রহমানউল্লাহ গুরবাজের একচেটিয়া সাক্ষাৎকারে উঠে এল আফগান ক্রিকেটের সাফল্যের গোপন রহস্য। ব্যক্তিগত পরিশ্রম এবং ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে বিস্তারিত জানুন। আফগানিস্তান ক্রিকেটের বর্তমান উত্থান কেবল কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং এটি প্রতিটি খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত কঠোর পরিশ্রম ও নিবেদনের ফসল। বিস্ফোরক ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ জানিয়েছেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও বিশ্বমানের পারফরম্যান্সের পেছনে কাজ করেছে দীর্ঘ ৬ থেকে ১০ বছরের নিরলস সাধনা। বিপিএল ২০২৬-এ ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে খেলার সময় তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বড় দলগুলোকে হারানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
আফগান ক্রিকেটারদের বিশ্বব্যাপী সাফল্যের মূল রহস্য কী?
আফগানিস্তানের ক্রিকেটাররা আজ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিজেদের দাপট দেখাচ্ছেন। রহমানউল্লাহ গুরবাজের মতে, এই অভাবনীয় সাফল্যের মূল রেসিপি হলো ব্যক্তিগত কঠোর পরিশ্রম (Individual Hard Work)। গুরবাজের ভাষ্যমতে, “আমি বলবো এটি একান্তই ব্যক্তিগত পরিশ্রমের ফল। প্রত্যেকেই এখানে অবিশ্বাস্য পরিশ্রম করে, যার কারণেই আপনারা আজ বিশ্বজুড়ে আফগান খেলোয়াড়দের সফল হতে দেখছেন।” আফগানিস্তানে অন্যান্য দেশের তুলনায় সুযোগ-সুবিধা ও পরিকাঠামো কম থাকলেও, খেলোয়াড়দের ভেতরে থাকা প্রাকৃতিক প্রতিভা (Natural Talent) এবং মানসিক শক্তিই তাদের বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত করেছে।
বর্তমানে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (ACB) পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কাজ করছে, যা খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। এই সাফল্যের শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত; আজকের এই অর্জন রাতারাতি আসেনি। গুরবাজের মতে, গত ছয়, সাত এমনকি দশ বছরের ত্যাগের ফল আজকের এই অবস্থান। সাফল্যের জন্য একটি সরল বিশ্বাস তারা লালন করেন—আজ না হলেও কাল, অথবা পরশু কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসবেই। এই দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য এবং ওয়ার্ক এথিকস বা কাজের নৈতিকতাই তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (BPL) গুরবাজের ক্যারিয়ারে কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?
রহমানউল্লাহ গুরবাজের আন্তর্জাতিক এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল এই বাংলাদেশ থেকেই। ২০১৯ সালে বাংলাদেশে অভিষেকের পর থেকে এই দেশের প্রতি তার এক ধরনের আবেগপ্রবণ টান কাজ করে। গুরবাজ বলেন, “বিপিএল ছিল আমার প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এবং এখান থেকেই আমি বিশ্বের অন্যান্য লিগগুলোতে খেলার সুযোগ পেয়েছি। এখানকার অভিজ্ঞতা সবসময়ই দারুণ।” বাংলাদেশের দর্শকদের অকুন্ঠ সমর্থন এবং ভালোবাসাকে তিনি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হিসেবে মনে করেন।
বিপিএল ২০২৬-এ তিনি খেলছেন ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে, যেখানে তার সাথে রয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও অ্যালেক্স হেলসের মতো তারকা ক্রিকেটাররা। বিডিক্রিকটাইম-এর তথ্যমতে, গুরবাজের বিধ্বংসী ব্যাটিং পাওয়ার-প্লেতে দলের জন্য বড় শক্তির উৎস। গুরবাজ মনে করেন, বাংলাদেশের স্পিন সহায়ক এবং কিছুটা কঠিন উইকেটে খেলা একজন ব্যাটারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তিনি খেলাটিকে কেবল ক্রিকেট হিসেবেই দেখেন এবং সম্মান করেন। মাঠের ভেতরে ও বাইরে ভক্তদের যে ভালোবাসা তিনি পান, সেটিকেই তিনি পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ফিরিয়ে দিতে চান।
এক নজরে রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও আফগান ক্রিকেট
| বিষয় | তথ্য |
| বর্তমান দল (BPL 2026) | ঢাকা ক্যাপিটালস |
| সাফল্যের মূলমন্ত্র | ব্যক্তিগত কঠোর পরিশ্রম ও শৃঙ্খলা |
| ভাইয়ের অভিষেক | মাসউদ গুরবাজ (চট্টগ্রাম রয়্যালস) |
| ২০২৬ বিশ্বকাপ গ্রুপ | নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা ও ইউএই |
| এপিএল (APL) প্রত্যাবর্তন | অক্টোবর ২০২৬ (সম্ভাব্য) |
আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগ (APL) পুনরায় চালুর প্রভাব কী হতে পারে?
