শিরোনাম

বিরাট কোহলির ৫২তম সেঞ্চুরি

৩৭-এও অটুট ‘কিং’-এর খিদে: বিরাট কোহলির ঐতিহাসিক কামব্যাক সেঞ্চুরি ও ম্যাচ জেতানোর নেপথ্যের গল্প

বিরাট কোহলির ভবিষ্যৎ আর ‘রিড বিটউইন দ্য লাইন্স’–এর আড়ালে নয় মোটেই। নভেম্বরেই ৩৭–এ পা দেওয়ার পরে তাঁর থেকে ভালো করে আর কে জানেন, এক পা–এক পা করে এগিয়ে আসছে নামের আগে ‘প্রাক্তন’ বসে যাওয়ার দিন। খিদেটা যেন সে জন্যই আরও চনমনে!

আধুনিক ক্রিকেটের ‘কিং’ বিরাট কোহলি (Virat Kohli) আবারও প্রমাণ করলেন, বয়স নিছকই একটি সংখ্যা। নভেম্বরে ৩৭ বছর বয়সে পা রাখার পর, রাঁচিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তাঁর ১২০ বলে ১৩৫ রানের (১১ চার, ৭ ছক্কা) বিস্ফোরক ও ধ্রুপদী ইনিংসটি কেবল একটি সেঞ্চুরি ছিল না, এটি ছিল বিশ্ব ক্রিকেটে এক ঐতিহাসিক কামব্যাক সেঞ্চুরি। দীর্ঘ ২৮০ দিন পর আসা এই শতরানটি শুধু দলের জয়ের ভিত্তিই স্থাপন করেনি, বরং ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিল কেন তিনি এখনও বাইশ গজের সবচেয়ে বড় তারকা।

বিরাট কোহলি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন

বিরাট কোহলি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন এবং লিওনেল মেসি, উসাইন বোল্ট, মাইকেল ফিলিপসের মতো খেলোয়াড়দের দলে দাঁড়ানোর ক্ষমতা তার আছে। আজ পর্যন্ত (২৭/১০/২০১৮) তার নামে ৬২টি সেঞ্চুরি রয়েছে, যার মধ্যে ৩৮টি ওয়ানডেতে এবং ২৪টি টেস্টে। তার দুর্দান্ত ফর্ম দেখে এবং ধরে নিচ্ছি যে তিনি আগামী ৮ বছর খেলবেন কারণ আজ তার বয়স প্রায় ৩০। তিনি সহজেই শচীন টেন্ডুলকারের সর্বাধিক সেঞ্চুরির রেকর্ড ভাঙতে পারেন এবং মোট ১১০টি সেঞ্চুরি করতে পারেন কিন্তু তিনি শচীন টেন্ডুলকারের টেস্ট রেকর্ড (৫১টি সেঞ্চুরি, ১৫০০০ রান, ২০০ টেস্ট) ভাঙতে পারবেন না কারণ খেলোয়াড়দের জন্য বয়সের সীমা রয়েছে। কিন্তু তিনি সহজেই ওয়ানডেতে ১৯০০০ রান এবং ৬৫টি সেঞ্চুরি অতিক্রম করতে পারেন।

না বোর্ড, না বিরাট— এ নিয়ে খোলসা করেনি কোনও পক্ষ। তবে জানা গিয়েছে, ওয়ান ডে বিশ্বকাপের প্ল্যানে থাকতে গেলে বিরাট–রোহিতকে বিজয় হাজারে ট্রফি খেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব খুবই প্রাসঙ্গিক। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অবশ্য দু’বছর পরে প্রায় ৩৯ বছর বয়সে বিরাট আদৌ এই মেজাজে থাকবেন কি না। কিন্তু মাথার পাশে ক্রমাগত এই ক্রস টকগুলো কি বিরক্তি ধরাচ্ছে না?

কখনও জল্পনা— বোর্ড আলোচনায় বসবে বিরাট–রোহিতের সঙ্গে, কখনও রটে যাচ্ছে টেস্টে ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করা হবে, সোশ্যাল মিডিয়ার একটা অংশ কখনও বলছে, অনেক হয়েছে! এ বার জার্সি–প্যাড তুলে রাখলেও অসুবিধা কিছু নেই। তার সঙ্গে যোগ করুন অযাচিত কিছু ট্রোলিং। পরিবার নিয়ে বিরাট কেন লন্ডনে গিয়ে থাকবেন, তা নিয়েও কৈফিয়ত দাবি করে নেটিজ়েনদের একাংশ।

কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিঃসন্দেহে খিদেটা জিইয়ে রাখা। রোনাল্দো, মেসি যা করতে পেরেছেন। বিরাটও সেটা করে চলেছেন। সব অপ্রয়োজনীয় কথা শাট–ডাউন করে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করে যাওয়া সহজ নয় একেবারেই। তার জন্য অদম্য খিদেই একমাত্র চালিকাশক্তি। ফের পরের ম্যাচে শূন্য করলে সোশ্যাল মিডিয়ায় হামলে পড়ে গালাগাল চলবে, কিন্তু তাতে খাটো হবে না এই বিরাট–খিদে।


