ফিফা বিশ্বকাপে ১,২৪৮ জন খেলোয়াড়ের ৩ডি ডিজিটাল স্ক্যান করবে। সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি উন্নত করতে এবং নির্ভুল গ্রাফিক্স প্রদর্শন করতে এই নতুন এআই অবতার পদ্ধতি ব্যবহৃত হবে। ফিফা ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তিকে (SAOT) পরবর্তী স্তরে নিয়ে যেতে প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য এআই-এনাবলড ৩ডি অবতার তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ৪৮টি দলের মোট ১,২৪৮ জন খেলোয়াড়ের শরীরের নির্ভুল ডিজিটাল স্ক্যান করা হবে, যা ম্যাচের বিতর্কিত মুহূর্তে সেন্টিমিটার-লেভেল নির্ভুলতা নিশ্চিত করবে। এই প্রযুক্তির প্রধান লক্ষ্য হলো অফসাইড কলিংয়ের গতি বাড়ানো এবং সম্প্রচারের সময় দর্শকদের জন্য আরও বাস্তবসম্মত গ্রাফিক্স প্রদর্শন করা। মূলত প্রি-টুর্নামেন্ট ফটোশুটের সময় মাত্র এক সেকেন্ডের একটি স্ক্যানিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করা হবে বলে ফিফা নিশ্চিত করেছে।
এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল কারণ কী?
ফিফা জানিয়েছে যে, ফুটবল ম্যাচে অফসাইডের সিদ্ধান্ত নিয়ে চলমান বিতর্ক ও বিভ্রান্তি দূর করতেই এই থ্রি-ডি স্কেলিং প্রযুক্তি আনা হচ্ছে। এর আগে প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটি বনাম নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের একটি ম্যাচে রুবেন দিয়াজ-এর অফসাইড গ্রাফিক্স নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যেখানে গ্রাফিক্সে তাকে লাফানো অবস্থায় দেখা গেলেও ভিডিওতে তা মেলেনি। ফিফার ফুটবল ইস্যু করেসপন্ডেন্ট ডেল জনসন এর মতে, এই স্ক্যানিং পদ্ধতি খেলোয়াড়দের শরীরের প্রতিটি অঙ্গের নির্ভুল মাপ বা বডি-পার্ট ডাইমেনশন গ্রহণ করবে। এর ফলে অত্যন্ত দ্রুতগতির মুভমেন্ট বা খেলোয়াড়দের ভিড়ের মাঝেও এআই নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারবে কে অফসাইড পজিশনে আছেন।
বর্তমানে ব্যবহৃত সেমি-অটোমেটেড অফসাইড সিস্টেম মূলত খেলোয়াড়দের হাড়ের গঠন বা ‘স্কেলিটাল ট্র্যাকিং’ এর ওপর নির্ভর করে, যা অনেক সময় বাস্তবের সাথে শতভাগ মিলে না। ফিফার নতুন এই ডিজিটাল অবতার সিস্টেমটি সম্প্রচারকারীদের সাহায্য করবে যাতে তারা দর্শকদের সামনে আরও বেশি এনগেজিং এবং রিয়েলিস্টিক তথ্য উপস্থাপন করতে পারে। এই প্রযুক্তির ফলে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে সমর্থকদের মনে যে সন্দেহের উদ্রেক হয়, তা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফিফা গত ডিসেম্বরে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে ফ্লামেঙ্গো ও পিরামিডস এফসি-এর খেলোয়াড়দের ওপর এই প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা চালিয়েছে, যা ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
খেলোয়াড়দের স্ক্যান করার প্রক্রিয়াটি ঠিক কেমন হবে?
এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য ফিফা প্রতিটি ভেন্যুতে বিশেষ স্ক্যানিং চেম্বার স্থাপন করবে, যেখানে খেলোয়াড়রা প্রবেশ করবেন। এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুত এবং দক্ষ, কারণ একজন খেলোয়াড়কে স্ক্যান করতে সময় লাগবে মাত্র এক সেকেন্ড। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অফিশিয়াল ফটোশুটের সময় এই ডেটা সংগ্রহ করা হবে, তাই খেলোয়াড়দের জন্য এটি কোনো অতিরিক্ত চাপের কারণ হবে না। ফিফার দাবি অনুযায়ী, এই স্ক্যানিং প্রক্রিয়ায় খেলোয়াড়ের শরীরের ভলিউমেট্রিক ডেটা বা আয়তন সংগ্রহ করা হবে যা সরাসরি এআই ইঞ্জিনে যুক্ত হয়ে যাবে। এর ফলে বিশ্বকাপের ৪৮টি দলের মোট ২৬ জন করে সদস্যের অর্থাৎ ১,২৪৮ জন ফুটবলারের একটি বিশাল ডিজিটাল ডাটাবেস তৈরি হবে।
এই ডাটাবেসটি ম্যাচের সময় মাঠে থাকা ১২টি ডেডিকেটেড ট্র্যাকিং ক্যামেরা এবং বলের ভেতরে থাকা সেন্সরের সাথে সিংক্রোনাইজড হয়ে কাজ করবে। ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন যে, এই এআই-এনাবলড ৩ডি অবতার সঠিক খেলোয়াড় শনাক্তকরণ এবং ট্র্যাকিং নিশ্চিত করবে। এই ৩ডি অবতারগুলো শুধুমাত্র অফসাইড চেক করতেই ব্যবহৃত হবে না, বরং ভিএআর (VAR) রিভিউ চলাকালীন স্ক্রিনে যখন গ্রাফিক্স দেখানো হবে, তখন প্রতিটি খেলোয়াড়কে তার নিজস্ব অবয়বেই দেখা যাবে। এটি ফুটবল সম্প্রচারের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে, যা খেলাটিকে আরও বেশি প্রযুক্তি-নির্ভর ও স্বচ্ছ করে তুলবে।
প্রধান পরিসংখ্যান ও তথ্য
| বিষয়ের সারসংক্ষেপ | প্রধান পরিসংখ্যান ও তথ্য |
| মোট খেলোয়াড় সংখ্যা | ১,২৪৮ জন (৪৮টি দল) |
| প্রযুক্তির নাম | AI-Enabled 3D Digital Avatars |
| স্ক্যানিং সময় | খেলোয়াড় প্রতি মাত্র ১ সেকেন্ড |
| মূল লক্ষ্য | নির্ভুল অফসাইড ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ |
| প্রথম ট্রায়াল | ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ (ডিসেম্বর ২০২৫) |
| অংশীদার | ফিফা এবং লেনোভো (Lenovo) |
এটি কি প্রিমিয়ার লিগের ভুলগুলো সংশোধন করতে পারবে?
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সাম্প্রতিক সময়ে অফসাইড গ্রাফিক্সের সীমাবদ্ধতা নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে, যা ফিফাকে এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। বিশেষ করে যখন একাধিক খেলোয়াড় একে অপরের খুব কাছাকাছি থাকেন, তখন বর্তমান প্রযুক্তিতে শরীরের কোন অংশটি সামনে আছে তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফিফার মতে, হাইলি একুরেট বডি-পার্ট ডাইমেনশন ব্যবহারের ফলে এআই এখন বুঝতে পারবে কোন অংশটি কনুই আর কোনটি কাঁধ। এই সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলোই গোল বৈধ হওয়া বা না হওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিতর্কিত গোলগুলোর সিদ্ধান্ত কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রদান করা সম্ভব হবে।
ফিফা ইতিমধ্যেই বলের গতিবিধি ট্র্যাকিং এবং ‘লাইন-অফ-সাইট’ অফসাইড সিদ্ধান্তের জন্য রিয়েল-টাইম ৩ডি রিক্রিয়েশন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এর ফলে গোললাইন প্রযুক্তি বা বল মাঠের বাইরে গেছে কি না, তা নির্ধারণ করা আরও সহজ হবে। Yahoo Sports-এ প্রকাশিত ডেল জনসনের রিপোর্ট অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের সঠিক স্ক্যান নেওয়ার মাধ্যমে সমর্থকদের সামনে সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা বাড়ানোই ফিফার প্রধান লক্ষ্য। ৩ডি অবতার প্রযুক্তিতে খেলোয়াড়ের পায়ের নিচের মাটি থেকে উচ্চতাও নিখুঁতভাবে মাপা থাকবে। সুতরাং, প্রযুক্তিগতভাবে এটি আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং নির্ভুল একটি সিস্টেম হতে চলেছে যা বর্তমানের অনেক ত্রুটিই ঢেকে দেবে।
এই প্রযুক্তির ফলে দর্শকদের অভিজ্ঞতায় কী পরিবর্তন আসবে?
ফুটবল প্রেমীদের জন্য এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হবে ম্যাচের লাইভ গ্রাফিক্সের গুণগত পরিবর্তন। এখন যখন অফসাইড রিভিউ দেখানো হয়, তখন সেগুলো অনেক সময় ভিডিও গেমের পুরনো গ্রাফিক্সের মতো মনে হয়। কিন্তু ফিফার এই ৩ডি অবতার ব্যবহারের ফলে টিভি পর্দায় খেলোয়াড়দের একদম বাস্তবসম্মত দেখাবে। ফিফার দাবি, এটি দর্শকদের খেলা দেখার অভিজ্ঞতায় আরও বেশি এনগেজিং এবং ইন্টারেক্টিভ ভাব নিয়ে আসবে। মাঠের উত্তেজনার মাঝে যখন বড় স্ক্রিনে এই নিখুঁত অ্যানিমেশনগুলো দেখানো হবে, তখন সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে আর প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকবে না।
ফিফা সম্প্রতি আরও ঘোষণা করেছে যে, তারা এমন একটি প্রযুক্তি পরীক্ষা করছে যা বল গোল হওয়ার আগে সাইডলাইন অতিক্রম করেছে কি না তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানিয়ে দেবে। এই সমস্ত উদ্ভাবন একসাথে যুক্ত হলে ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে হাই-টেক টুর্নামেন্ট। নাইজেরিয়ার শীর্ষস্থানীয় নিউজ পোর্টাল The Punch তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, এই সিস্টেমটি দ্রুত বা বাধাগ্রস্ত মুভমেন্টের সময়ও খেলোয়াড়দের নির্ভরযোগ্যভাবে ট্র্যাক করতে পারবে। এটি পরিষ্কার যে, ফিফা কেবল মাঠের খেলার দিকেই নজর দিচ্ছে না, বরং ফুটবলের ডিজিটাল কন্টেন্টকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাচ্ছে যেখানে ফ্যানরা তাদের প্রিয় তারকাদের নিখুঁত ডিজিটাল সংস্করণ দেখতে পাবেন।
ফুটবল বিশ্ব কি এই বিশাল পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত?
এত বড় মাত্রার ডাটা কালেকশন এবং এআই ইমপ্লিমেন্টেশন এর আগে কোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দেখা যায়নি। ৪৮টি দলের বিশাল বহর নিয়ে আয়োজিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে প্রতিটি সেকেন্ড হবে গুরুত্বপূর্ণ। ফিফার রেফারি কমিটির প্রধান পিয়েরলুইজি কোলিনা বারবার জোর দিয়েছেন যে, প্রযুক্তি রেফারিকে প্রতিস্থাপন করবে না বরং সাহায্য করবে। এই ৩ডি অবতারগুলো রেফারির কাজকে দ্রুততর করবে, যার ফলে খেলার স্বাভাবিক গতি বজায় থাকবে। তবে অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞ মনে করেন, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার ফুটবলের সহজাত সৌন্দর্যকে কিছুটা হলেও নষ্ট করতে পারে।
তা সত্ত্বেও, ফিফা তাদের সিদ্ধান্তে অনড় কারণ গত কয়েকটি বড় টুর্নামেন্টে প্রযুক্তিগত নির্ভুলতা সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত করা এই ১,২৪৮টি অবতার ফুটবল ডাটা অ্যানালিটিক্সের ক্ষেত্রে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে। ফিফা বলছে, তারা নিশ্চিত করতে চায় যে প্রতিটি দেশ এবং প্রতিটি খেলোয়াড় সমান এবং সর্বোচ্চ মানের প্রযুক্তিগত বিচার পাবেন। এই প্রজেক্টের সফল বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যতে ক্লাব ফুটবল বা অন্যান্য মহাদেশীয় টুর্নামেন্টগুলোতে এই প্রযুক্তি কত দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। এটি কেবল একটি টুর্নামেন্টের জন্য নয়, বরং ফুটবলের পরবর্তী কয়েক দশকের জন্য এক শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরির শুরু মাত্র।
FAQ:
২০২৬ বিশ্বকাপে কতজন খেলোয়াড়কে স্ক্যান করা হবে?
ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলের প্রতিটি দলের ২৬ জন সদস্যকে স্ক্যান করার পরিকল্পনা করেছে। অর্থাৎ মোট ১,২৪৮ জন খেলোয়াড়ের ৩ডি ডিজিটাল অবতার তৈরি করা হবে যাতে প্রতিটি খেলোয়াড়ের ডাটা সিস্টেমের কাছে থাকে।
এই স্ক্যানিং প্রক্রিয়ায় কত সময় লাগবে?
খেলোয়াড়দের জন্য এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ। প্রি-টুর্নামেন্ট ফটোশুটের সময় একটি বিশেষ চেম্বারে তাদের প্রবেশ করতে হবে এবং মাত্র এক সেকেন্ডের মধ্যেই স্ক্যানটি সম্পন্ন হবে। এটি খেলোয়াড়দের খেলার প্রস্তুতিতে কোনো ব্যাঘাত ঘটাবে না।
নতুন ৩ডি অবতার প্রযুক্তির প্রধান সুবিধা কী?
এর প্রধান সুবিধা হলো নির্ভুলতা। বর্তমান সেমি-অটোমেটেড অফসাইড সিস্টেমের সীমাবদ্ধতা দূর করে এটি খেলোয়াড়দের শরীরের প্রতিটি অঙ্গের সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করবে। এর ফলে অত্যন্ত জটিল অফসাইড সিদ্ধান্তগুলোও দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে নেওয়া সম্ভব হবে।
এই প্রযুক্তির পরীক্ষা কি আগে কখনও হয়েছে?
হ্যাঁ, ফিফা ইতিমধ্যেই তাদের ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে এই প্রযুক্তির সফল ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে। ডিসেম্বরে ফ্লামেঙ্গো এবং পিরামিডস এফসি-র মধ্যকার ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের স্ক্যান করে এই সিস্টেমটি পরীক্ষা করা হয়েছিল।
রুবেন দিয়াজের বিতর্কিত অফসাইডের সাথে এর সম্পর্ক কী?
প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটির রুবেন দিয়াজের একটি অফসাইড গ্রাফিক্স বাস্তবের ছবির সাথে মেলেনি, যা ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। ফিফার নতুন এই ৩ডি অবতার প্রযুক্তি মূলত এই ধরণের অমিল এবং গ্রাফিকাল ত্রুটি দূর করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
ফিফা কি অফসাইড ছাড়াও অন্য কোনো নতুন প্রযুক্তি আনছে?
ফিফা অফসাইডের পাশাপাশি আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। একটি হলো বল মাঠের বাইরে গেছে কি না তা নির্ণয় করার প্রযুক্তি এবং অন্যটি হলো ‘রিয়েল-টাইম ৩ডি রিক্রিয়েশন’, যা লাইন-অফ-সাইট বা রেফারির চোখের দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা দূর করবে।
JitaBet , JitaWin , এবং JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন, তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!
উপসংহার:
ফিফার এই ১,২৪৮ জন খেলোয়াড়ের ৩ডি ডিজিটাল অবতার তৈরির সিদ্ধান্তটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত আপডেট নয়, বরং এটি ফুটবলের ইতিহাসে একটি বিশাল রূপান্তর। ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে এমন একটি আসর যেখানে মানুষের চোখের সীমাবদ্ধতা দূর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই পূর্ণ শক্তিতে ব্যবহৃত হবে। অতীতে আমরা দেখেছি যে, একটি ভুল অফসাইড সিদ্ধান্ত কীভাবে গোটা জাতির স্বপ্নের অবসান ঘটাতে পারে। ফিফা সেই ঝুঁকি কমাতে চায় এবং মাঠের প্রতিটি ইঞ্চিতে স্বচ্ছতা আনতে বদ্ধপরিকর। প্রতিটি ফুটবলারের শরীরের গঠনকে ডিজিটালাইজ করার মাধ্যমে রেফারিদের হাতে যে ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে, তা ম্যাচের গুণগত মান বৃদ্ধি করবে এবং মাঠের বাইরের বিতর্ক কমিয়ে আনবে।
পরিশেষে বলা যায়, প্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রাকে আলিঙ্গন করা ছাড়া আধুনিক ফুটবলের আর কোনো বিকল্প নেই। ২০২৬ সালে মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে যখন এই ১,২৪৮ জন গ্ল্যাডিয়েটর মাঠে নামবেন, তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ নজরদারিতে রাখবে কয়েকশ কোটি মানুষের চোখ এবং ফিফার এই সুপার-স্মার্ট এআই ইঞ্জিন। ফিফার এই সাহসী পদক্ষেপ বিশ্ব ফুটবলকে আরও স্বচ্ছ, নির্ভুল এবং বিনোদনমূলক করে তুলবে এটাই এখন ফুটবল প্রেমীদের প্রত্যাশা। এই বৈপ্লবিক যাত্রা সফল হলে ফুটবলের মাঠে অবিচার ও বিতর্কের দিন চিরতরে শেষ হয়ে যেতে পারে।
For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News





