শিরোনাম

বার্সেলোনাকে ‘গার্ড অব অনার’ দিতে এমবাপের অস্বীকৃতি: তুঙ্গে বিতর্ক!

বার্সেলোনা স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনালে বার্সেলোনার বিপক্ষে হারের পর ‘গার্ড অব অনার’ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে চরম বিতর্কের মুখে কিলিয়ান এমবাপে। রিয়াল মাদ্রিদ তারকার এই অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের বিস্তারিত বিশ্লেষণ স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর রানার্স-আপ রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কিলিয়ান এমবাপে এখন বিশ্বজুড়ে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে মাঠ ছাড়ার সময় বিজয়ী দলকে প্রথাগত ‘গার্ড অব অনার’ বা ‘পাসিয়ো’ দিতে সতীর্থদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ইনজুরি কাটিয়ে বদলি হিসেবে নেমে দলের পরাজয় ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার পর এমবাপের এমন আচরণকে ফুটবলবোদ্ধারা ‘অখেলোয়াড়সুলভ’ এবং অহংকার হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

https://twitter.com/BarcaTimes/status/2010467107561963868?s=20

কেন বার্সেলোনাকে সম্মান জানাতে অস্বীকৃতি জানালেন এমবাপে?

রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মধ্যকার এল ক্লাসিকোর রেশ মাঠের লড়াই ছাড়িয়ে এখন ড্রেসিংরুমের রাজনীতিতে রূপ নিয়েছে। স্প্যানিশ সাংবাদিক আলফ্রেদো মার্তিনেজ এবং কাতালান চ্যানেল এস্পোর্তো-থ্রি-র ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, ম্যাচ শেষে যখন কোচ জাবি আলোনসো খেলোয়াড়দের প্রথাগত সম্মান প্রদর্শনের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, তখন কিলিয়ান এমবাপে সরাসরি সতীর্থদের ডাগআউটের দিকে নিয়ে যান। বিশেষ করে তরুণ ডিফেন্ডার রাউল আসেনসিও যখন বার্সার খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানাতে আগ্রহী ছিলেন, তখন এমবাপের বাধা দেওয়ার ভঙ্গিটি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এই ঘটনার পেছনে মূলত ফরাসি তারকার ব্যক্তিগত হতাশা এবং দলের চরম পরাজয়ের পর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঠের মাঝে সম্মান জানানোর অনিচ্ছাই প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এমবাপের এই আচরণ নিয়ে স্পোর্ত (Sport) তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, এটি শুধুমাত্র একটি ম্যাচের পরাজয় নয়, বরং রিয়াল মাদ্রিদের ঐতিহ্যের পরিপন্থী কাজ। যদিও রিয়াল মাদ্রিদ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি, তবে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে যে ইনজুরি এবং হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে প্রভাব ফেলতে না পারার মানসিক চাপ থেকেই এমবাপে এমনটি করেছেন। ফুটবলের এই এল ক্লাসিকো দ্বৈরথে অতীতেও গার্ড অব অনার নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে, তবে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা মহাতারকার কাছ থেকে এমন শিশুসুলভ আচরণ ফুটবল ভক্তদের হতাশ করেছে। সামাজিক মাধ্যমে তাকে ‘সর লুসার’ (Sore Loser) হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে, যা তার ক্যারিয়ারের ব্র্যান্ড ভ্যালুতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এমবাপের শারীরিক অবস্থা ও ম্যাচে প্রভাব কেমন ছিল?

ফাইনাল ম্যাচের আগে থেকেই সবার নজর ছিল কিলিয়ান এমবাপে-র ওপর, কারণ তাকে ইনজুরি সত্ত্বেও স্পেন থেকে বিশেষভাবে উড়িয়ে আনা হয়েছিল। গুঞ্জন ছিল যে তিনি ব্যাথানাশক ইনজেকশন ব্যবহার করে শুরুর একাদশে খেলবেন, কিন্তু কোচ জাবি আলোনসো ঝুঁকি না নিয়ে তাকে ৭৬ মিনিটে গঞ্জালো গার্সিয়ার বদলে মাঠে নামান। মাঠে নামার পর এমবাপে বেশ কিছু আক্রমণাত্মক মুভমেন্ট তৈরি করলেও বার্সেলোনার রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হন। ম্যাচের শেষ দিকে একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করলেও সতীর্থদের ব্যর্থতায় সেটি পূর্ণতা পায়নি, ফলে ৩-২ গোলের ব্যবধানে শিরোপা হাতছাড়া হয় লস ব্লাঙ্কোসদের।