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (ACB) দীর্ঘ বিরতির পর আবারও তাদের নিজস্ব ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগ (APL) পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। ২০১৮ সালের পর থেকে বিভিন্ন আইনি ও ব্যবস্থাপনা জনিত সমস্যার কারণে এটি বন্ধ ছিল। গুরবাজ মনে করেন, এপিএল পুনরায় চালু হওয়া আফগান ক্রিকেটের জন্য একটি বিশাল মাইলফলক। এটি কেবল তরুণ খেলোয়াড়দের আর্থিক স্বচ্ছলতাই নিশ্চিত করবে না, বরং নতুন উদীয়মান প্রতিভা (Emerging Talent) খুঁজে পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ডেইলি সান-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবরে আরব আমিরাতের মাটিতে এই লিগ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। গুরবাজ বিশ্বাস করেন, নিজস্ব একটি লিগ থাকলে জাতীয় দলের পাইপলাইন আরও শক্তিশালী হবে। তরুণ খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক তারকাদের সাথে ড্রেসিংরুম শেয়ার করার সুযোগ পাবে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এটি আফগানিস্তানকে ক্রিকেটের একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শক্তিতে রূপান্তর করতে সহায়তা করবে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আফগানদের কৌশল কী?
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তান একটি অত্যন্ত কঠিন গ্রুপে (গ্রুপ ডি) পড়েছে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে এই বড় দলগুলোকে নিয়ে মোটেও ভীত নন গুরবাজ। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে মনে করিয়ে দেন যে, এর আগেও তারা এই দলগুলোকে হারিয়েছেন। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে আফগানিস্তান নিউজিল্যান্ডকে ৮৪ রানে পরাজিত করে ক্রিকেট বিশ্বে হইচই ফেলে দিয়েছিল, যা আইসিসি-র অফিসিয়াল সাইটে বিস্তারিতভাবে নথিভুক্ত রয়েছে।
গুরবাজের মতে, আধুনিক ক্রিকেটে এখন আর কোনো দলকেই ‘ছোট দল’ ভাবার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “আমরা পরোয়া করি না প্রতিপক্ষ কে—সেটি কানাডা হোক বা নিউজিল্যান্ড। মাঠের লড়াইয়ে ব্যাট এবং বল সবার জন্যই সমান।” দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও তাদের জেতার অভিজ্ঞতা রয়েছে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের ওডিআই সিরিজে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে তারা ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল। মানসিকভাবে শক্ত থেকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারলেই যেকোনো দলকে হারানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
দুই ভাইয়ের একই টুর্নামেন্টে খেলা কতটা আবেগপূর্ণ?
