, যিনি খুব অল্প বয়সেই বিশ্ব ক্রিকেটকে শাসন করার ক্ষমতা রাখেন।
FAQ:
১. লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ দলীয় রানের বিশ্ব রেকর্ড এখন কার?
বিহারের। অরুণাচল প্রদেশের বিপক্ষে বিজয় হাজারে ট্রফি ২০২৫-২৬-এর ম্যাচে তারা ৬ উইকেটে ৫৭৪ রান করে তামিল নাড়ুর ৫০৬ রানের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
২. সাকিবুল গণি কত বলে সেঞ্চুরি করেছেন এবং এটি কি বিশ্ব রেকর্ড?
সাকিবুল গণি মাত্র ৩২ বলে সেঞ্চুরি করেছেন। এটি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ভারতীয় হিসেবে দ্রুততম এবং বিশ্বতালিকায় তৃতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি।
৩. বৈভব সূর্যবংশীর বয়স কত এবং তিনি কী রেকর্ড গড়েছেন?
সূর্যবংশীর বয়স মাত্র ১৪ বছর ২৭২ দিন। তিনি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান এবং ৩৬ বলে সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেছেন।
৪. একই ম্যাচে বিহারের কতজন ব্যাটার সেঞ্চুরি করেছেন?
একই ম্যাচে বিহারের তিনজন ব্যাটার সেঞ্চুরি করেছেন: বৈভব সূর্যবংশী (১৯০), সাকিবুল গণি (১২৮*) এবং আয়ুশ লোহারুকা (১১৬)।
৫. ইশান কিশানের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি কী ছিল?
ইশান কিশান ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করে ভারতীয় হিসেবে দ্রুততমের রেকর্ড গড়েছিলেন, যা একই দিনে সাকিবুল গণি ৩২ বলে সেঞ্চুরি করে ভেঙে দেন।
JitaBet , JitaWin , এবং JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন, তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!
উপসংহার:
বিহারের এই ৫৭৪ রানের মহাকাব্য কেবল একটি জয় নয়, বরং এটি ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের সক্ষমতার এক বিশাল বহিঃপ্রকাশ। বৈভব সূর্যবংশী এবং সাকিবুল গণির মতো ব্যাটাররা প্রমাণ করেছেন যে এখনকার তরুণরা ওয়ানডে বা লিস্ট ‘এ’ ফরম্যাটেও টি-টোয়েন্টি স্টাইলে দীর্ঘক্ষণ ব্যাটিং করতে সক্ষম। ৩৬ বলে সূর্যবংশীর সেঞ্চুরি এবং ৩২ বলে গণির শতক ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকে এক নতুন দিশা দিয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের বিপক্ষে এই জয় হয়তো শক্তির বিচারে অসম মনে হতে পারে, কিন্তু ৫৭৪ রান সংগ্রহ করা যেকোনো উইকেটে এবং যেকোনো বোলিংয়ের বিরুদ্ধেই একটি প্রায় অসম্ভব কাজ।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তামিল নাড়ুর রেকর্ড ভেঙে বিহার এখন বিশ্ব ক্রিকেটের শিখরে। ইশান কিশানের ৩৩ বলের রেকর্ড মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ভেঙে যাওয়া প্রমাণ করে যে সুস্থ প্রতিযোগিতা ভারতীয় ক্রিকেটে কতটুকু তীব্র। এই ম্যাচে আয়ুশ লোহারুকার সেঞ্চুরিটিও হারিয়ে গেছে সূর্যবংশী ও গণির গতির কাছে, কিন্তু এটিই ছিল বিহারের দলগত সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। ১৪ বছর বয়সী সূর্যবংশীর এই ১৯০ রানের ইনিংসটি আগামীর বিশ্ব ক্রিকেটে এক নতুন সুপারস্টারের আগমণী বার্তা দিচ্ছে। বিসিসিআই এখন এই তরুণ প্রতিভাদের কীভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গড়ে তোলে, সেটাই দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে বুধবারের দিনটি ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তদের কাছে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে, যেখানে রেকর্ডের বন্যায় ভেসে গেছে সব পুরনো ইতিহাস।
For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News




