আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে যৌথভাবে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ভারত মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্রের। মোট ২০টি দল চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ঐতিহাসিক এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে, যার মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৮ মার্চ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে। আইসিসি কর্তৃক ঘোষিত এই সূচিতে গ্রুপ পর্বের ৪০টি ম্যাচের পাশাপাশি সুপার এইট এবং নকআউট পর্বের সময়সূচি ও ভেন্যু চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এক নজরে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
| মূল তথ্য | বিবরণ |
| আয়োজক দেশ | ভারত ও শ্রীলঙ্কা |
| টুর্নামেন্ট শুরু | ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
| অংশগ্রহণকারী দল | ২০টি (৪টি গ্রুপ) |
| ফাইনাল ম্যাচ | ৮ মার্চ, ২০২৬ (আহমেদাবাদ) |
| সুপার এইট শুরু | ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
| ভেন্যু সংখ্যা | ৮টি স্টেডিয়াম (৫টি ভারতে, ৩টি শ্রীলঙ্কায়) |
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু ও অবকাঠামো কেমন?
আইসিসি এবং বিসিসিআই যৌথভাবে ভারতের পাঁচটি প্রধান শহরকে ভেন্যু হিসেবে নির্বাচিত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম, কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন, মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম, চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়াম এবং আহমেদাবাদ। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কায় ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা ও এসএসসি গ্রাউন্ড এবং ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে। নিরাপত্তার স্বার্থে পাকিস্তানের সকল ম্যাচ এবং নকআউট পর্বে তারা কোয়ালিফাই করলে সেই ম্যাচগুলোও শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করার বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Britannica-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত ও শ্রীলঙ্কার এই ভেন্যু নির্বাচন করা হয়েছে দর্শকদের বিশাল সমাগম এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার কথা মাথায় রেখে। বিশেষ করে, ফাইনাল ও সেমিফাইনালের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচগুলোর জন্য ভারতের বড় স্টেডিয়ামগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। স্টেডিয়ামগুলোর পিচ কন্ডিশন এবং ফ্লাডলাইট ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে যাতে করে দিবা-রাত্রির ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়রা সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে পারেন।
টুর্নামেন্টের ফরম্যাট ও দল বিন্যাস কীভাবে সাজানো হয়েছে?
২০২৬ বিশ্বকাপের ফরম্যাটে ২০টি দলকে পাঁচটি করে সদস্য নিয়ে মোট চারটি গ্রুপে (Group A, B, C, D) ভাগ করা হয়েছে। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সরাসরি সুপার এইট পর্বে উন্নীত হবে, যেখানে দলগুলো পুনরায় দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সেমিফাইনালের টিকিটের জন্য লড়াই করবে। আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে গ্রুপ ‘এ’-তে রয়েছে ভারত ও পাকিস্তান, গ্রুপ ‘বি’-তে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা, গ্রুপ ‘সি’-তে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং গ্রুপ ‘ডি’-তে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলগুলো।
