শিরোনাম

বিশ্বকাপ ২০২৬: বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ওপর আইসিসির নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা

বিশ্বকাপ ২০২৬ সালের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য আবেদন করা বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন বা গণমাধ্যম পরিচয়পত্র বাতিল করেছে আইসিসি (International Cricket Council)। বাংলাদেশ দল ভারত সফরে নিরাপত্তা উদ্বেগের অজুহাতে টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। আইসিসি বর্তমানে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি রি-ওয়ার্কিং বা পুনর্মূল্যায়ন করছে বলে জানা গেছে। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল করেছে আইসিসি। ভারত সফর ঘিরে বিসিবি-আইসিসি দ্বন্দ্বের প্রভাব এবার পড়ল গণমাধ্যমের ওপর। বিস্তারিত পড়ুন।

কেন বাংলাদেশি সাংবাদিকদের আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হলো?

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) হঠাৎ করেই প্রায় ৮০ থেকে ১৫০ জন বাংলাদেশি সাংবাদিকের মিডিয়া অ্যাক্রেডিটেশন আবেদন বাতিল করে দিয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বাংলাদেশি সাংবাদিকদের পাঠানো ইমেইলে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সাধারণত কোনো দেশ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করলেও সেই দেশের সংবাদকর্মীরা পেশাদারিত্বের খাতিরে ইভেন্ট কাভার করার সুযোগ পান। তবে এবার ভারতের মাটিতে হতে যাওয়া এই মেগা ইভেন্টে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জন্য সেই সুযোগ প্রায় রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস-এর এক প্রতিবেদন অনুসারে, আইসিসি সূত্র জানিয়েছে যে বাংলাদেশ দল এই টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ায় এবং স্কটল্যান্ড তাদের স্থলাভিষিক্ত হওয়ায় পুরো মিডিয়া তালিকা পুনরায় সমন্বয় করা হচ্ছে

এই গণ-প্রত্যাখ্যানের পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) এবং আইসিসির মধ্যকার সাম্প্রতিক বিরোধ। বিসিবি নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলে ভারতে খেলতে যেতে অস্বীকার করলে আইসিসি কঠোর অবস্থান নেয় এবং গ্রুপ পর্যায় থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর পরপরই সাংবাদিকদের ওপর এই খড়গ নেমে আসায় দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক অভিজ্ঞ সাংবাদিক, যারা ইতিপূর্বে একাধিক বিশ্বকাপ কাভার করেছেন, তারাও এই তালিকায় রয়েছেন। আইসিসি বর্তমানে জানাচ্ছে যে তারা কোটা সিস্টেম এবং নতুন সূচি অনুযায়ী আবেদনগুলো পুনরায় খতিয়ে দেখছে, তবে তাৎক্ষণিক এই রিজেকশন বড় ধরনের কূটনৈতিক ও খেলাধুলা বিষয়ক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে বিসিবি ও আইসিসির দ্বন্দ্বের ভূমিকা কী?

বিসিবি এবং আইসিসির মধ্যকার এই স্নায়ুযুদ্ধ মূলত শুরু হয় যখন বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। বিসিবির দাবি ছিল ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক নয়, যদিও আইসিসির নিজস্ব নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ দল ভারতের পরিস্থিতি নিরাপদ বলে ঘোষণা করেছিল। বিসিবি এমনকি ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও আইসিসি তা নাকচ করে দেয়। এই অনমনীয় অবস্থানের ফলে আইসিসি বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কারের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়। টাইমস অফ ইন্ডিয়া তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, আইসিসি এখন বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশনের ক্ষেত্রে কঠোর কান্ট্রি কোটা প্রয়োগ করতে পারে, যা সাধারণত ৪০ জনের বেশি হয় না।

আইসিসি কর্মকর্তাদের মতে, যেহেতু বাংলাদেশ দল খেলছে না, তাই সেই দেশের সংবাদকর্মীদের জন্য বিশাল কোটা বরাদ্দ রাখা যৌক্তিক নয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অভিযোগ, এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রতিহিংসা। অতীতে বহুবার বাংলাদেশ দল কোনো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ না করলেও সাংবাদিকরা নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহ করেছেন। তবে এবার ভারত-বাংলাদেশ রাজনৈতিক ও ক্রিকেটীয় টানাপোড়েনের বলি হতে হচ্ছে গণমাধ্যম কর্মীদের। বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি নিয়ে আইসিসির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করেছেন এবং একটি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। এই পরিস্থিতি বিশ্ব ক্রিকেটে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আইসিসি এই পরিস্থিতি সম্পর্কে কী ব্যাখ্যা দিয়েছে?

আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সরাসরি ‘নিষেধাজ্ঞা’ শব্দ ব্যবহার করেনি, বরং তারা বিষয়টিকে টেকনিক্যাল অ্যাডজাস্টমেন্ট হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। আইসিসি সূত্রের বরাতে পিটিআই (PTI) জানিয়েছে যে, টুর্নামেন্টের আবেদনকারী সাংবাদিকদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় এবং বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না থাকায় তারা তালিকাটি ছোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের মতে, কোনো দেশের বোর্ড যখন কোনো ইভেন্ট বয়কট বা প্রত্যাহার করে, তখন সেই দেশের সাংবাদিকদের অগ্রাধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যায়। এনডিটিভি স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতকে অনিরাপদ হিসেবে মন্তব্য করায় আইসিসি এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

আইসিসির মিডিয়া বিভাগ জানিয়েছে, যারা ইতোমধ্যে রিজেকশন ইমেইল পেয়েছেন, তাদের মধ্যে থেকে যোগ্যদের পুনরায় আবেদনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে সেটি হবে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে এবং কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে। আইসিসি সূত্র বলছে, “যদি আমরা কান্ট্রি কোটা অনুযায়ী হিসাব করি, তবে কোনো দেশের জন্যই সংখ্যাটি ৪০ এর উপরে যাওয়া সম্ভব নয়।” বাংলাদেশি প্রায় দেড়শ সাংবাদিক আবেদন করায় এই লজিস্টিক সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে তারা দাবি করছে। তবে কেন আগে অনুমোদন দিয়ে পরে বাতিল করা হলো, সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। এই অস্পষ্টতা সাংবাদিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশি সাংবাদিক ও ক্রীড়া মহলের প্রতিক্রিয়া কেমন?

এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের সংবাদিকদের মধ্যে এক ধরনের হাহাকার ও অপমানের বোধ তৈরি হয়েছে। অনেক অভিজ্ঞ সাংবাদিক যারা ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্রিকেট কভার করছেন, তারাও এই রিজেকশনের শিকার হয়েছেন। বার্তা২৪-এর স্পোর্টস এডিটর আপন তারিক এবং আজকের পত্রিকার রানা আব্বাসের মতো বর্ষীয়ান সাংবাদিকরা এই ঘটনাকে নজিরবিহীন এবং অপমানজনক বলে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, ফিফা বিশ্বকাপ বা অন্যান্য বড় ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী দেশ না হয়েও সাংবাদিকরা কাজ করতে পারেন, কিন্তু ক্রিকেটের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কেন পাল্টে গেল তা বোধগম্য নয়। সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো এখন বিসিবি এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র সাংবাদিকদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের জন্য তথ্যের অধিকার কেড়ে নেওয়া। বিসিবি মিডিয়া ম্যানেজার আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, “আমরা আইসিসিকে চিঠি দিয়েছি এবং জানতে চেয়েছি কেন এই গণ-প্রত্যাখ্যান। আমরা আশা করছি একটি ইতিবাচক সমাধান আসবে।” তবে পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে খুব অল্প সংখ্যক সাংবাদিকই শেষ পর্যন্ত ভারত বা শ্রীলঙ্কায় গিয়ে বিশ্বকাপ কাভার করতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে। এই ঘটনাটি বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেটীয় সম্পর্কের তিক্ততাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে পড়তে পারে।

সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার সুযোগ কি আছে?

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশি সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ প্রস্তাব করেছিল যে তারা অন্তত শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় ম্যাচগুলো কাভার করার অনুমতি পাক। কিন্তু আইসিসি এখন পর্যন্ত সেই সুযোগের ব্যাপারেও সবুজ সংকেত দেয়নি। সাংবাদিকদের দাবি, যদি ভারতের ভিসা বা নিরাপত্তার ইস্যু থাকে, তবে শ্রীলঙ্কা পর্বে তাদের কাজ করতে বাধা থাকার কথা নয়। তবে আইসিসির কেন্দ্রীয় অ্যাক্রেডিটেশন সিস্টেম পুরো টুর্নামেন্টের জন্য কাজ করে, ফলে ভারত থেকে রিজেক্ট হলে সাধারণত শ্রীলঙ্কাতেও প্রবেশাধিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

