শিরোনাম

সান্ডারল্যান্ডের কাছে বিধ্বস্ত বার্নলি; লিগ টেবিলের আটে ‘ব্ল্যাক ক্যাটস’

Table of Contents

সান্ডারল্যান্ড সোমবার রাতে স্টেডিয়াম অফ লাইটে বার্নলিকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে সান্ডারল্যান্ড। হাবিব দিয়ারা ও চেমসদিন তালবির দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ‘ব্ল্যাক ক্যাটস’রা তাদের ঘরের মাঠে অপরাজেয় থাকার রেকর্ড ১২ ম্যাচে নিয়ে ঠেকিয়েছে। অন্যদিকে, টানা ১৫ ম্যাচ জয়হীন থাকা বার্নলিকে ম্যাচ শেষে তাদের কোচ স্কট পার্কার ‘শিশুসুলভ’ (Childish) বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন। সান্ডারল্যান্ডের কাছে ৩-০ গোলে হেরে অবনমন সংকটে বার্নলি। স্কট পার্কারের দলের ‘শিশুসুলভ’ পারফরম্যান্স এবং সান্ডারল্যান্ডের অষ্টম স্থানে ওঠার বিস্তারিত।

সান্ডারল্যান্ড কীভাবে বার্নলির রক্ষণভাগকে চুরমার করে দিলো?

সান্ডারল্যান্ড ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসেছিল, যার ফল তারা হাতেনাতে পায় ম্যাচের মাত্র ৯ম মিনিটে। সেনেগালিজ মিডফিল্ডার হাবিব দিয়ারা ডি-বক্সের ভেতর থেকে একটি নিচু শট নেন, যা বার্নলি ডিফেন্ডার অ্যাক্সেল তুয়ানজেবের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। এই আত্মঘাতী গোলটি বার্নলির আত্মবিশ্বাস শুরুতেই গুড়িয়ে দেয়। এরপর ৩২ মিনিটে দিয়ারা নিজেই সরাসরি গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন, যেখানে বার্নলি গোলরক্ষক মার্টিন দুব্রাভকা শটটি ঠেকানোর সামান্য সুযোগও পাননি।

দ্বিতীয়ার্ধে বার্নলি ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও সান্ডারল্যান্ডের সুসংগঠিত রক্ষণের সামনে তারা ছিল অসহায়। ম্যাচের ৭২ মিনিটে চেমসদিন তালবি বাম প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে এক দর্শনীয় কোণাকুণি শটে গোল করে ৩-০ ব্যবধান নিশ্চিত করেন। সান্ডারল্যান্ডের এই জয় তাদের ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার লড়াইয়ে টিকে থাকার স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম স্কাই স্পোর্টস তাদের রিপোর্টে সান্ডারল্যান্ডের এই পারফরম্যান্সকে ‘ক্লিনিক্যাল’ বা নিখুঁত বলে আখ্যায়িত করেছে।

কোচ স্কট পার্কার কেন তার দলকে ‘শিশুসুলভ’ বলে গালি দিলেন?

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বার্নলি বস স্কট পার্কার তার দলের ওপর ক্ষোভ উগড়ে দেন। তিনি খেলোয়াড়দের মানসিকতা এবং মাঠের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পার্কার সরাসরি বলেন, “মাঠের কিছু মুহূর্তে আমাদের একটি শিশুসুলভ (Childish) দলের মতো মনে হয়েছে। আমাদের কোনো উদ্দেশ্য বা জেদ ছিল না, যা এই পর্যায়ের ফুটবলে টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য।” বার্নলি পুরো ম্যাচে একটিও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেনি (Shot on target), যা তাদের শোচনীয় অবস্থার প্রতিফলন ঘটায়।

পার্কারের এই মন্তব্য মূলত দলের তরুণ এবং অনভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের দায়বদ্ধতার অভাবকে ইঙ্গিত করেছে। লিগে টানা ১৫ ম্যাচ জয়হীন থাকার পর কোচ এখন তার খেলোয়াড়দের সক্ষমতা নিয়ে প্রকাশ্যেই সন্দিহান। দ্য গার্ডিয়ান তাদের লাইভ ব্লগে উল্লেখ করেছে যে, বার্নলি এখন প্রিমিয়ার লিগ থেকে বিদায় নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে এবং পার্কারের চাকরিও এখন সংকটের মুখে।

