শিরোনাম

গাজার ধ্বংসস্তূপের ওপর ফুটবল: গাজার এতিম শিশুদের টিকে থাকার শেষ লড়াই

Table of Contents

গাজার ১৬ বছর বয়সী কিশোর মোহাম্মদ ইয়াদ আজম, ইসরায়েলি বিমান হামলায় তার পুরো পরিবারকে হারিয়ে এখন ধ্বংসস্তূপের মাঝে ফুটবলের মাধ্যমে বেঁচে থাকার রসদ খুঁজছেন। প্যালেস্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (PFA) তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় গাজার ২৬৫টি ক্রীড়া স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে এবং ১,১-৩ জনেরও বেশি ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে গাজার অবশিষ্ট মাত্র তিনটি পিচে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফুটবল খেলে ট্রমা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি কিশোর। গাজায় ইসরায়েলি হামলায় পরিবার হারানো কিশোর মোহাম্মদ আজমের ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত ক্রীড়া অবকাঠামোর ওপর এক বিশেষ ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট।

কেন ফুটবল আজ গাজার এতিম শিশুদের একমাত্র আশ্রয়স্থল?

১৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইয়াদ আজম একসময় জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের এক আদুরে সন্তান ছিলেন। ২০২৪ সালের ১১ অক্টোবর একটি ইসরায়েলি বিমান হামলা তার সাজানো জীবন তছনছ করে দেয়। বহুতল ভবন ধসে তার বাবা-মা এবং দুই বড় ভাই মারা যান। ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ মিনিট চাপা পড়ে থাকার পর অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা এই কিশোর এখন তার বৃদ্ধা দাদির একমাত্র অবলম্বন। শোকাতুর এই কিশোরের জন্য ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, বরং এটি তার মানসিক ট্রমা কাটিয়ে ওঠার একটি শক্তিশালী মাধ্যম বা সাইকোলজিক্যাল লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে।

বর্তমানে গাজার উত্তরাঞ্চলীয় শাতি শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন মোহাম্মদ। সারাদিন দাদির জন্য ভারী পানির পাত্র বহন আর রান্নার আগুন জ্বালাতে ব্যস্ত থাকলেও বিকেলের ফুটবল তাকে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখায়। Al Jazeera-র এক বিশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের মাঝে বল ড্রিবল করার সময় সে তার হারানো পরিবারের স্মৃতি ভুলে থাকার চেষ্টা করে। মোহাম্মদের মতে, ফুটবল তার ভেতরের নেতিবাচক শক্তি দূর করে দেয়, যদিও গ্যালারিতে তাকে উৎসাহ দেওয়ার মতো তার বাবা বা মা আর কেউ বেঁচে নেই।

ইসরায়েলি হামলায় গাজার ক্রীড়া অবকাঠামো কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে ফিলিস্তিনি ক্রীড়া খাত আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। প্যালেস্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (PFA) মিডিয়া প্রধান মোস্তফা সিয়াম জানিয়েছেন যে, গত আড়াই বছরে গাজার অন্তত ২৬৫টি ক্রীড়া স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে মোহাম্মদের ক্লাব ‘খাদামাত জাবালিয়া’ অন্যতম, যা একসময় ইসরায়েলি বাহিনীর আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। গাজার উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত বিস্তৃত সকল ৫৬টি ফুটবল ক্লাব এখন কার্যত অচল এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

ক্রীড়া খাতের এই ক্ষয়ক্ষতি কেবল অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানবিক বিপর্যয়ের এক চরম রূপ। Reuters-এর সূত্রমতে, ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৬০ জন ফুটবলার, কোচ এবং কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে জাতীয় দলের খেলোয়াড় সুলেমান ওবায়েদের মতো প্রতিভারাও রয়েছেন। মাঠগুলো এখন হয় ধ্বংসস্তূপ, না হয় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও গাজার অবশিষ্ট তিনটি ছোট পিচে যুব টুর্নামেন্ট আয়োজন করে ফিলিস্তিনিদের অদম্য মানসিকতা বিশ্বদরবারে তুলে ধরার চেষ্টা করছে PFA।

এক নজরে গাজার ক্রীড়া খাতের ক্ষয়ক্ষতি

বিবরণপরিসংখ্যান
নিহত ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব১,১১৩ জন+
নিহত ফুটবলার ও কর্মকর্তা৫৬০ জন+
ধ্বংসপ্রাপ্ত ক্রীড়া স্থাপনা২৬৫টি
কার্যকরী ফুটবল ক্লাবের সংখ্যা০ (সবগুলো ক্ষতিগ্রস্ত)
অবশিষ্ট ব্যবহারের যোগ্য পিচমাত্র ৩টি