খেলার এই দীর্ঘ পরিক্রমায় মোট ৫৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। LiveMint-এর তথ্যানুসারে, ২০টি দলের এই মেগা ইভেন্টে এবার ইতালির মতো নতুন দলগুলোর অংশগ্রহণ ক্রিকেটকে আরও বিশ্বজনীন করে তুলবে। প্রতিটি দল গ্রুপ পর্বে চারটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে, যা দলগুলোর জন্য নকআউট নিশ্চিত করার আগে যথেষ্ট সময় প্রদান করবে। তবে র্যাঙ্কিংয়ের মারপ্যাঁচে বড় দলগুলোর শুরুতেই একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা দর্শকদের উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: পূর্ণাঙ্গ সময়সূচী
| তারিখ (২০২৬) | ম্যাচ নং | দল বনাম দল | ভেন্যু | সময় (বিডি) |
| ৭ ফেব্রুয়ারি | ১ | ভারত বনাম যুক্তরাষ্ট্র | মুম্বাই | সন্ধ্যা ৭:৩০ |
| ৭ ফেব্রুয়ারি | ২ | ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম স্কটল্যান্ড | কলকাতা | বিকাল ৩:৩০ |
| ৮ ফেব্রুয়ারি | ৩ | নিউজিল্যান্ড বনাম আফগানিস্তান | চেন্নাই | সকাল ১১:৩০ |
| ৮ ফেব্রুয়ারি | ৪ | ইংল্যান্ড বনাম নেপাল | মুম্বাই | বিকাল ৩:৩০ |
| ৮ ফেব্রুয়ারি | ৫ | শ্রীলঙ্কা বনাম আয়ারল্যান্ড | কলম্বো | সন্ধ্যা ৭:৩০ |
| ৯ ফেব্রুয়ারি | ৬ | স্কটল্যান্ড বনাম ইতালি | কলকাতা | সকাল ১১:৩০ |
| ৯ ফেব্রুয়ারি | ৭ | জিম্বাবুয়ে বনাম ওমান | কলম্বো (SSC) | বিকাল ৩:৩০ |
| ৯ ফেব্রুয়ারি | ৮ | দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম কানাডা | আহমেদাবাদ | সন্ধ্যা ৭:৩০ |
| ১০ ফেব্রুয়ারি | ৯ | নেদারল্যান্ডস বনাম নামিবিয়া | দিল্লি | সকাল ১১:৩০ |
| ১০ ফেব্রুয়ারি | ১০ | নিউজিল্যান্ড বনাম সংযুক্ত আরব আমিরাত | চেন্নাই | বিকাল ৩:৩০ |
| ১০ ফেব্রুয়ারি | ১১ | পাকিস্তান বনাম যুক্তরাষ্ট্র | কলম্বো (SSC) | সন্ধ্যা ৭:৩০ |
| ১১ ফেব্রুয়ারি | ১২ | দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম আফগানিস্তান | আহমেদাবাদ | সকাল ১১:৩০ |
| ১১ ফেব্রুয়ারি | ১৩ | অস্ট্রেলিয়া বনাম আয়ারল্যান্ড | কলম্বো | বিকাল ৩:৩০ |
| ১১ ফেব্রুয়ারি | ১৪ | ইংল্যান্ড বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ | মুম্বাই | সন্ধ্যা ৭:৩০ |
| ১২ ফেব্রুয়ারি | ১৫ | শ্রীলঙ্কা বনাম ওমান | পাল্লেকেলে | সকাল ১১:৩০ |
| ১২ ফেব্রুয়ারি | ১৬ | নেপাল বনাম ইতালি | মুম্বাই | বিকাল ৩:৩০ |
| ১২ ফেব্রুয়ারি | ১৭ | ভারত বনাম নামিবিয়া | দিল্লি | সন্ধ্যা ৭:৩০ |
| ১৩ ফেব্রুয়ারি | ১৮ | অস্ট্রেলিয়া বনাম জিম্বাবুয়ে | কলম্বো | সকাল ১১:৩০ |
| ১৩ ফেব্রুয়ারি | ১৯ | কানাডা বনাম সংযুক্ত আরব আমিরাত | দিল্লি | বিকাল ৩:৩০ |
| ১৩ ফেব্রুয়ারি | ২০ | যুক্তরাষ্ট্র বনাম নেদারল্যান্ডস | চেন্নাই | সন্ধ্যা ৭:৩০ |
| ১৪ ফেব্রুয়ারি | ২১ | আয়ারল্যান্ড বনাম ওমান | কলম্বো (SSC) | সকাল ১১:৩০ |
| ১৪ ফেব্রুয়ারি | ২২ | ইংল্যান্ড বনাম স্কটল্যান্ড | কলকাতা | বিকাল ৩:৩০ |
| ১৪ ফেব্রুয়ারি | ২৩ | নিউজিল্যান্ড বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা | আহমেদাবাদ | সন্ধ্যা ৭:৩০ |
| ১৫ ফেব্রুয়ারি | ২৪ | ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম নেপাল | মুম্বাই | সকাল ১১:৩০ |
| ১৫ ফেব্রুয়ারি | ২৫ | যুক্তরাষ্ট্র বনাম নামিবিয়া | চেন্নাই | বিকাল ৩:৩০ |
| ১৫ ফেব্রুয়ারি | ২৬ | ভারত বনাম পাকিস্তান | কলম্বো | সন্ধ্যা ৭:৩০ |
| ১৬ ফেব্রুয়ারি | ২৭ | আফগানিস্তান বনাম সংযুক্ত আরব আমিরাত | দিল্লি | সকাল ১১:৩০ |
| ১৬ ফেব্রুয়ারি | ২৮ | ইংল্যান্ড বনাম ইতালি | কলকাতা | বিকাল ৩:৩০ |
| ১৬ ফেব্রুয়ারি | ২৯ | শ্রীলঙ্কা বনাম অস্ট্রেলিয়া | পাল্লেকেলে | সন্ধ্যা ৭:৩০ |
