বিরাট কোহলি দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও আইসিসি ওয়ানডে ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করেছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৯৩ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলার মাধ্যমে তিনি সতীর্থ রোহিত শর্মা-কে সরিয়ে এক নম্বরে উঠে এসেছেন। ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত আইসিসির সর্বশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী, কোহলি তার ক্যারিয়ারে ১১তম বারের মতো এই গৌরব অর্জন করলেন, যা বিশ্ব ক্রিকেটে তার একক আধিপত্যের রাজকীয় প্রত্যাবর্তনকে নিশ্চিত করে। বিরাট কোহলি ৫ বছর পর আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে। রোহিত শর্মাকে সরিয়ে এক নম্বর ব্যাটার হওয়া কোহলির এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ও রেকর্ড নিয়ে বিস্তারিত।
কেন দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আবারও ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠলেন বিরাট কোহলি?
বিরাট কোহলির এই অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে গত কয়েক মাস ধরে তার অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা এবং রানের ক্ষুধা। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে গত রোববার ৯১ বলে ৯৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটি তাকে প্রয়োজনীয় রেটিং পয়েন্ট এনে দিয়ে শীর্ষস্থানে পৌঁছে দেয়। এটি ছিল ওয়ানডে ফরম্যাটে কোহলির টানা পঞ্চম পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস, যার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে করা দুটি ব্যাক-টু-ব্যাক সেঞ্চুরি অন্তর্ভুক্ত ছিল। ICC Official Media এর প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, কোহলি ২০২১ সালের জুলাইয়ের পর এই প্রথম ১ নম্বর সিংহাসন পুনরুদ্ধার করলেন।
কোহলির এই প্রত্যাবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তার স্ট্রাইক রেটের উন্নতি এবং মাঝের ওভারে ব্যাটিংয়ের ধরণ পরিবর্তন। আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের এই হালনাগাদ অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে ৮২৫ দিন এক নম্বরে থাকার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, যা কোনো ভারতীয় ক্রিকেটারের জন্য সর্বোচ্চ। Hindustan Times এর বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোহলি তার ক্যারিয়ারে ১১তম বারের মতো শীর্ষস্থান দখল করে প্রমাণ করেছেন যে ‘কিং কোহলি’ তকমাটি এখনো তার জন্যই বরাদ্ধ। এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন তাকে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে মানসিকভাবে অনেক এগিয়ে রাখবে।
আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের সর্বশেষ হালনাগাদে আর কোন ক্রিকেটাররা চমক দেখিয়েছেন?
আইসিসির ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারির এই হালনাগাদে কেবল বিরাট কোহলিই নন, নিউজিল্যান্ডের ড্যারেল মিচেল বড় ধরনের উল্লম্ফন দিয়েছেন। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৮৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে তিনি এক ধাপ এগিয়ে এখন ওয়ানডে ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বরে অবস্থান করছেন। এর ফলে প্রাক্তন এক নম্বর ব্যাটার রোহিত শর্মা সরাসরি তিন নম্বরে নেমে গেছেন। India TV News এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মিচেলের এই উত্থান কিউইদের ব্যাটিং গভীরতারই বহিঃপ্রকাশ।
এর বাইরে ভারতীয় উইকেটকিপার ব্যাটার লোকেশ রাহুল এক ধাপ এগিয়ে ১১তম স্থানে উঠে এসেছেন, যা তাকে সেরা দশে ঢোকার খুব কাছাকাছি নিয়ে গেছে। টেস্ট ক্রিকেটের দিকে তাকালে দেখা যায়, অ্যাশেজ সিরিজে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে ট্রাভিস হেড ও স্টিভ স্মিথ যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছেন। বোলারদের তালিকায় অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক তিন নম্বরে উঠে আসার পাশাপাশি অলরাউন্ডারদের সেরা পাঁচে জায়গা করে নিয়েছেন। এই ব্যাপক রদবদল নির্দেশ করে যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বর্তমানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে এবং কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের একাধিপত্য আর থাকছে না।
আইসিসি ওয়ানডে ব্যাটিং র্যাঙ্কিং ২০২৬ (শীর্ষ ৫)
| অবস্থান | খেলোয়াড় | দেশ | আগের অবস্থান | উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স |
| ১ | বিরাট কোহলি | ভারত | ২ | ৫টি টানা ৫০+ রান (২টি সেঞ্চুরি) |
| ২ | ড্যারেল মিচেল | নিউজিল্যান্ড | ৩ | ভারতের বিপক্ষে ৮৪ রানের ইনিংস |
| ৩ | রোহিত শর্মা | ভারত | ১ | সাম্প্রতিক সিরিজে পয়েন্ট হ্রাস |
| ৪ | বাবর আজম | পাকিস্তান | ৪ | ধারাবাহিক রান সংগ্রহ |
| ৫ | শুভমান গিল | ভারত | ৫ | টপ অর্ডারে নির্ভরতা |
টেস্ট ক্রিকেটে স্টিভ স্মিথ ও ট্রাভিস হেডের উন্নতি কি অ্যাশেজের ফসল?
বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেটের নজর ওয়ানডের পাশাপাশি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের দিকেও রয়েছে, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার জয়জয়কার অব্যাহত। অ্যাশেজ সিরিজের শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ট্রাভিস হেড তার ক্যারিয়ার সেরা ছন্দে রয়েছেন এবং তিন নম্বর স্থানটি পাকাপোক্ত করেছেন। তার সাথে সমান তালে পাল্লা দিয়ে স্টিভ স্মিথও এক ধাপ এগিয়ে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছেন। অস্ট্রেলিয়ার এই দুই ব্যাটারের ফর্ম ভারতের বিপক্ষে আসন্ন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
টেস্ট বোলারদের মধ্যে মিচেল স্টার্কের উন্নতি চোখে পড়ার মতো। তিনি কেবল গতির ঝড় তুলে তিন নম্বর বোলার হননি, বরং ব্যাট হাতেও কার্যকর অবদান রেখে অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ পাঁচে ঢুকে পড়েছেন। স্টার্কের এই বহুমুখী প্রতিভা তাকে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ম্যাচ উইনারে পরিণত করেছে। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক অ্যাশেজ লড়াইয়ের প্রভাব সরাসরি আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে প্রতিফলিত হয়েছে, যা টেস্ট ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা এবং গুরুত্বকে আবারও বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করেছে।
ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে থাকার দীর্ঘতম রেকর্ডগুলো কার দখলে?
বিরাট কোহলি ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮২৫ দিন ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকলেও বৈশ্বিক তালিকায় তিনি বর্তমানে ১০ম স্থানে রয়েছেন। এই তালিকায় সবার শীর্ষে রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ভিভ রিচার্ডস, যিনি মোট ২,৩০৬ দিন এক নম্বরে ছিলেন। কোহলির সামনে এখন লক্ষ্য থাকবে অস্ট্রেলিয়ার ডিন জোন্স (১,৫৯৩ দিন) এবং দক্ষিণ আফ্রিকার হাশিম আমলার (১,২৫৬ দিন) রেকর্ডগুলোকে স্পর্শ করা। কোহলির এই দীর্ঘসূত্রিতা প্রমান করে যে তিনি তিন ফরম্যাটেই নিজের ফিটনেস ধরে রাখতে অবিশ্বাস্যভাবে সক্ষম।
র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকার লড়াইটি কেবল ব্যক্তিগত অর্জনের নয়, এটি দলের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। কোহলি যখনই শীর্ষে থাকেন, ভারতীয় দলের জয়ের হার পরিসংখ্যানগতভাবে বৃদ্ধি পায়। পাঁচ বছর পর তার এই প্রত্যাবর্তন ভারতের ২০২৭ বিশ্বকাপের রোডম্যাপের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন দলে কোহলির এই বিধ্বংসী রূপ প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিউইদের বিপক্ষে সিরিজে তার ব্যাটিং স্টাইল ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক, যা নির্দেশ করে যে তিনি তার পুরনো ‘বিস্ট মোড’ এ ফিরে এসেছেন।
২০২৬ সালের এই র্যাঙ্কিং পরিবর্তন আগামী টুর্নামেন্টগুলোতে কী প্রভাব ফেলবে?
আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের এই পরিবর্তনগুলো কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোতে দলগুলোর কৌশলগত মানসিকতায় প্রভাব ফেলবে। কোহলি এক নম্বরে উঠে আসায় বোলারদের মধ্যে তাকে দ্রুত আউট করার জন্য নতুন কৌশল তৈরির তাগিদ বাড়বে। অন্যদিকে ড্যারেল মিচেল যেভাবে দুই নম্বরে উঠে এসেছেন, তাতে নিউজিল্যান্ডের মিডল অর্ডার এখন বিশ্বসেরাদের তালিকায় পাকাপোক্ত স্থান করে নিয়েছে। র্যাঙ্কিংয়ের এই উত্থান-পতন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতেও খেলোয়াড়দের চাহিদা এবং বাজারমূল্যকে সরাসরি প্রভাবিত করে।
বোলারদের তালিকায় মিচেল স্টার্কের উন্নতি এবং অলরাউন্ডার হিসেবে তার উত্থান অস্ট্রেলিয়ার জন্য ২০২৬-২৭ মৌসুমের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়। আগামী বছরগুলোতে টেস্ট ও ওয়ানডে উভয় ফরম্যাটেই অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্য বজায় রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই র্যাঙ্কিং। ভারতের জন্য খুশির খবর হলো লোকেশ রাহুলের উন্নতি এবং শুভমান গিলের সেরা পাঁচে অবস্থান। এতে করে টপ অর্ডারে ভারতের গভীরতা আরও বেড়েছে। কোহলি যদি এই ফর্ম ধরে রাখতে পারেন, তবে তিনি শীঘ্রই ভিভ রিচার্ডসের রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছাতে না পারলেও সর্বকালের সেরা ওয়ানডে ব্যাটার হিসেবে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখবেন।
FAQ:
১. বিরাট কোহলি কত দিন পর ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ফিরলেন?
বিরাট কোহলি প্রায় পাঁচ বছর (২০ ২০২১ সালের জুলাইয়ের পর প্রথমবার) পর আবারও ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ফিরেছেন।
২. কোহলি মোট কতবার ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর হয়েছেন?
এটি নিয়ে বিরাট কোহলি তার সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে মোট ১১ বার আইসিসি ওয়ানডে ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠলেন।
৩. বর্তমানে ওয়ানডে ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে ২য় ও ৩য় স্থানে কারা আছেন?
সর্বশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী নিউজিল্যান্ডের ড্যারেল মিচেল ২য় স্থানে এবং ভারতের রোহিত শর্মা ৩য় স্থানে অবস্থান করছেন।
৪. বিরাট কোহলি মোট কত দিন আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকলেন?
বিরাট কোহলি এ পর্যন্ত মোট ৮২৫ দিন এক নম্বরে থাকার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, যা ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ।
৫. ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে থাকার বিশ্ব রেকর্ডটি কার?
ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্যাটার স্যার ভিভ রিচার্ডস সবচেয়ে বেশি ২,৩০৬ দিন এক নম্বরে থাকার বিশ্ব রেকর্ডের অধিকারী।
JitaBet , JitaWin , এবং JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন, তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!
উপসংহার:
বিরাট কোহলির আবারও ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করা কেবল একটি পরিসংখ্যানগত পরিবর্তন নয়, এটি বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য একটি শক্তিশালী এবং সুদূরপ্রসারী বার্তা। দীর্ঘ পাঁচ বছরের খরা কাটিয়ে, সমালোচকদের সব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে কোহলি প্রমাণ করেছেন যে তার সামর্থ্যের ওপর সন্দেহ করার কোনো অবকাশ নেই। গত কয়েক বছরে কোহলির ফর্ম নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে, এমনকি টি-টোয়েন্টি থেকে তার সরে দাঁড়ানো নিয়ে অনেক কথা উঠেছে। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার ৯৩ রানের ইনিংস এবং টানা পাঁচটি ফিফটি প্লাস স্কোর তাকে আবারও সেই রাজসিংহাসনে বসিয়েছে যেখানে তিনি ক্যারিয়ারের স্বর্ণালি সময় কাটিয়েছেন।
বিরাট কোহলি তার ক্যারিয়ারের এই সায়াহ্নে এসেও যেভাবে নিজেকে ফিট রেখেছেন এবং রানের ক্ষুধার পরিচয় দিচ্ছেন, তা আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য এক পরম অনুপ্রেরণা। ৮২৫ দিন শীর্ষে থাকার রেকর্ডটি তিনি আরও কতদূর নিয়ে যেতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ভিভ রিচার্ডসের পর্বতসম রেকর্ড ছোঁয়া হয়তো কঠিন, কিন্তু বর্তমান ক্রিকেটের প্রেক্ষাপটে কোহলি যে উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে গেছেন, তাকে স্পর্শ করাও সমসাময়িকদের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। কোহলির এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন বিশ্বজুড়ে তার কোটি কোটি ভক্তের জন্য বড় এক উৎসবের উপলক্ষ এবং ক্রিকেটের রোমান্টিকদের জন্য এক পরম তৃপ্তির খবর।
For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News