বিসিবি চেষ্টা করছে অন্তত একটি ক্ষুদ্র অংশের সাংবাদিকদের জন্য অ্যাক্রেডিটেশন নিশ্চিত করতে। তবে আইসিসি যেভাবে রি-ওয়ার্কিং প্রসেসের কথা বলছে, তাতে সময় খুব কম। টুর্নামেন্ট শুরু হতে হাতে গোনা কয়েক দিন বাকি, এই অবস্থায় নতুন করে আবেদন করা এবং ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা অনেকের জন্যই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রশাসনিক জটিলতা বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ক্যারিয়ারে বড় একটি প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশ্ব ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (WCA) প্রধান টম মোফাত এই পরিস্থিতিকে ক্রিকেটের জন্য একটি “দুঃখজনক মুহূর্ত” বলে অভিহিত করেছেন, যেখানে সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিশ্বকাপ ২০২৬ একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বিষয়বিবরণ
আক্রান্ত সাংবাদিক সংখ্যা৮০ থেকে ১৫০ জন (আনুমানিক)
মূল কারণবাংলাদেশের নাম প্রত্যাহার ও আইসিসির কোটা সমন্বয়
আইসিসির অবস্থানরি-ওয়ার্কিং এবং কোটা লিমিট (সর্বোচ্চ ৪০ জন)
বিসিবির পদক্ষেপআইসিসির কাছে ব্যাখ্যা তলব ও প্রতিবাদ
টুর্নামেন্ট ভেন্যুভারত ও শ্রীলঙ্কা
শুরুর তারিখ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

FAQ:

১. কেন বাংলাদেশি সাংবাদিকদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে?

আইসিসি জানিয়েছে যে, বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করায় এবং স্কটল্যান্ড যুক্ত হওয়ায় গণমাধ্যম কর্মীদের তালিকা পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। এছাড়া ভারতের সাথে বিসিবির নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধও একটি পরোক্ষ কারণ।

২. কতজন সাংবাদিক এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন?

দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, অনলাইন পোর্টাল এবং টেলিভিশন চ্যানেলের প্রায় ৮০ থেকে ১৫০ জন সাংবাদিকের আবেদন বাতিল করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

৩. আইসিসি কি পুনরায় আবেদনের সুযোগ দেবে?

হ্যাঁ, আইসিসি জানিয়েছে তারা প্রক্রিয়াটি পুনর্মূল্যায়ন করছে এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক সাংবাদিককে কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে পুনরায় আবেদনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

৪. বিসিবি এই বিষয়ে কী করছে?

বিসিবি মিডিয়া কমিটি আইসিসিকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে এবং এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা চেয়েছে। তারা তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে একটি সমাধানের চেষ্টা করছে।

৫. শ্রীলঙ্কা পর্বে কি সাংবাদিকরা অংশ নিতে পারবেন?

তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব হলেও আইসিসির কেন্দ্রীয় সিস্টেম থেকে আবেদন বাতিল হওয়ায় শ্রীলঙ্কা অংশেও প্রবেশাধিকার পাওয়া বর্তমানে অনিশ্চিত। তবে বিসিবি এই বিষয়ে আলাদা আলোচনার চেষ্টা করছে।

JitaBet ,  JitaWin , এবং  JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন,   তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!

উপসংহার:

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন বাতিলের এই ঘটনাটি বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। খেলাধুলা সবসময়ই সীমানার ঊর্ধ্বে এবং সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়, কিন্তু রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক জেদের কারণে যখন সংবাদকর্মীদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, তখন তা টুর্নামেন্টের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিসিবি এবং আইসিসির মধ্যকার সম্পর্কের যে অবনতি ঘটেছে, তার প্রভাব মাঠের বাইরেও এত প্রকটভাবে পড়বে তা কল্পনা করা কঠিন ছিল। সাংবাদিকদের জন্য এটি কেবল একটি অ্যাসাইনমেন্ট নয়, বরং একটি পেশাদার অধিকার। আইসিসির উচিত ছিল লজিস্টিক কারণগুলো আরও স্বচ্ছতার সাথে জানানো, যাতে এই ধরনের গণ-প্রত্যাখ্যানের ফলে কোনো বিশেষ দেশের সংবাদমাধ্যমকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে মনে না হয়।

বাংলাদেশের গণমাধ্যম বর্তমানে যে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি, তা উত্তরণে বিসিবির জোরালো ভূমিকার বিকল্প নেই। ভারতের নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে বিসিবির অবস্থান হয়তো যুক্তিসঙ্গত ছিল, কিন্তু তার ফলস্বরূপ সাংবাদিকদের এই ভোগান্তি ক্রীড়া সাংবাদিকতার জন্য এক বড় ধাক্কা। আশা করা যায়, আইসিসি তাদের “রি-ওয়ার্কিং” প্রক্রিয়ায় অন্তত অভিজ্ঞ এবং প্রথম সারির সংবাদকর্মীদের সুযোগ দেবে, যাতে বাংলাদেশি পাঠকরা তাদের নিজস্ব সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বিশ্বকাপের খবরাখবর পেতে পারেন। শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটীয় চেতনা যেন প্রশাসনিক জটিলতার কাছে হেরে না যায়, সেটিই কাম্য। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আইসিসিকে আরও স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অ্যাক্রেডিটেশন পলিসি তৈরি করতে হবে।

For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News