লিওনেল মেসি ফুটবল থেকে অবসরের পর ডাগআউটে নয়, বরং ক্লাবের মালিক হতে চান লিওনেল মেসি। জেনে নিন তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ‘ডিপোর্তিভো এলএসএম’ প্রজেক্ট নিয়ে সবশেষ আপডেট। ফুটবল ইতিহাসের মহাতারকা লিওনেল মেসি তার অবসরের পরবর্তী জীবন নিয়ে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন। ৬ জানুয়ারি ২০২৬-এ প্রকাশিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ম্যারাডোনা বা জিদানের মতো কোচিং ডাগআউটে নয়, বরং তাকে দেখা যাবে ফুটবল ক্লাবের মালিক হিসেবে। মেসি স্পষ্ট করেছেন যে, মাঠের কৌশল নির্ধারণের চেয়ে একটি ক্লাবকে তৃণমূল থেকে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ তাকে বেশি টানে। ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইন্টার মায়ামির সাথে চুক্তিবদ্ধ থাকা এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ইতিমধ্যে উরুগুয়েতে লুইস সুয়ারেজের সাথে মিলে নিজের ক্লাব পরিচালনার মাধ্যমে তার ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সত্তার পরিচয় দিচ্ছেন।
কেন কোচিংয়ের বদলে ক্লাব মালিকানায় আগ্রহী লিওনেল মেসি?
লিওনেল মেসির ফুটবল ক্যারিয়ার যতটা জাদুকরী, তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ততটাই সুদূরপ্রসারী। সাধারণত ফুটবলাররা বুট তুলে রাখার পর কোচিং লাইসেন্স নিলেও মেসি হাঁটছেন ডেভিড বেকহ্যামের পথে। আর্জেন্টিনার স্ট্রিমিং চ্যানেল লুজু টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, “আমি কোচ হতে চাই না, আমি মালিক হতে চাই। নিজের একটি ক্লাব থাকবে এবং সেটাকে একদম নিচের স্তর থেকে বড় করব—এই আইডিয়াটি আমাকে অনেক বেশি আকর্ষণ করে।” মেসির এই পরিকল্পনা কেবল ব্যক্তিগত শখ নয়, বরং ফুটবলের বাণিজ্যিক কাঠামোতে নিজের প্রভাব স্থায়ী করার একটি সুচিন্তিত কৌশল।
মেসির এই মালিক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা তাকে ফুটবলের মাঠ থেকে সরাসরি বোর্ডরুমের প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত করবে। আর্জেন্টিনার প্রভাবশালী সংবাদপত্র Buenos Aires Times তাদের প্রতিবেদনে মেসির এই কোচিং ছেড়ে মালিকানায় আসার সুনির্দিষ্ট ইচ্ছার কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে তিনি তার ভবিষ্যৎ ভিশন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। মেসি মনে করেন, ডাগআউটের মানসিক চাপের চেয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী উন্নতি তদারকি করা অনেক বেশি ফলপ্রসূ। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের পর যখন তিনি মাঠ থেকে বিদায় নেবেন, তখন তার প্রধান লক্ষ্য হবে ফুটবলের একটি সফল ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরি করা।
‘ডিপোর্তিভো এলএসএম’ এবং মেসির ভবিষ্যৎ প্রজেক্টের বর্তমান অবস্থা কী?