ধ্বংসস্তূপের মাঝে ফুটবল খেলা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

গাজার বর্তমান পরিস্থিতিতে ফুটবল খেলা বা অনুশীলনের জন্য মাঠে যাওয়া একটি জীবনঘাতী মিশন। মোহাম্মদ আজমের মতো কিশোরদের ৩-৪ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে, তাবু আর ধ্বংসস্তূপের ভেতর দিয়ে পিচে পৌঁছাতে হয়। এই যাত্রাপথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কারণ যেকোনো মুহূর্তে আকাশপথে হামলা হতে পারে। মোহাম্মদের ভাষায়, “মাঠে নামার আগেই দীর্ঘ পথ চলার ক্লান্তি এবং চারপাশের ধ্বংসলীলা আমাদের মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে দেয়।” তবুও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা তাদের এই বাধা অতিক্রম করতে উদ্বুদ্ধ করছে।

বর্তমানে গাজা সিটির প্যালেস্টাইন স্টেডিয়াম, খাদামাত নুসেইরাত এবং ইতিহাদ শাবাব দেইর আল-বালাহ—এই তিনটি স্থানেই কেবল কোনোমতে ফুটবল খেলা সম্ভব হচ্ছে। মোস্তফা সিয়াম বলেন, “নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হওয়া সত্ত্বেও খেলোয়াড়দের দৃঢ় সংকল্প আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বাধ্য করছে।” গাজার এই তরুণ সমাজ বিশ্বকে এই বার্তাই দিচ্ছে যে, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকেও ফিলিস্তিনিরা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম। The Guardian-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রতিকূলতার মাঝেও ফুটবল তাদের জাতীয় পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফিফার ভূমিকা নিয়ে ফিলিস্তিনি ক্রীড়া কর্মকর্তাদের ক্ষোভ কেন?

গাজার ফুটবল ধ্বংস হয়ে গেলেও বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA)-র ভূমিকা নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা। মোস্তফা সিয়াম অভিযোগ করেছেন যে, ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর ফিফা যেভাবে দ্রুততার সাথে রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করেছিল, ফিলিস্তিনের ক্ষেত্রে তারা সেই একই পদক্ষেপ নেয়নি। এই দ্বিমুখী নীতি বা ‘Double Standards’ ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদদের মধ্যে চরম হতাশার সৃষ্টি করেছে। ইসরায়েলি সেটেলমেন্ট ক্লাবগুলো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনি ভূমিতে খেললেও ফিফা তাদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

PFA বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার পাওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, ইসরায়েল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গাজার ক্রীড়া প্রতিভাদের টার্গেট করছে। ফিফার দুর্বল অবস্থানের কারণে ফিলিস্তিনি ফুটবলাররা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গাজার সাধারণ মানুষের দাবি, খেলাধুলাকে রাজনীতি থেকে ঊর্ধ্বে রাখা হোক এবং ফিলিস্তিনি শিশুদের নিরাপদে খেলার অধিকার নিশ্চিত করা হোক।

মোহাম্মদ আজমের স্বপ্ন কি পূরণ হবে?

পরিবার হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া মোহাম্মদের এখন একমাত্র লক্ষ্য হলো একজন পেশাদার ফুটবলার হওয়া। এটি কেবল তার নিজের স্বপ্ন নয়, বরং তার প্রয়াত বাবা-মায়েরও স্বপ্ন ছিল। তার বাবা তাকে প্রথম ক্লাবে ভর্তি করিয়েছিলেন এবং মা ছিলেন তার সবচেয়ে বড় ভক্ত। মোহাম্মদ মনে করেন, মাঠে বল নিয়ে দৌড়ানোর সময় তিনি তার পরিবারের উত্তরাধিকার বহন করছেন। সে বলে, “আমার বাবা আমাকে এই পথে নিয়ে এসেছিলেন, আর মা সবসময় গ্যালারি থেকে আমাকে উৎসাহ দিতেন। আমি তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।”

মোহাম্মদের এই স্বপ্ন পূরণের পথে প্রধান অন্তরায় হলো গাজার অবরুদ্ধ অবস্থা এবং অবকাঠামোর অভাব। যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত এবং গাজার সীমান্ত খুলে না দেওয়া পর্যন্ত মোহাম্মদের মতো প্রতিভারা জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাবে না। তবুও প্রতিদিন বিকেলে ছেঁড়া বুট পরে যখন সে মাঠে নামে, তখন তার চোখে থাকে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে এই ১৬ বছরের কিশোরের অদম্য লড়াই আজ গাজার হাজারো এতিম শিশুর অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

FAQ:

১. মোহাম্মদ ইয়াদ আজম কে এবং তার সাথে কী ঘটেছে?

মোহাম্মদ ইয়াদ আজম গাজার ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর ফুটবলার। ২০২৪ সালের অক্টোবরে এক ইসরায়েলি বিমান হামলায় তার পরিবারের সব সদস্য নিহত হন এবং সে অলৌকিকভাবে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বেঁচে ফেরা একমাত্র সদস্য।

২. গাজায় কতজন ফুটবলার ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব নিহত হয়েছেন?

প্যালেস্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (PFA) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় ১,১১৩ জনের বেশি ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৫৬০ জনের বেশি সরাসরি ফুটবলার এবং ক্লাব কর্মকর্তা।

৩. গাজার ফুটবল ক্লাবগুলোর বর্তমান অবস্থা কী?

গাজার সবকটি (৫৬টি) ফুটবল ক্লাবই ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ক্লাবকে ইসরায়েলি বাহিনী অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টার বা জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেছে।

৪. বর্তমানে গাজায় ফুটবল খেলার জন্য কয়টি মাঠ অবশিষ্ট আছে?

পুরো গাজা উপত্যকায় বর্তমানে মাত্র তিনটি ছোট পিচ ফুটবল খেলার জন্য কোনোমতে উপযোগী আছে, যার মধ্যে গাজা সিটির প্যালেস্টাইন স্টেডিয়াম অন্যতম।

৫. ফিফা কি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে?

না, ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করলেও ফিফা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি, যা তারা ‘দ্বিমুখী নীতি’ হিসেবে দেখছেন।

৬. গাজার শিশুদের জন্য ফুটবলের গুরুত্ব কী?

গাজার শিশুদের জন্য ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, এটি তাদের মানসিক ট্রমা, হতাশা এবং একঘেয়েমি কাটানোর একমাত্র উপায়। এটি তাদের বেঁচে থাকার প্রেরণা জোগায়।

JitaBet ,  JitaWin , এবং  JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন,   তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!

উপসংহার:

গাজার ধ্বংসস্তূপের মাঝে মোহাম্মদ ইয়াদ আজমের ফুটবল নিয়ে লড়াই কেবল একটি কিশোরের গল্প নয়, এটি একটি জাতির অদম্য সাহসের প্রতীক। গত কয়েক দশকের মধ্যে ফিলিস্তিনি ক্রীড়া খাত এত বড় বিপর্যয়ের সম্মুখীন আর কখনো হয়নি। যে বয়সে একটি শিশুর হাতে বই আর খেলার বল থাকার কথা, সেই বয়সে মোহাম্মদকে পিঠে করে ভারী পানির পাত্র বইতে হচ্ছে এবং পরিবারের সদস্যদের কবরের দেখাশোনা করতে হচ্ছে। এই চরম বাস্তবতার মাঝেও ফুটবল তাকে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

ইসরায়েলি আগ্রাসন গাজার স্টেডিয়ামগুলোকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে পারলেও ফিলিস্তিনি কিশোরদের ফুটবল প্রেম আর স্বপ্নকে গুঁড়িয়ে দিতে পারেনি। PFA-এর মতো সংস্থাগুলো সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে যুব টুর্নামেন্ট আয়োজন করে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য প্রয়োজন একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ ও জোরালো পদক্ষেপ। ফিফা এবং অন্যান্য বৈশ্বিক সংস্থাকে মনে রাখতে হবে যে, খেলাধুলা হচ্ছে শান্তির ভাষা, এবং গাজার এই এতিম শিশুদের সেই শান্তির ভাষায় কথা বলার ও নিরাপদে খেলার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। মোহাম্মদের মতো হাজারো কিশোরের চোখের স্বপ্ন আজ বিশ্ববিবেকের কাছে এক বড় প্রশ্ন চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কবে থামবে এই ধ্বংসলীলা? কবে গাজার সবুজ ঘাসে আবার কোনো বাধা ছাড়াই ফিরবে ফুটবলের উৎসব? মোহাম্মদের স্বপ্ন তার প্রয়াত বাবা-মায়ের স্মৃতিকে চিরঞ্জীব করে রাখার এক পবিত্র লড়াই।

For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News