এই পরাজয়ের পর এমবাপের শরীরী ভাষা ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এবং হতাশাজনক। ইএসপিএন (ESPN)-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে, এমবাপে সম্ভবত রিয়াল মাদ্রিদে আসার পর প্রথম বড় শিরোপা জেতার জন্য প্রচণ্ড চাপে ছিলেন। ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে না উঠেও দলের প্রয়োজনে মাঠে নেমে যখন জয় নিশ্চিত করতে পারেননি, তখন সেই ক্ষোভ তিনি মাঠের শিষ্টাচার ভেঙে প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য যে, এর আগে বিবিসি স্পোর্টস (BBC Sports) তাদের এক প্রতিবেদনে রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান ফর্ম ও এমবাপের ইনজুরি ম্যানেজমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, যা এই হারের পর আরও জোরালো হয়েছে।

স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনাল বিতর্ক ২০২৬

বিষয়তথ্য
টুর্নামেন্টস্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনাল (এল ক্লাসিকো)
ফলাফলবার্সেলোনা ৩-২ রিয়াল মাদ্রিদ
বিতর্কিত চরিত্রকিলিয়ান এমবাপে (রিয়াল মাদ্রিদ)
মূল অভিযোগ‘গার্ড অব অনার’ দিতে সতীর্থদের বাধা প্রদান
ভিডিও সূত্রকাতালান চ্যানেল এস্পোর্তো-থ্রি
কোচের অবস্থানজাবি আলোনসো সৌজন্যতা প্রদর্শনের পক্ষে ছিলেন

কোচ জাবি আলোনসো ও রিয়াল ম্যানেজমেন্টের প্রতিক্রিয়া কী?

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জাবি আলোনসো বেশ পরিপক্কতার পরিচয় দিলেও ভেতরের অবস্থা ছিল থমথমে। তিনি বার্সেলোনার জয়কে স্বীকৃতি দিয়ে বলেছিলেন, “মাঠে লড়াই থাকে, কিন্তু খেলা শেষে সৌজন্যতা বজায় রাখা আমাদের ক্লাবের ডিএনএ-তে থাকা উচিত।” তবে এমবাপের নাম সরাসরি না নিলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা পেশাদার খেলোয়াড়দের অন্যতম বড় গুণ। রিয়াল ম্যানেজমেন্ট এমবাপের এই আচরণকে তাদের দীর্ঘদিনের ‘মাদ্রিদিস্তা’ সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর মনে করছে, কারণ ঐতিহাসিকভাবে রিয়াল মাদ্রিদ সবসময়ই স্পোর্টসম্যানশিপ বজায় রাখার চেষ্টা করে এসেছে।

অন্যদিকে, স্প্যানিশ ফুটবল বিশ্লেষক ও সাংবাদিক মার্তিনেজ দাবি করেছেন যে, এমবাপের এই আধিপত্য বিস্তারকারী আচরণ রিয়ালের ড্রেসিংরুমে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে। রয়টার্স (Reuters) এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদের সিনিয়র খেলোয়াড়দের মধ্যে কেউ কেউ এমবাপের এই সিদ্ধান্তে খুশি হতে পারেননি। বিশেষ করে রাউল আসেনসিও-র মতো তরুণদের প্রকাশ্যে ধমক দেওয়া বা অসম্মান করার বিষয়টি ড্রেসিংরুমের সংহতি নষ্ট করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমবাপে নিজেকে দলের প্রধান নেতা হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করলেও, এই বিতর্ক তার নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ফুটবল বিশ্বের প্রতিক্রিয়া কেমন?