লিওনেল মেসি ইতিমধ্যে ক্লাব মালিকানার হাতেখড়ি সেরে ফেলেছেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং সতীর্থ লুইস সুয়ারেজের সাথে। তারা দুজন মিলে উরুগুয়ের চতুর্থ বিভাগে ডিপোর্তিভো এলএসএম (Deportivo LSM) নামে একটি ক্লাব পরিচালনা করছেন। ক্লাবটির নাম রাখা হয়েছে তাদের নামের আদ্যক্ষর (Lionel, Suarez, Messi) থেকে। বর্তমানে এই ক্লাবে ৩ হাজারেরও বেশি সদস্য রয়েছে এবং প্রায় ৮০ জন পেশাদার কর্মী নিযুক্ত আছেন। এটি কেবল একটি শখের প্রজেক্ট নয়, বরং মেসির ফুটবল দর্শনের একটি পরীক্ষাগার। তিনি তৃণমূল পর্যায় থেকে একাডেমি গড়ে তোলার মাধ্যমে নতুন প্রতিভা অন্বেষণ করতে চান।
এছাড়া তরুণ ফুটবলারদের জন্য তিনি চালু করেছেন ‘মেসি কাপ’, যার প্রথম আসর সম্প্রতি শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম Sports Illustrated (SI) এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মেসি কাপের উদ্বোধনী আসরের ফাইনালে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্জেন্টিনার রিভার প্লেট। এই উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে যে, মেসি কেবল একটি দল কিনতে চান না, বরং তিনি ফুটবলের একটি সম্পূর্ণ ইকোসিস্টেম তৈরি করতে চান। ২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এলএএফসির বিপক্ষে নতুন মৌসুম শুরু করার আগে মেসির এই অফ-ফিল্ড কার্যক্রমগুলো ফুটবল বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এক নজরে মেসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বর্তমান প্রজেক্ট
| বিষয় | বিবরণ |
| অবসর পরবর্তী লক্ষ্য | ফুটবল ক্লাবের মালিকানা গ্রহণ ও পরিচালনা। |
| বর্তমান ক্লাব চুক্তি | ২০২৮ মৌসুম পর্যন্ত ইন্টার মায়ামির সাথে। |
| বিদ্যমান প্রজেক্ট | উরুগুয়ের ক্লাব ডিপোর্তিভো এলএসএম (যৌথ মালিকানায়)। |
| সদস্য সংখ্যা | ৩,০০০+ এবং ৮০ জন পেশাদার কর্মী। |
| যুব উন্নয়ন | ‘মেসি কাপ’ অনূর্ধ্ব-১৬ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। |
| পরবর্তী লক্ষ্য | ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ জয় ও এমএলএস রক্ষা। |
ফুটবলার থেকে ব্যবসায়ী হওয়ার পথে মেসির বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী?
লিওনেল মেসির জন্য ফুটবল মাঠের চ্যালেঞ্জগুলো সহজ মনে হলেও ক্লাব মালিকানার জটিলতা একেবারেই ভিন্ন। একটি ক্লাব পরিচালনার জন্য বিশাল বিনিয়োগ, স্পনসরশিপ ম্যানেজমেন্ট এবং অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজন হয়। তবে মেসির ব্র্যান্ড ভ্যালু এতটাই শক্তিশালী যে বিশ্বের যেকোনো বড় বিনিয়োগকারী তার সাথে যুক্ত হতে মুখিয়ে থাকে। India Today-এর এক বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসি কীভাবে প্রযুক্তির চেয়ে মানবিক ও কাঠামোগত উন্নতিতে বেশি বিশ্বাসী, যা তাকে একজন সফল মালিক হতে সাহায্য করবে। তবে মাঠের বাইরে এই প্রশাসনিক ভূমিকা পালনের জন্য তাকে অভিজ্ঞ স্পোর্টস এক্সিকিউটিভদের সাথে কাজ করতে হবে।
আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো সময়। ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিনি মাঠে সক্রিয় থাকবেন এবং জুনে তাকে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে আবারও দেখা যেতে পারে। ফলে ২০২৬ মৌসুমের ব্যস্ততার মাঝে ক্লাব মালিকানার কাজগুলো গুছিয়ে নেওয়া বেশ কঠিন। তবুও মেসি তার সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, তিনি ধীরে ধীরে এগোতে চান। নিজের ক্লাবকে একদম নিচের স্তর থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে সফলতার শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জটাই তাকে রোমাঞ্চ দেয়। ফুটবল বিশ্বে যেখানে কিংবদন্তিরা ব্যর্থ কোচ হওয়ার ভয়ে থাকেন, সেখানে মেসি সরাসরি নেতৃত্বে আসার এই সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন এক ট্রেন্ড তৈরি করছেন।
কেন মেসির এই সিদ্ধান্ত ফুটবল বিশ্বে এক অনন্য বিপ্লব?