এইবারের বিপিএলের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো দুই ভাই—রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও মাসউদ গুরবাজের উপস্থিতি। রহমানউল্লাহ খেলছেন ঢাকার হয়ে, অন্যদিকে মাসউদ খেলছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে। গুরবাজ তার ছোট ভাইয়ের অভিষেক নিয়ে অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, “মাসউদ অত্যন্ত প্রতিভাবান, তবে ওর এখনও অনেক কিছু শেখার আছে। আমি ওকে সবসময় বলি আমাকে কপি না করতে, বরং আমার ডিসিপ্লিন বা শৃঙ্খলা থেকে শিক্ষা নিতে।”
গুরবাজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন হলো একদিন জাতীয় দলের হয়ে দুই ভাই একসাথে ওপেনিংয়ে নামবেন এবং স্কোরবোর্ডে দেখা যাবে “গুরবাজ, গুরবাজ”। মাসউদের বিপিএল অভিষেক গুরবাজের নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। তিনি আশাবাদী যে, মাসউদ তার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে বিশ্বের অন্যান্য লিগগুলোতেও জায়গা করে নিতে পারবেন। এই ভ্রাতৃত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিপিএলে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা সমর্থকদের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
FAQ:
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের গ্রুপে কারা আছে?
আফগানিস্তান গ্রুপ ‘ডি’-তে রয়েছে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ হলো নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)।
রহমানউল্লাহ গুরবাজ বিপিএল ২০২৬-এ কোন দলে খেলছেন?
গুরবাজ বর্তমানে বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালস দলের হয়ে খেলছেন। এটি তার বিপিএল ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসর।
আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগ (APL) কবে শুরু হবে?
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে আরব আমিরাতে এপিএল-এর দ্বিতীয় আসর বসার কথা রয়েছে।
গুরবাজের ভাই মাসউদ গুরবাজ কোন দলে খেলছেন?
মাসউদ গুরবাজ বিপিএল ২০২৬ আসরে চট্টগ্রাম রয়্যালস দলের হয়ে খেলছেন।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক রেকর্ড কেমন?
২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তান নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে (৮৪ রানে) হারিয়েছিল, যেখানে গুরবাজ ৮০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন।
JitaBet , JitaWin , এবং JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন, তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!
উপসংহার
রহমানউল্লাহ গুরবাজের এই খোলামেলা সাক্ষাৎকারটি কেবল একজন ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের ক্রিকেটের মাধ্যমে উঠে দাঁড়ানোর গল্প। গুরবাজের বক্তব্যে পরিষ্কার যে, আফগানিস্তান এখন আর কেবল ‘জায়ান্ট কিলার’ নয়, বরং তারা নিজেরাই ক্রিকেটের একটি নতুন পাওয়ার হাউস হয়ে উঠছে। তাদের এই সাফল্যের মূলে রয়েছে ব্যক্তি পর্যায়ের নিরলস পরিশ্রম, যা আধুনিক ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
বিপিএলের মঞ্চ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট পর্যন্ত গুরবাজের প্রভাব অপরিসীম। বিশেষ করে বাংলাদেশে তার প্রতি যে ভালোবাসা, তা দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে তার এই আত্মবিশ্বাস আফগান শিবিরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। গুরবাজ কেবল নিজের জন্য খেলেন না, তিনি খেলেন তার দেশ ও পরিবারের স্বপ্নের জন্য। মাসউদের সাথে জাতীয় দলে ওপেন করার যে স্বপ্ন তিনি দেখছেন, তা বাস্তবায়িত হলে সেটি হবে বিশ্ব ক্রিকেটের এক অনন্য মুহূর্ত। সব মিলিয়ে, গুরবাজের দর্শন হলো—ফলাফল আজ আসুক বা কাল, কঠোর পরিশ্রমের পথ কখনো ত্যাগ করা যাবে না। তার এই মানসিকতা এবং আফগান ক্রিকেট বোর্ডের সময়োপযোগী পরিকল্পনা (যেমন এপিএল-এর প্রত্যাবর্তন) দলটিকে বিশ্ব ক্রিকেটের শিখরে নিয়ে যাবে বলেই বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা।
For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News