বিশ্বের নামী সংবাদমাধ্যমগুলো এমবাপের এই কাণ্ডকে খুব একটা ভালোভাবে নেয়নি। দ্য গার্ডিয়ান (The Guardian) তাদের ফিচারে লিখেছে যে, “একজন গ্রেট খেলোয়াড় হওয়ার জন্য কেবল গোল করাই যথেষ্ট নয়, পরাজয়কে হজম করার মানসিকতাও থাকতে হয়।” তাদের মতে, এমবাপে এই ঘটনার মাধ্যমে স্পেনে তার ইমেজ সংকটে ফেলেছেন। ফ্রান্সের জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে তার কাছ থেকে আরও পরিণত আচরণ প্রত্যাশা করেছিল ফুটবল বিশ্ব। বার্সেলোনা সমর্থকরা এই ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ট্রল করছে, যা দুই ক্লাবের মধ্যকার উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

স্প্যানিশ পত্রিকা স্পোর্ত (Sport) সরাসরি তাদের হেডলাইনে একে ‘অখেলোয়াড়সুলভ’ বলে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, এমবাপে যখন পিএসজিতে ছিলেন, তখনও তার মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, আর এখন রিয়াল মাদ্রিদের মতো বড় ক্লাবে এসেও তিনি সেই একই ধারা বজায় রাখছেন। গোল ডট কম (Goal.com) এর একটি নিবন্ধে বলা হয়েছে যে, এমবাপের এই ‘ইগো’ সমস্যা ভবিষ্যতে রিয়াল মাদ্রিদকে বড় কোনো সংকটে ফেলতে পারে, কারণ ফুটবল একটি দলীয় খেলা এবং এখানে সম্মান প্রদর্শন ফুটবলের মূলনীতির অংশ।

কেন এই ‘গার্ড অব অনার’ স্প্যানিশ ফুটবলে এত গুরুত্বপূর্ণ?

স্পেনে ‘পাসিয়ো’ বা গার্ড অব অনার দেওয়া একটি শতবর্ষী প্রথা, যা মূলত প্রতিপক্ষ দলের শ্রেষ্ঠত্বকে সম্মান জানানোর জন্য করা হয়। যদিও এটি বাধ্যতামূলক কোনো নিয়ম নয়, তবে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মতো ক্লাবগুলোর মধ্যে এই প্রথা পালন করা হয় পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে। অতীতেও ২০০৮ সালে রিয়াল মাদ্রিদকে গার্ড অব অনার দিয়েছিল বার্সেলোনা, আবার ২০১৮ সালে জিনেদিন জিদানের অধীনে রিয়াল মাদ্রিদ বার্সাকে এই সম্মান দিতে অস্বীকার করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। এমবাপের এবারের ঘটনাটি সেই পুরনো বিতর্ককেই নতুন করে উসকে দিয়েছে।

এমবাপের এই বাধার কারণে রিয়াল মাদ্রিদের অধিকাংশ খেলোয়াড় মেডেল গ্রহণের পর দ্রুত মাঠ ত্যাগ করেন। এর ফলে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন এবং টুর্নামেন্ট আয়োজকরাও কিছুটা বিব্রত বোধ করেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লা লিগা এবং পরবর্তী চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচগুলোতে এমবাপেকে প্রতিপক্ষের সমর্থকদের কাছ থেকে ব্যাপক টিটকারির শিকার হতে হতে পারে। ফুটবলে টেকনিক্যাল স্কিলের পাশাপাশি মেন্টাল স্ট্রেন্থ এবং প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা একজন লিজেন্ড হওয়ার প্রাথমিক শর্ত, যা এমবাপে এই ম্যাচে পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

FAQ:

১. গার্ড অব অনার বা ‘পাসিয়ো’ আসলে কী?

গার্ড অব অনার হলো ফুটবলের একটি ঐতিহ্যবাহী রীতি যেখানে একটি দল মাঠের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষ বিজয়ী দলকে হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানায়। স্পেনে একে ‘পাসিয়ো’ বলা হয়। এটি মূলত বিজয়ী দলের কৃতিত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য করা হয়।

২. এমবাপে কেন সতীর্থদের এই সম্মান জানাতে বাধা দিয়েছেন?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩-২ ব্যবধানে হারের পর এমবাপে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ছিলেন। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকে তাদের সামনে শিরোপা উদযাপন করতে দেখা এবং ব্যক্তিগতভাবে ম্যাচে প্রভাব ফেলতে না পারার হতাশা থেকেই তিনি সতীর্থদের দ্রুত মাঠ ছাড়তে নির্দেশ দেন।

৩. কোচ জাবি আলোনসোর অবস্থান কী ছিল?

কোচ জাবি আলোনসো চেয়েছিলেন তার দল যেন বার্সেলোনাকে প্রথাগত সম্মান প্রদর্শন করে। তিনি খেলোয়াড়দের ডাগআউটে থামিয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন পাসিয়ো দেওয়ার জন্য, কিন্তু এমবাপের অনড় অবস্থানের কারণে সেটি পূর্ণাঙ্গভাবে সম্ভব হয়নি।

৪. রাউল আসেনসিওকে কেন ধমক দিয়েছিলেন এমবাপে?

তরুণ খেলোয়াড় রাউল আসেনসিও বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানানোর জন্য এগিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। এমবাপে এটি লক্ষ্য করে তাকে থামিয়ে দেন এবং ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় তিনি আসেনসিওর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, যা অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের প্রমাণ দেয়।

৫. আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই ঘটনাকে কীভাবে দেখছে?

বিবিসি, রয়টার্স এবং দ্য গার্ডিয়ানের মতো সংস্থাগুলো একে ‘অখেলোয়াড়সুলভ’ এবং ‘ব্যক্তিত্বের সংঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা মনে করছে, এমবাপের মতো বড় তারকার কাছ থেকে এমন আচরণ ফুটবলের আদর্শের পরিপন্থী।

https://twitter.com/TouchlineX/status/2010464259000746093?s=20

উপসংহার:

ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, এটি কোটি কোটি মানুষের আবেগ এবং একটি নির্দিষ্ট সংস্কৃতির প্রতিফলন। কিলিয়ান এমবাপে নিঃসন্দেহে এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা ফুটবলার, কিন্তু স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে তার আচরণ প্রমাণ করেছে যে শ্রেষ্ঠত্বের পথে এখনো তার অনেক কিছু শেখার বাকি আছে। একজন মহাতারকা যখন নিজের পরাজয়কে মার্জিতভাবে গ্রহণ করতে পারেন না এবং সতীর্থদেরও সৌজন্য প্রকাশে বাধা দেন, তখন তা খেলাটির মূল সুরকে ব্যাহত করে। এল ক্লাসিকোর মতো একটি ঐতিহাসিক মঞ্চে এমন আচরণ রিয়াল মাদ্রিদের মতো একটি রাজকীয় ক্লাবের ভাবমূর্তির সাথে একেবারেই বেমানান।

ইতিহাসের পাতায় নজর দিলে দেখা যায়, পেলে, ম্যারাডোনা কিংবা সাম্প্রতিক সময়ের মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ সবসময়ই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল, কিন্তু মাঠের শেষে পারস্পরিক শ্রদ্ধার অভাব খুব কমই দেখা গেছে। এমবাপেকে বুঝতে হবে যে, তিনি এখন রিয়াল মাদ্রিদের মতো একটি গ্লোবাল আইকন ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যেখানে জেতার পাশাপাশি হারার স্টাইলও গুরুত্বপূর্ণ। ইনজুরি বা ফর্মের অভাব অজুহাত হতে পারে, কিন্তু অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। এই বিতর্ক এমবাপের ক্যারিয়ারের একটি কালো দাগ হয়ে থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে তিনি এই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে কীভাবে পরিবর্তন করেন তার ওপর। রিয়াল মাদ্রিদ ভক্তরা আশা করবেন, তাদের প্রিয় তারকা কেবল গোল করবেন না, বরং মাঠের ভেতরে ও বাইরে একজন আদর্শ ‘লিডার’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন। পরিশেষে, ফুটবল আমাদের হার-জিতের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে সম্মান করতে শেখায় আর এটাই যেন হয় আগামীদিনের এমবাপের মূল মন্ত্র।

For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News