| ১৭ ফেব্রুয়ারি | ৩০ | নিউজিল্যান্ড বনাম কানাডা | চেন্নাই | সকাল ১১:৩০ |
| ১৭ ফেব্রুয়ারি | ৩১ | আয়ারল্যান্ড বনাম জিম্বাবুয়ে | পাল্লেকেলে | বিকাল ৩:৩০ |
| ১৭ ফেব্রুয়ারি | ৩২ | স্কটল্যান্ড বনাম নেপাল | মুম্বাই | সন্ধ্যা ৭:৩০ |
| ১৮ ফেব্রুয়ারি | ৩৩ | দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম সংযুক্ত আরব আমিরাত | দিল্লি | সকাল ১১:৩০ |
| ১৮ ফেব্রুয়ারি | ৩৪ | পাকিস্তান বনাম নামিবিয়া | কলম্বো (SSC) | বিকাল ৩:৩০ |
| ১৮ ফেব্রুয়ারি | ৩৫ | ভারত বনাম নেদারল্যান্ডস | আহমেদাবাদ | সন্ধ্যা ৭:৩০ |
| ১৯ ফেব্রুয়ারি | ৩৬ | ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম ইতালি | কলকাতা | সকাল ১১:৩০ |
| ১৯ ফেব্রুয়ারি | ৩৭ | শ্রীলঙ্কা বনাম জিম্বাবুয়ে | কলম্বো | বিকাল ৩:৩০ |
| ১৯ ফেব্রুয়ারি | ৩৮ | আফগানিস্তান বনাম কানাডা | চেন্নাই | সন্ধ্যা ৭:৩০ |
| ২০ ফেব্রুয়ারি | ৩৯ | অস্ট্রেলিয়া বনাম ওমান | পাল্লেকেলে | সন্ধ্যা ৭:৩০ |
ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচের গুরুত্ব ও সূচি কী?
ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত লড়াই ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। নিরাপত্তার খাতিরে এবং লজিস্টিক কারণে ভারতের মাটিতে এই ম্যাচ আয়োজন না করে নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর এই লড়াইকে ঘিরে ইতিমধ্যে টিকিটের হাহাকার শুরু হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের আধিপত্য থাকলেও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ফর্ম লড়াইকে সমানে সমান করে তুলেছে।
Economic Times-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারত বনাম পাকিস্তান এই ম্যাচের ফলাফল গ্রুপ ‘এ’-এর সমীকরণ বদলে দিতে পারে। আইসিসি কর্মকর্তাদের মতে, “এই ম্যাচটি কেবল একটি খেলা নয়, এটি বিশ্ব ক্রিকেটের আবেগের প্রতিফলন।” বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও ম্যাচটির জন্য রিজার্ভ ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে করে দর্শকরা পূর্ণাঙ্গ বিনোদন থেকে বঞ্চিত না হন। সম্প্রচারকারী স্বত্বাধিকারীদের জন্য এটি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে লাভজনক ম্যাচ হতে চলেছে।
নকআউট পর্ব ও ফাইনালের পরিকল্পনা কী?
টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ অর্থাৎ সেমিফাইনাল দুটি অনুষ্ঠিত হবে ৪ এবং ৫ মার্চ। প্রথম সেমিফাইনাল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে এবং দ্বিতীয়টি কলকাতার ইডেন গার্ডেনে হওয়ার কথা থাকলেও, পাকিস্তান সেমিফাইনালে উঠলে তাদের ম্যাচটি কলম্বোতে সরিয়ে নেওয়া হবে। এরপর আগামী ৮ মার্চ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে শিরোপা নির্ধারণী মেগা ফাইনাল। এক লক্ষাধিক দর্শকের উপস্থিতিতে এই ফাইনাল ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বড় আয়োজনে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইসিসি সিইও এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “আমরা চাই ২০২৬ বিশ্বকাপ হোক ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক, যেখানে অবকাঠামো ও প্রতিযোগিতার মান হবে বিশ্বমানের।” টুর্নামেন্টের প্রাইজমানি নিয়েও বড় ধরনের ঘোষণা আসতে পারে যা আগের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। বড় দলগুলোর পাশাপাশি আইসিসি অ্যাসোসিয়েট দেশগুলোর পারফরম্যান্সের দিকেও নজর রাখছে, কারণ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে যেকোনো দিন যেকোনো ছোট দল বড় অঘটন ঘটিয়ে দিতে পারে।
বাংলাদেশ কেন এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে না?
