আইপিএল ২০২৬-এর জন্য রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) তাদের সম্ভাব্য একাদশ সাজিয়েছে। বিরাট কোহলি ও ফিল সল্ট ওপেনিংয়ে থাকছেন, তবে ভেঙ্কটেশ আইয়ারের জায়গা নিয়ে সংশয়। ২০২৬ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL) মৌসুমে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)। গত আসরে শিরোপা জেতার পর এবার তারা তাদের কোর স্কোয়াড ধরে রেখে মিনি নিলামে ভেঙ্কটেশ আইয়ার এবং মঙ্গেশ যাদবের মতো তারকাদের দলে ভিড়িয়েছে। তবে ওপেনিং কম্বিনেশনে কোনো পরিবর্তন না এনে বিরাট কোহলি এবং ফিল সল্ট জুটির ওপরই আস্থা রাখছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি, যার ফলে শক্তিশালী একাদশে আইয়ারের জায়গা পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
বিরাট কোহলি ও ফিল সল্ট কেন ওপেনিংয়ের প্রথম পছন্দ?
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু তাদের ব্যাটিং অর্ডারে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। গত মৌসুমে বিরাট কোহলি এবং ফিল সল্ট জুটির বিধ্বংসী শুরু দলকে শিরোপা জেতাতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল। কোহলি যেখানে ইনিংস অ্যাঙ্কর করেন, সেখানে সল্ট পাওয়ারপ্লেতে ১৭৫-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে রান তুলে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন। ২০২৬ মৌসুমেও এই সফল ফর্মুলা বজায় রাখছে টিম ম্যানেজমেন্ট, কারণ তাদের মতে এই জুটিই বর্তমানে আইপিএলের অন্যতম সেরা পাওয়ারপ্লে কম্বিনেশন।
নিলামে ৭ কোটি রুপিতে Venkatesh Iyer-কে কিনলেও তাকে এখনই একাদশে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম। আসলে আরসিবি ৩ নম্বর পজিশনের জন্য দেবদত্ত পাডিক্কালকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তার সাম্প্রতিক ঘরোয়া ফর্মের কারণে। আইয়ারের অন্তর্ভুক্তি দলের ডেপথ বাড়ালেও টপ অর্ডারে কোহলি ও সল্টের অবস্থান বর্তমানে অপরিবর্তনীয়। এই কৌশলগত সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো মিডল অর্ডারে রজত পাতিদার ও জিতেশ শর্মাদের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত তৈরি করে দেওয়া।
ভেঙ্কটেশ আইয়ার কি একাদশে জায়গা পাবেন না?
নিলামের অন্যতম দামী খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও ভেঙ্কটেশ আইয়ারের একাদশে সরাসরি সুযোগ পাওয়া নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। আরসিবির বর্তমান লাইনআপে পাডিক্কাল তিনে এবং অধিনায়ক রজত পাতিদার চারে খেলবেন, যা আইয়ারের জন্য জায়গা সংকীর্ণ করে তুলেছে। যদিও আইয়ার একজন নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ডার এবং মিডিয়াম পেস বোলিং করতে পারেন, তবুও দলের বর্তমান ভারসাম্য রক্ষায় তাকে হয়তো শুরুতে ডাগআউটে বসেই অপেক্ষা করতে হবে।
টিম ম্যানেজমেন্টের একটি অংশ মনে করছে যে, চিন্নাস্বামীর মতো ছোট মাঠে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে আইয়ারকে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে স্কোয়াড ডেপথ বাড়াতে তার অন্তর্ভুক্তি একটি মাস্টারস্ট্রোক ছিল বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ দীর্ঘ টুর্নামেন্টে ইনজুরি বা ফর্মহীনতার সমস্যায় আইয়ার যেকোনো পজিশনে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন। আপাতত, দলের Predicted Playing XI-এ তার অনুপস্থিতি ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যশ দয়ালকে নিয়ে কেন এত রহস্য?
বোলিং বিভাগে যশ দয়াল আরসিবির অন্যতম প্রধান অস্ত্র হলেও তাকে নিয়ে বর্তমানে এক ধরণের অনিশ্চয়তা কাজ করছে। গত মৌসুমে ১৫ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে শিরোপা জয়ে অবদান রাখলেও সাম্প্রতিক সময়ে আইনি জটিলতার কারণে তিনি কোনো প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেননি। এই দীর্ঘ বিরতি তার ফিটনেস এবং ছন্দের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে চিন্তিত আরসিবি শিবির। তবে টিম ডিরেক্টর মো বোবাট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দয়াল যদি পূর্ণ ফিট থাকেন তবে তিনিই হবেন দলের প্রধান ডেথ ওভার স্পেশালিস্ট।
দয়ালের বিকল্প হিসেবে আরসিবি ৫.২ কোটি রুপিতে উদীয়মান পেসার মঙ্গেশ যাদবকে দলে নিয়েছে। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের জ্যাকব ডাফিও ব্যাকআপ হিসেবে প্রস্তুত আছেন। অভিজ্ঞ ভুবনেশ্বর কুমার এবং জশ হ্যাজেলউডের সাথে দয়ালের বাঁ-হাতি পেস বোলিং বৈচিত্র্য যোগ করে, যা প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তবে মৌসুম শুরুর আগে তার ম্যাচ প্র্যাকটিস না থাকাটাই এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অধিনায়ক হিসেবে রজত পাতিদারের চ্যালেঞ্জ কী?
২০২৫ সালে আরসিবিকে প্রথম শিরোপা এনে দেওয়ার পর রজত পাতিদার এখন দলের অবিসংবাদিত নেতা। ২০২৬ মৌসুমেও তার কাঁধেই থাকছে নেতৃত্বের ভার। পাতিদারের শান্ত মেজাজ এবং স্পিনের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত ব্যাটিং তাকে আইপিএলের অন্যতম সেরা মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শিরোপা ধরে রাখার চাপ সামলানোই হবে তার জন্য সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিরাট কোহলি নেতৃত্বে না থাকলেও পাতিদারের মেন্টর হিসেবে বড় ভূমিকা পালন করছেন। আরসিবির সিইও রাজেশ মেনন Times of India-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, পাতিদারের অধীনে দলটি একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তার অধিনায়কত্বে দলে এক ধরণের স্থিতিশীলতা এসেছে যা গত এক দশকে বিরল ছিল। এখন দেখার বিষয়, তার নেতৃত্বে আরসিবি কি পারবে টানা দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলতে?
ডেথ ওভার ও অলরাউন্ডারদের ভূমিকা কেমন হবে?
নিচের দিকে আরসিবির পাওয়ার-হিটিং ক্ষমতা এখন টুর্নামেন্টের সেরাগুলোর মধ্যে একটি। টিম ডেভিড, রোমারিও শেফার্ড এবং ক্রুনাল পান্ডিয়ার উপস্থিতি লোয়ার-মিডল অর্ডারকে অত্যন্ত শক্তিশালী করেছে। বিশেষ করে টিম ডেভিড এবং শেফার্ডের ফিনিশিং দক্ষতা ম্যাচের শেষ ৪ ওভারে অনায়াসেই ৬০-৭০ রান তুলে নিতে সক্ষম। ক্রুনাল পান্ডিয়ার স্পিন এবং অভিজ্ঞ ভুবনেশ্বর কুমারের সুইং বোলিং বিভাগকে পূর্ণতা দিয়েছে।
জিতেশ শর্মা উইকেটরক্ষক হিসেবে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি উইকেটের পেছনেও বিশ্বস্ত। আরসিবির এই ভারসাম্যের পেছনে মূল শক্তি হলো তাদের বহুমুখী অলরাউন্ডাররা। শেফার্ড যেখানে হার্ড হিটিং ব্যাটার, ক্রুনাল সেখানে ইকোনমিক্যাল স্পিনার। এই ধরণের কম্বিনেশন আরসিবিকে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে সাহায্য করে। বোলিং আক্রমণে হ্যাজেলউড এবং ভুবনেশ্বরের নতুন বলের জুটি শুরুতেই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রস্তুত।
একনজরে আরসিবি স্কোয়াড আইপিএল ২০২৬
| বিভাগ | খেলোয়াড়ের নাম |
| ওপেনার | বিরাট কোহলি, ফিল সল্ট (উইকেটরক্ষক) |
| টপ অর্ডার | দেবদত্ত পাডিক্কাল, রজত পাতিদার (অধিনায়ক) |
| মিডল অর্ডার | জিতেশ শর্মা, টিম ডেভিড |
| অলরাউন্ডার | রোমারিও শেফার্ড, ক্রুনাল পান্ডিয়া, ভেঙ্কটেশ আইয়ার |
| বোলার | ভুবনেশ্বর কুমার, জশ হ্যাজেলউড, যশ দয়াল, সুয়াশ শর্মা |
| ব্যাকআপ | মঙ্গেশ যাদব, জ্যাকব ডাফি, জর্ডান কক্স |
FAQ:
১. বিরাট কোহলি কি ২০২৬ মৌসুমেও ওপেন করবেন?
হ্যাঁ, টিম ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করেছে যে বিরাট কোহলি এবং ফিল সল্ট ওপেনিং জুটি হিসেবেই খেলবেন। গত মৌসুমে তাদের জুটির সাফল্যে আরসিবি অত্যন্ত সন্তুষ্ট এবং এই স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চায়।
২. ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে কেন ৭ কোটি রুপিতে কেনা হলো?
ভেঙ্কটেশ আইয়ার একজন অত্যন্ত দক্ষ অলরাউন্ডার। তাকে দলে নেওয়া হয়েছে মূলত মিডল অর্ডারের শক্তিশালী ব্যাকআপ হিসেবে এবং প্রয়োজনে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে ব্যবহার করার জন্য, যা দলের ব্যাটিং গভীরতা বাড়াবে।
৩. যশ দয়াল কি প্রথম ম্যাচ থেকে খেলবেন?
যশ দয়ালের খেলা নির্ভর করছে তার বর্তমান শারীরিক ফিটনেস এবং বিসিসিআই-এর সবুজ সংকেতের ওপর। যদি তিনি অনুপস্থিত থাকেন, তবে মঙ্গেশ যাদব বা নিউজিল্যান্ডের জ্যাকব ডাফিকে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে।
৪. আরসিবির হোম ম্যাচগুলো কোথায় হবে?
২০২৬ মৌসুমে আরসিবি তাদের নির্ধারিত হোম ম্যাচগুলোর অধিকাংশ খেলবে বেঙ্গালুরুর ঐতিহাসিক এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। তবে সূচি অনুযায়ী কিছু ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে রায়পুরেও অনুষ্ঠিত হতে পারে।
৫. দলের প্রধান ফিনিশার হিসেবে কারা থাকছেন?
দলের ডেথ ওভারে দ্রুত রান তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে টিম ডেভিড এবং রোমারিও শেফার্ডকে। এছাড়া উইকেটরক্ষক ব্যাটার জিতেশ শর্মাও ফিনিশার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
৬. ২০২৬ নিলামে আরসিবির সবথেকে দামী খেলোয়াড় কে?
২০২৬-এর মিনি নিলামে ভেঙ্কটেশ আইয়ার ছিলেন আরসিবির সবথেকে দামী ক্রয়, যার মূল্য ছিল ৭ কোটি রুপি। এর ঠিক পরেই রয়েছেন তরুণ পেসার মঙ্গেশ যাদব, যাকে ৫.২ কোটি রুপিতে কেনা হয়েছে।
JitaBet , JitaWin , এবং JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন, তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!
উপসংহার:
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমের জন্য রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু যে পরিকল্পনা সাজিয়েছে, তাতে স্পষ্ট যে তারা অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তারুণ্যকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। বিরাট কোহলি এবং ফিল সল্টের বিধ্বংসী ওপেনিং জুটি যেমন প্রতিপক্ষের ঘুম কেড়ে নিতে সক্ষম, তেমনি মিডল অর্ডারে রজত পাতিদার ও জিতেশ শর্মার মতো ব্যাটাররা ইনিংস মেরামতে দক্ষ। নিলামে ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে দলে নেওয়া এবং মঙ্গেশ যাদবের মতো তরুণ তুর্কিকে অন্তর্ভুক্ত করা দলটির কৌশলগত গভীরতা বাড়িয়েছে। যদিও আইয়ারের মূল একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে সংশয় আছে, তবে এটি আসলে আরসিবির বেঞ্চ স্ট্রেন্থেরই বহিঃপ্রকাশ।
বোলিং বিভাগে ভুবনেশ্বর কুমার এবং জশ হ্যাজেলউডের অভিজ্ঞতা আরসিবিকে নতুন বলের লড়াইয়ে এগিয়ে রাখবে। যশ দয়ালের ফিটনেস এবং ফর্ম নিয়ে কিছু প্রশ্ন থাকলেও, বিকল্প হিসেবে মঙ্গেশ যাদব এবং জ্যাকব ডাফির উপস্থিতি ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে স্বস্তি দিচ্ছে। সবমিলিয়ে, আরসিবি এবার কেবল অংশগ্রহণের জন্য নয়, বরং টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে তাদের সমর্থকদের গর্জন আর মাঠের খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য মিলে যদি গতবারের মতো রসায়ন তৈরি হয়, তবে ২০২৬ আইপিএল ট্রফিটিও বেঙ্গালুরুতে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। শেষ পর্যন্ত টিম ম্যানেজমেন্ট কীভাবে এই শক্তিশালী স্কোয়াডের সেরা ব্যবহার নিশ্চিত করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News