/JitaBet: https://www.jitabet.app

/JitaWin: https://www.jitawin.com

/JitaGo: https://www.jitago.vip

১. কেন এই সেঞ্চুরিটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

৩৭ বছর বয়সে বিরাট কোহলি যে উদ্যম এবং আগ্রাসন দেখিয়েছেন, তা অনেক তরুণ ক্রিকেটারের মধ্যেও বিরল। টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে এখন তাঁর একমাত্র ফর্ম্যাট ওয়ান ডে। হাতে গোনা সুযোগগুলির মধ্যে এমন দাপুটে পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে ২০২৭ ওয়ান ডে বিশ্বকাপের জন্য তাঁর দাবিকে আরও জোরালো করল।

  • রেকর্ড ভাঙা ইনিংস: এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে কোহলি সচিন তেন্ডুলকরকে টপকে ওয়ান ডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ৫২টি সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড গড়লেন।
  • চাপের মুখে পারফর্ম: রোহিত শর্মা আউট হওয়ার পর দলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন কোহলি। একপ্রান্তে ধৈর্য ধরে খেলার পাশাপাশি প্রয়োজনমতো আক্রমণাত্মক হয়েছেন।
  • শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তা: ৩৭ বছর বয়সেও ক্রিজে তাঁর রানিং বিটউইন দ্য উইকেট ছিল দেখার মতো। ম্যাচের পর তিনি নিজেই জানিয়েছেন, অতিরিক্ত প্রস্তুতির চেয়ে মানসিক তীক্ষ্ণতা এবং পর্যাপ্ত রিকভারিতেই তাঁর মনোযোগ বেশি।

২. আসল হিরো ‘বিরাট-খিদে’

এই ইনিংসের মূল নায়ক হলো তাঁর হার না মানা মানসিকতা— যা ‘বিরাট-খিদে’ নামে পরিচিত। কেরিয়ারের সায়াহ্নে এসেও যখন চারদিকে অবসর নিয়ে জল্পনা চলে, সোশ্যাল মিডিয়ায় চলে অযাচিত ট্রোলিং, তখন সব অপ্রয়োজনীয় কথাকে শাট-ডাউন করে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করার এই ক্ষমতা সত্যিই অসাধারণ।

লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর মতো কিংবদন্তিরা যেমন বয়সকে উপেক্ষা করে এখনও নিজেদের খেলার মান ধরে রেখেছেন, বিরাটও সেই পথেই হাঁটছেন। তাঁর এই ইনিংস শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়, এটি আসলে সেই ‘গ্র্যান্ড পিকচার’ তুলে ধরে— “আমি এখনও পারি, ঠিক যে ভাবে পারতাম।”

৩. ম্যাচ জেতানো ইনিংসের বিশ্লেষণ

রাঁচির পিচ শুরুতে ব্যাটিং-বান্ধব থাকলেও পরে মন্থর হয়ে আসে। কোহলি প্রথম দিকে ২০-২৫ ওভার ধরে খেলেন এবং পরিস্থিতি বুঝে রানের গতি বাড়ান। নিখুঁত কভার ড্রাইভ হোক বা পেসারকে স্টেপআউট করে লং অনের উপর দিয়ে ছক্কা— তাঁর ব্যাটিংয়ে ছিল অভিজ্ঞতার ছাপ এবং আত্মবিশ্বাসের ঝলক। ১৩৫ রানের এই ইনিংসটি ভারতকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে এক বিশাল লক্ষ্য ছুঁড়ে দিতে সাহায্য করে, যা পরবর্তীতে জয় নিশ্চিত করে।

৪. ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ২০২৭ বিশ্বকাপ?

এই ধরনের পারফরম্যান্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রশ্ন তুলে দেয়— বিরাট কোহলির আসল লক্ষ্য কি ২০২৭ ওয়ান ডে বিশ্বকাপ? যদিও বোর্ড বা কোহলি এ বিষয়ে এখনও খোলসা করেননি, তবে ওয়ান ডে ফর্ম্যাটে নিজেকে শোকেস করার সুযোগগুলির সঠিক ব্যবহার দেখিয়ে দিলেন তিনি।

JitaBet , JitaWin , এবং JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন, তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!

উপসংহার

ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ জয় এনে দেওয়া এই বিরাট কোহলি সেঞ্চুরি প্রমাণ করে দিল, যখন পারফর্ম করার খিদেটা প্রবল থাকে, তখন বয়স কোনো বাধা হতে পারে না। ৩৭-এ এসেও তিনি যে ফর্মে আছেন, তাতে অদূর ভবিষ্যতে তাঁর ব্যাট থেকে আরও অনেক ম্যাচ জেতানো ইনিংস দেখার অপেক্ষায় থাকবেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News