এক নজরে: সান্ডারল্যান্ড বনাম বার্নলি ম্যাচ পরিসংখ্যান

ক্যাটাগরিসান্ডারল্যান্ডবার্নলি
ফলাফল
শট (লক্ষ্যে)১২ (৬)৫ (০)
বল পজিশন৫৪%৪৬%
লিগ পজিশন৮ (৩৬ পয়েন্ট)১৯ (১৫ পয়েন্ট)
অপরাজেয় রেকর্ড১২ হোম ম্যাচ০ জয় (১৫ ম্যাচ)

সান্ডারল্যান্ডের জন্য এই জয়ের গুরুত্ব কতটা ব্যাপক?

সান্ডারল্যান্ড এই মরসুমে প্রমোশন পেয়ে আসার পর থেকেই একের পর এক চমক দেখিয়ে চলেছে। কোচ রেজিস লে ব্রিসের অধীনে দলটি এখন প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম ধারাবাহিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। বার্নলিকে হারিয়ে তারা এভারটন এবং ফুলহ্যামকে টপকে লিগ টেবিলের অষ্টম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে। ঘরের মাঠে টানা ১২ ম্যাচ অপরাজিত থাকার এই রেকর্ডটি যেকোনো নব-উত্তীর্ণ দলের জন্য প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে বিরল এক সাফল্য।

দলের তরুণ তারকা চেমসদিন তালবি এবং হাবিব দিয়ারা এখন ক্লাবের মূল কান্ডারি হয়ে উঠেছেন। সান্ডারল্যান্ডের সমর্থকদের মধ্যে এখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা ইউরোপা লিগে খেলার স্বপ্ন দানা বাঁধছে। হিন্দুস্তান টাইমস তাদের বিশ্লেষণে জানিয়েছে যে, সান্ডারল্যান্ডের এই ‘ফেয়ারিটেইল’ যাত্রা কেবল ভাগ্যের জোরে নয়, বরং তাদের ট্যাকটিক্যাল শ্রেষ্ঠত্ব এবং সঠিক স্কাউটিংয়ের ফসল।

বার্নলির অবনমন সংকট কি এখন অনিবার্য?

বার্নলি বর্তমানে লিগ টেবিলের তলানির দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে (১৯তম) অবস্থান করছে। নিরাপদ অবস্থানে থাকা নটিংহ্যাম ফরেস্টের চেয়ে তারা এখন ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে। আগামী শনিবার যদি তারা ওয়েস্ট হ্যামের কাছে হেরে যায়, তবে তাদের অবনমন প্রায় নিশ্চিত হয়ে পড়বে। স্কট পার্কারের দল গত অক্টোবর থেকে কোনো জয়ের দেখা পায়নি, যা ক্লাবের ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘতম জয়হীন ধারা। রক্ষণের ভঙ্গুর দশা এবং আক্রমণে ধারহীনতা তাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বার্নলি এই মরসুমে সবচেয়ে বেশি গোল হজম করা দলগুলোর অন্যতম। তুয়ানজেবের আত্মঘাতী গোলটি ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম লজ্জাজনক রেকর্ড, কারণ তিনি ভিন্ন তিনটি ক্লাবের হয়ে তিনটি আত্মঘাতী গোল করার অনাকাঙ্ক্ষিত কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। সমর্থকদের ক্ষোভ এখন চরমে এবং ক্লাবের মালিকপক্ষ হয়তো খুব শীঘ্রই কোচের বিষয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

সান্ডারল্যান্ডের আগামীর লক্ষ্য এবং ইউরোপীয় স্বপ্ন কি পূরণ হবে?