ফুটবলারদের বড় অংশই অবসরের পর মিডিয়া ব্যক্তিত্ব বা কোচ হিসেবে জীবন কাটান। কিন্তু মেসির মতো একজন বৈশ্বিক আইকন যখন সরাসরি ক্লাবের মালিক হওয়ার ঘোষণা দেন, তখন সেটি ফুটবলের অর্থনৈতিক কাঠামোকে বদলে দেয়। World Soccer Talk-এর একটি বিশেষ ফিচারে বলা হয়েছে যে, মেসির অবসর পরবর্তী এই প্রজেক্টগুলো কীভাবে ডেভিড বেকহ্যামের মডেলকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। তার সাথে থাকা লুইস সুয়ারেজ এবং অন্যান্য ফুটবলারদের সংযোগ তাকে বিশ্বের সেরা স্কাউটিং নেটওয়ার্ক তৈরিতে সাহায্য করবে।
মেসি মনে করেন, ফুটবলের সত্যিকারের উন্নয়ন সম্ভব যদি ক্লাবগুলো সঠিক ভিশন নিয়ে পরিচালিত হয়। কেবল ট্রফি জয় নয়, বরং খেলোয়াড়দের জীবনমান উন্নয়ন এবং তৃণমূলের প্রতিভা তুলে আনাই তার মূল লক্ষ্য। ডিপোর্তিভো এলএসএম-এর মাধ্যমে তিনি ইতিমধ্যে সেই বিপ্লবের সূচনা করেছেন। পেশাদার ৮০ জন কর্মীর মাধ্যমে একটি চতুর্থ বিভাগের ক্লাবকে যেভাবে তিনি কর্পোরেট আদলে সাজিয়েছেন, তা অনেক বড় ক্লাবের জন্যও শিক্ষণীয়। মেসির এই ‘মালিকানা মডেল’ ভবিষ্যতে অন্যান্য বর্তমান ফুটবলারদেরও বড় বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।
FAQ:
১. মেসি কি অবসরের পর কোচ হতে চান?
না, লিওনেল মেসি সম্প্রতি পরিষ্কার করেছেন যে কোচিং পেশায় আসার কোনো ইচ্ছা তার নেই। তিনি ক্লাব মালিকানায় বেশি আগ্রহী।
২. মেসি বর্তমানে কোন ক্লাবের মালিকানার সাথে যুক্ত?
মেসি তার বন্ধু লুইস সুয়ারেজের সাথে মিলে উরুগুয়ের ক্লাব ‘ডিপোর্তিভো এলএসএম’ পরিচালনা করছেন।
৩. ইন্টার মায়ামির সাথে মেসির চুক্তির মেয়াদ কতদিন?
লিওনেল মেসি ২০২৮ মৌসুম পর্যন্ত ইন্টার মায়ামির সাথে থাকার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।
৪. ‘মেসি কাপ’ টুর্নামেন্টটি আসলে কী?
এটি তরুণ খেলোয়াড়দের (অনূর্ধ্ব-১৬) জন্য মেসির উদ্যোগে শুরু করা একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট। এর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিভার প্লেট।
৫. মেসি কি ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবেন?
হ্যাঁ, মেসি জানিয়েছেন যে তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং এটিই তার পরবর্তী বড় লক্ষ্য।
JitaBet , JitaWin , এবং JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন, তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!
উপসংহার:
লিওনেল মেসি বরাবরই তার খেলা দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন, আর এবার চমক দিলেন তার ভবিষ্যৎ ভাবনা দিয়ে। ফুটবল মাঠের জাদুকর থেকে তিনি এখন একজন সফল ফুটবল এন্টারপ্রেনার হওয়ার পথে। তার এই সিদ্ধান্ত কেবল ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের মোড় পরিবর্তন নয়, বরং আধুনিক ফুটবলের বিবর্তনের একটি মাইলফলক। কোচিংয়ের চেনা পথে না হেঁটে মালিকানার কঠিন পথ বেছে নেওয়া মেসির সাহসিকতারই পরিচয় দেয়। ডিপোর্তিভো এলএসএম এবং মেসি কাপ এর মতো প্রজেক্টগুলো প্রমাণ করে যে, তিনি ফুটবলের তৃণমূল কাঠামোর আমূল পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর।
২০২৬ বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ পর্যন্ত ইন্টার মায়ামির সাথে খেলার সিদ্ধান্ত ভক্তদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। তবে মাঠের বাইরে তার এই প্রস্তুতি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, একদিন এই জাদুকরী ড্রিবলিং থেমে যাবে। কিন্তু মেসির তৈরি করা ক্লাব বা একাডেমিগুলো থেকে বেরিয়ে আসবে আগামীর মেসিরা। ফুটবল কিংবদন্তিরা সাধারণত মাঠ থেকে বিদায় নিয়ে হারিয়ে যান, কিন্তু মেসি থাকতে চান ফুটবলের হৃদস্পন্দনে—কখনো খেলোয়াড় হিসেবে, কখনো বা প্রভাবশালী মালিক হিসেবে। ডাগআউটের কোচ মেসিকে হয়তো আমরা পাব না, কিন্তু গ্যালারির ভিআইপি বক্সে বসা এক সফল ক্লাব মালিক মেসিকে দেখা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News