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমক বা বিতর্ক হলো বাংলাদেশের অনুপস্থিতি। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়। এর ফলে আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা স্কটল্যান্ডকে মূল পর্বে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, কারণ নিয়মিত অংশগ্রহণকারী হিসেবে তারা দীর্ঘ সময় আইসিসি ইভেন্টে প্রতিনিধিত্ব করে আসছিল।
আন্তর্জাতিক মিডিয়া নিশ্চিত করেছে যে, আইসিসি একাধিকবার আলোচনার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা গ্যারান্টির ইস্যুতে সমঝোতা হয়নি। স্কটল্যান্ড এখন গ্রুপ ‘সি’-তে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো পাওয়ার-হিটারদের সাথে লড়াই করবে। এই সিদ্ধান্তটি বিশ্ব ক্রিকেটে ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা প্রণয়নে আইসিসিকে বাধ্য করতে পারে।
FAQ:
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কবে শুরু হবে?
টুর্নামেন্টের পর্দা উঠবে ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। টুর্নামেন্টটি টানা এক মাস ধরে চলবে এবং ৮ মার্চ ফাইনালের মাধ্যমে শেষ হবে।
কোন দেশগুলো এই টুর্নামেন্টটি আয়োজন করছে?
আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ যৌথভাবে ভারত ও শ্রীলঙ্কা আয়োজন করছে। ভারতের পাঁচটি শহর এবং শ্রীলঙ্কার দুটি প্রধান শহরে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচটি কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। নিরাপত্তার কারণে এটি ভারতে আয়োজন করা হচ্ছে না।
টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচটি কোন স্টেডিয়ামে হবে?
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ কেন এই বিশ্বকাপে খেলছে না?
নিরাপত্তা এবং লজিস্টিক সমস্যার কারণে বাংলাদেশ দল ভারতে ভ্রমণে অসম্মতি জানায়, যার ফলে আইসিসি তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সুপার এইট পর্বের নিয়ম কী?
গ্রুপ পর্বের ৪টি গ্রুপ থেকে শীর্ষ ২টি করে দল (মোট ৮টি) সুপার এইট পর্বে যাবে। সেখানে দলগুলো পুনরায় দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে এবং প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে উঠবে।
JitaBet , JitaWin , এবং JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন, তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!
উপসংহার
২০২৬ আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কেবল একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নয়, বরং এটি এশীয় অঞ্চলের ক্রিকেটীয় আধিপত্য এবং সাংগঠনিক দক্ষতার এক বিশাল পরীক্ষা। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই ইভেন্টটি আধুনিক ক্রিকেটের নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে। ২০টি দলের অংশগ্রহণে টুর্নামেন্টটি যেমন বৈচিত্র্যময় হয়েছে, তেমনি স্কটল্যান্ডের মতো দলগুলোর অন্তর্ভুক্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আইসিসি এবং আয়োজক দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দর্শকদের একটি নিরবচ্ছিন্ন ক্রিকেটীয় অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়া।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এই বিশ্বকাপ হবে অনন্য। হক-আই (Hawk-Eye) এবং স্মার্ট রিপ্লে সিস্টেমের ব্যাপক ব্যবহার আম্পায়ারিংয়ের মানকে আরও ত্রুটিমুক্ত করবে। এছাড়া সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলো আল্ট্রা-এইচডি এবং ফোর-কে রেজোলিউশনে খেলা দেখানোর পরিকল্পনা করেছে, যা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের কাছে সরাসরি পৌঁছে যাবে। বিশেষ করে আহমেদাবাদের ফাইনালে এক লক্ষাধিক মানুষের গর্জন ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় নতুন এক অধ্যায় যুক্ত করবে। দলগুলোর স্কোয়াড ঘোষণা এবং প্রস্তুতি ম্যাচগুলো ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এবারের আসরে পাওয়ার-হিটিং এবং স্পিন বোলিংয়ের এক দুর্দান্ত সংমিশ্রণ দেখা যাবে। ভারত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তাদের শিরোপা ধরে রাখতে চাইবে, তবে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মতো দলগুলোও ছেড়ে কথা বলবে না। শেষ পর্যন্ত ২০২৬-এর এই মহাযজ্ঞে কার মাথায় উঠবে বিশ্বজয়ের মুকুট, তা দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।
For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News