সান্ডারল্যান্ডের বর্তমান ফর্ম বজায় থাকলে তারা শীর্ষ সাতের মধ্যে থেকে মরসুম শেষ করার শক্তিশালী দাবিদার। তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলো তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হওয়ায় পয়েন্ট বাড়িয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। কোচ লে ব্রিস অবশ্য এখনই খুব বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষী হতে নারাজ। তিনি জানিয়েছেন, তার মূল লক্ষ্য দলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং তরুণ খেলোয়াড়দের আরও পরিণত করে তোলা।

তবে ফুটবলবোদ্ধারা মনে করছেন, সান্ডারল্যান্ডের এই উত্থান প্রিমিয়ার লিগের পাওয়ার ডিনামিক্স পরিবর্তন করে দিচ্ছে। যদি তারা পরবর্তী তিনটি অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে অন্তত ৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারে, তবে ইউরোপীয় ফুটবলের টিকিট পাওয়া তাদের জন্য কেবল সময়ের ব্যাপার হবে। স্টেডিয়াম অফ লাইটের গ্যালারিতে এখন কেবলই জয়ের সুর, যা দলের মনোবলকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

FAQ:

১. সান্ডারল্যান্ড বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের কত নম্বরে আছে?

বার্নলিকে ৩-০ গোলে হারানোর পর সান্ডারল্যান্ড ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের অষ্টম (৮ম) স্থানে উঠে এসেছে।

২. বার্নলি কোচ কেন তার দলকে ‘শিশুসুলভ’ বলেছেন?

খেলোয়াড়দের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ম্যাচে লড়াই করার মানসিকতার অভাব দেখে ক্ষুব্ধ কোচ স্কট পার্কার বার্নলিকে ‘শিশুসুলভ’ বা Childish বলে মন্তব্য করেছেন।

৩. ম্যাচে গোলগুলো কারা করেছেন?

সান্ডারল্যান্ডের হয়ে একটি গোল করেছেন হাবিব দিয়ারা এবং একটি করেছেন চেমসদিন তালবি। এছাড়া অন্যটি ছিল বার্নলি ডিফেন্ডার অ্যাক্সেল তুয়ানজেবের আত্মঘাতী গোল।

৪. বার্নলি সর্বশেষ কবে লিগ ম্যাচে জিতেছিল?

বার্নলি গত ১৫টি লিগ ম্যাচে কোনো জয় পায়নি। তাদের সর্বশেষ জয়টি এসেছিল ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে।

৫. সান্ডারল্যান্ডের অপরাজেয় রেকর্ডটি কী?

সান্ডারল্যান্ড তাদের ঘরের মাঠ ‘স্টেডিয়াম অফ লাইটে’ গত ১২টি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে অপরাজিত থাকার অনন্য রেকর্ড গড়েছে।

JitaBet ,  JitaWin , এবং  JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন,   তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!

উপসংহার

সান্ডারল্যান্ড এবং বার্নলির এই লড়াই ছিল মূলত এক পাক্ষিক আধিপত্যের গল্প। একদিকে রেজিস লে ব্রিসের সান্ডারল্যান্ড যেখানে নিজেদের প্রমাণ করার নেশায় মত্ত, অন্যদিকে বার্নলি ধুঁকছে দিশাহীন ফুটবলে। ৩-০ গোলের এই ফলাফল কেবল মাঠের স্কোরলাইন নয়, বরং দুটি ক্লাবের বর্তমান অবস্থার স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। সান্ডারল্যান্ড এখন স্বপ্ন দেখছে ইউরোপের বড় মঞ্চে নিজেদের নাম লেখানোর, যেখানে বার্নলির সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দ্বিতীয় বিভাগে অবনমন ঠেকানো। স্কট পার্কারের জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে, এবং তার ‘শিশুসুলভ’ মন্তব্য দলের ড্রেসিংরুমে অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

সান্ডারল্যান্ডের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো তাদের তরুণ প্রতিভা এবং প্রবীণ খেলোয়াড়দের সঠিক সমন্বয়। দিয়ারা এবং তালবির মতো তরুণরা যেভাবে দায়িত্ব নিচ্ছেন, তা বড় ক্লাবগুলোর নজর কাড়তে শুরু করেছে। প্রিমিয়ার লিগের মতো কঠিন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং শীর্ষ দশে জায়গা করে নেওয়া যেকোনো দলের জন্যই বড় অর্জন। অন্যদিকে বার্নলিকে যদি টিকে থাকতে হয়, তবে তাদের ট্যাকটিক্যাল এবং মানসিক—উভয় ক্ষেত্রেই আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহ প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিকে বড় ধরণের রদবদল নিয়ে আসতে পারে। তবে আপাতত, স্টেডিয়াম অফ লাইটে সান্ডারল্যান্ডের রাজত্বই বজায় থাকছে।

For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *