শিরোনাম

আফকন ২০২৫ হাকিমির প্রত্যাবর্তন ও মরক্কোর বড় জয়: শেষ ১৬ নিশ্চিত

আফকন ২০২৫-এ আশরাফ হাকিমির রাজকীয় প্রত্যাবর্তন এবং আইয়ুব এল কাবির অবিশ্বাস্য বাইসাইকেল কিক গোলে জাম্বিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ১৬ নিশ্চিত করল মরক্কো। আফিকা কাপ অব নেশন্সে (আফকন) আশরাফ হাকিমির প্রত্যাবর্তনের রাতে জাম্বিয়াকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে মরক্কো। অলিম্পিয়াকোস ফরোয়ার্ড আইয়ুব এল কাবির জোড়া গোল এবং রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজের ক্লিনিকাল ফিনিশিংয়ে রাবাতের গ্যালারি উৎসবে মাতোয়ারা হয়। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ইনজুরিতে পড়ার দীর্ঘ বিরতি শেষে হাকিমির মাঠে ফেরা মরক্কোর শিরোপা জয়ের স্বপ্নে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

কেন হাকিমির প্রত্যাবর্তন মরক্কোর জন্য এক বিশাল টার্নিং পয়েন্ট?

আশরাফ হাকিমি, যাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা রাইট-ব্যাক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, গত ৫ নভেম্বর বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে গোড়ালির গুরুতর চোটে পড়েছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর জাম্বিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে তার মাঠে নামা ছিল কেবল একটি ফুটবলীয় পরিবর্তন নয়, বরং মরক্কোর জাতীয় দলের জন্য একটি মানসিক শক্তিবৃদ্ধি। কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই ম্যাচের ৬৪ মিনিটে তাকে যখন মাঠে নামান, তখন পুরো প্রিন্স মৌলায় আবদেল্লাহ স্টেডিয়াম করতালিতে ফেটে পড়ে। তার উপস্থিতি মরক্কোর রক্ষণভাগকে যেমন সংহত করেছে, তেমনি ওভারল্যাপিং অ্যাটাকিংয়ে দলের ধার বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।

মরক্কোর এই জয়ে হাকিমির ভূমিকা ছিল মূলত দলের ভারসাম্য রক্ষা করা। ইনজুরি থেকে ফিরে তিনি যেভাবে গতি এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে বল ড্রিবল করেছেন, তা প্রমাণ করে যে তিনি নকআউট পর্বের বড় লড়াইগুলোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যম beIN SPORTS-এর প্রতিবেদনে মরক্কোর এই আধিপত্য এবং হাকিমির গুরুত্বের কথা বিস্তারিত উঠে এসেছে। মরক্কো এখন ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এ’ চ্যাম্পিয়ন, যা তাদের ৪ জানুয়ারি হতে যাওয়া শেষ ১৬-র ম্যাচে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এই জয়টি কেবল পয়েন্ট টেবিলের নয়, বরং হাকিমির ফিটনেস প্রমাণের একটি বড় মঞ্চ ছিল।

আইয়ুব এল কাবির জোড়া গোল এবং অ্যাক্রোবেটিক স্কিল কতটা প্রভাব ফেলেছে?

অলিম্পিয়াকোসের তারকা ফরোয়ার্ড আইয়ুব এল কাবি এই ম্যাচে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ম্যাচের নবম মিনিটে আজেদ্দিন উনাহির নিখুঁত কর্নার থেকে করা তার ডাইভিং হেডটি ছিল জাম্বিয়ার রক্ষণভাগের জন্য প্রথম আঘাত। তবে ম্যাচের আসল সৌন্দর্য ফুটে ওঠে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে, যখন তিনি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা এবং টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সুন্দর গোলটি করেন। উনাহির ক্রস থেকে পেছনের দিকে সরে গিয়ে যে অবিশ্বাস্য বাইসাইকেল কিকটি তিনি জালে জড়িয়েছেন, তা বিশ্ব ফুটবলের নজর কেড়েছে। এটি ছিল এবারের টুর্নামেন্টে তার দ্বিতীয় এক্রোবেটিক গোল, যা তাকে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে অনেকখানি এগিয়ে দিল।

এল কাবির এই পারফরম্যান্স মরক্কোর আক্রমণভাগকে এক নতুন সংজ্ঞা দিয়েছে। কোচ রেগরাগুই ম্যাচ শেষে বলেন, “এল কাবি একজন সহজাত গোলদাতা এবং তার বাইসাইকেল কিক গোলটি ছিল পিওর ক্লাস।” জাম্বিয়ার গোলরক্ষক উইলার্ড মওয়ানজা পুরো ম্যাচে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। The Guardian-এর তথ্য অনুযায়ী, মরক্কো এই ম্যাচে ১৯টি শট নিয়েছে যার মধ্যে ৯টিই ছিল লক্ষ্যে। এল কাবির এই গোলটি কেবল স্কোরলাইন ৩-০ করেনি, বরং জাম্বিয়ার ম্যাচে ফেরার সবটুকু আশাই ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।

এক নজরে মরক্কো বনাম জাম্বিয়া ম্যাচ আফকন ২০২৫

ক্যাটাগরিতথ্য/পরিসংখ্যান
স্কোরলাইনমরক্কো ৩ – ০ জাম্বিয়া
গোলদাতাআইয়ুব এল কাবি (৯’, ৫০’), ব্রাহিম দিয়াজ (২৭’)
পয়েন্ট (গ্রুপ এ)মরক্কো (৭), মালি (৩), কোমোরোস (২), জাম্বিয়া (২)
ম্যান অব দ্য ম্যাচআইয়ুব এল কাবি
হাকিমির ফেরার সময়৬৪ মিনিট (বদলি হিসেবে)
পরবর্তী ম্যাচ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ (রাউণ্ড অফ ১৬)

ব্রাহিম দিয়াজ এবং আব্দে এজালজৌলির রসায়ন কি মরক্কোর সাফল্যের চাবিকাঠি?

রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজ এবং রিয়াল বেতিসের উইঙ্গার আব্দে এজালজৌলির মধ্যকার বোঝাপড়া এই ম্যাচে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে। ম্যাচের ২৭ মিনিটে করা গোলটিতে এজালজৌলির উইং দিয়ে করা দৌড় এবং নিখুঁত ক্রসটি ছিল দেখার মতো। বার্সেলোনায় দুই বছর কাটানো এজালজৌলি তার ড্রিবলিং দক্ষতা দিয়ে জাম্বিয়ার রাইট-ব্যাককে বারবার পরাস্ত করেছেন। তার এই চপলতা দিয়াজকে বক্সের ভেতরে যথেষ্ট জায়গা তৈরি করে দিয়েছিল। দিয়াজের ফিনিশিং ছিল একেবারেই নির্ভুল, যা মরক্কোকে ম্যাচের প্রথমার্ধেই চালকের আসনে বসিয়ে দেয়।

এই জুটির রসায়ন মরক্কোর ফরোয়ার্ড লাইনে একটি গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করেছে। ব্রাহিম দিয়াজ, যিনি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার রাজকীয় অভিষেক ঘটিয়েছেন, মরক্কোর জার্সিতে এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছেন। CAF Online-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মরক্কোর এই আধুনিক পাসিং গেম এবং উইং প্লে তাদের আফ্রিকান ফুটবলে অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাদের আক্রমণভাগের এই বৈচিত্র্য কোচদের জন্য একটি বড় প্লাস পয়েন্ট, কারণ তারা কেবল গতি নয়, বরং বুদ্ধিমত্তা দিয়েও প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভাঙতে সক্ষম।

গ্রুপ এ-র সমীকরণ এবং মালির শেষ ১৬ নিশ্চিত হলো কীভাবে?

গ্রুপ ‘এ’-তে মরক্কোর একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও মালি এবং কোমোরোসের লড়াই ছিল বেশ নাটকীয়। মরক্কো ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকলেও মালি ৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে। জাম্বিয়ার বিপক্ষে মরক্কোর জয়ের ফলে মালির পথ আরও সহজ হয়ে যায়। তবে কোমোরোসের বিপক্ষে তাদের শেষ ম্যাচটি ছিল বেশ সতর্কতামূলক, যেখানে মালি ০-০ গোলে ড্র করে মূল্যবান এক পয়েন্ট অর্জন করে।

এই গ্রুপের অন্য দল জাম্বিয়া ২ পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। অন্যদিকে দুই পয়েন্ট পাওয়া কোমোরোস এখন অপেক্ষা করছে অন্যান্য গ্রুপের ফলাফলের ওপর, তৃতীয় সেরা দল হিসেবে সুযোগ পাওয়ার আশায়। মরক্কোর এই আধিপত্য এটাই প্রমাণ করে যে, স্বাগতিক হিসেবে তারা এবার শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার। OneFootball-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরক্কোর ডিফেন্স লাইন এবং মিডফিল্ডের এই নিশ্ছিদ্র ঐক্য তাদের কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টের সেই অদম্য ফর্মকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে।

নকআউট পর্বে মরক্কোর সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মরক্কো এখন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। আগামী ৪ জানুয়ারি রাবাতে তারা মোকাবিলা করবে গ্রুপ ‘সি’, ‘ডি’ বা ‘ই’-এর মধ্যে থেকে আসা সেরা তৃতীয় দলের একটিকে। এর ফলে শেষ ষোলোতে তারা বড় শক্তিগুলোকে এড়াতে পারবে। কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নকআউট পর্বে হাকিমিকে শুরুর একাদশে দেখা যাবে। দলের ফিটনেস এবং কৌশলগত দিক থেকে মরক্কো এখন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গোছানো দল হিসেবে নিজেদের জাহির করছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে রেগরাগুই বলেন, “আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি ম্যাচ ধরে এগোনো। আমরা জানি প্রত্যাশা অনেক বেশি, তবে আমাদের দলে সেই গভীরতা আছে যা দিয়ে আমরা শিরোপা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারি।” জাম্বিয়ার বিপক্ষে এই ৩-০ গোলের জয় মরক্কোর আত্মবিশ্বাসকে তুঙ্গে নিয়ে গেছে। বিশেষ করে ব্রাহিম দিয়াজ এবং আইয়ুব এল কাবির গোল স্কোরিং ফর্ম এবং হাকিমির প্রত্যাবর্তন মরক্কোকে একটি অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত করেছে। পুরো মরক্কো এখন ৪ জানুয়ারির সেই রোমাঞ্চকর রাতের অপেক্ষায়।

FAQ:

১. আশরাফ হাকিমি কতদিন পর মাঠে ফিরলেন?

আশরাফ হাকিমি প্রায় দুই মাস (৫৪ দিন) পর মাঠে ফিরলেন। ৫ নভেম্বর বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ইনজুরিতে পড়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম ম্যাচ।

২. আইয়ুব এল কাবির গোলটি কেন বিশেষ?

আইয়ুব এল কাবি জাম্বিয়ার বিপক্ষে একটি দর্শনীয় বাইসাইকেল কিক গোল করেছেন, যা এবারের টুর্নামেন্টের সেরা গোলের অন্যতম দাবিদার।

৩. মরক্কোর পরবর্তী ম্যাচ কবে?

মরক্কো আগামী ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে রাউণ্ড অফ ১৬-র ম্যাচে মাঠে নামবে।

৪. গ্রুপ ‘এ’ থেকে কারা কোয়ালিফাই করেছে?

মরক্কো গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং মালি গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে পরবর্তী রাউন্ডে উঠেছে।

৫. ব্রাহিম দিয়াজ কি গোল করেছেন?

হ্যাঁ, ম্যাচের ২৭ মিনিটে আব্দে এজালজৌলির পাসে ব্রাহিম দিয়াজ দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন।

JitaBet ,  JitaWin , এবং  JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন,   তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!

উপসংহার:

আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে মরক্কোর এই জয় তাদের অদম্য মানসিকতার পরিচয় দেয়। জাম্বিয়াকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে এবং স্বাগতিক হিসেবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা প্রমাণ করেছে যে তারা কেবল ফেভারিট নয়, বরং শিরোপার সবচেয়ে যোগ্য দাবিদার। আশরাফ হাকিমির প্রত্যাবর্তন রক্ষণভাগকে যেমন শক্তিশালী করেছে, তেমনি আইয়ুব এল কাবিব্রাহিম দিয়াজের আক্রমণাত্মক ফর্ম প্রতিপক্ষের জন্য ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৪ জানুয়ারির নকআউট পর্বে মরক্কো এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং অপরাজেয় এক শক্তি।

For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News