শিরোনাম

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কি ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হতে যাচ্ছেন?

Table of Contents

৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে খেললেও কি ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হতে পারবেন? রেকর্ড বুক ও পর্তুগাল দলের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ। আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে পর্তুগাল জাতীয় দলের স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সে এসে উত্তর আমেরিকার মাটিতে অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার সাথে সাথেই তিনি বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসের চতুর্থ বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে নিজের নাম নথিভুক্ত করবেন। তবে ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে ৪০ বছরের বেশি বয়সী একাধিক ফুটবলার পূর্বেই অংশগ্রহণ করায় রোনালদো এককভাবে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হওয়ার রেকর্ড নিজের নামে করতে পারছেন না। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে টানা ষষ্ঠবারের মতো বৈশ্বিক এই মহোৎসবে অংশ নিয়ে অনন্য এক লঞ্জিভিটি রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন আল-নাসরের এই ফরওয়ার্ড।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ২০২৬ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্তির আসল সত্য কী?

আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ১১ জুন থেকে, যা যৌথভাবে আয়োজন করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। গত ১৫ মে পর্তুগিজ কোচ রবার্তো মার্তিনেজ আনুষ্ঠানিকভাবে যে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন, সেখানে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্থান পেয়েছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলমেশিন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ৪১ বছরে পা রাখা এই তারকা স্ট্রাইকারকে দলে রাখা নিয়ে বিশ্ব ফুটবল পাড়ায় ব্যাপক আলোচনা চলছিল, তবে তার সাম্প্রতিক অনবদ্য ফর্ম এবং শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনায় কোচ তাকে দলের প্রধান আক্রমণভাগের দায়িত্ব দিয়েছেন। পর্তুগালের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কোয়াডে অভিজ্ঞ এবং তরুণ প্রজন্মের এক দারুণ ভারসাম্য আনা হয়েছে যেখানে ব্রুনো ফার্নান্দেস, বার্নার্ডো সিলভা এবং রুবেন দিয়াসের মতো তারকাদের পাশে সিআর সেভেনকে (CR7) লিডার হিসেবে রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Foot-Africa নিশ্চিত করেছে যে, ১৭ জুন কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে পর্তুগাল তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে এবং সেই ম্যাচে মাঠে নামার সাথে সাথেই রোনালদোর ঐতিহাসিক ষষ্ঠ বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে।

ফুটবল বিশ্বে সাধারণত ৩০ বছর পেরোনোর পরই খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ দেখার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যায়, সেখানে ৪১ বছর বয়সে এসে একটি শীর্ষ সারির ইউরোপীয় দলের মূল স্কোয়াডে টিকে থাকা এক অলৌকিক ঘটনা। রোনালদোর এই অন্তর্ভুক্তি কেবল আবেগতাড়িত কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং সৌদি প্রো লিগে আল-নাসরের হয়ে তার সাম্প্রতিক গোলবন্যা এবং কন্ডিশনিং লেভেল প্রমাণ করে যে তিনি এখনও যেকোনো রক্ষণভাগকে গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম। পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের (FPF) কর্মকর্তারা মনে করেন, ড্রেসিংরুমে রোনালদোর উপস্থিতি দলের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য একটি বিশাল মানসিক বুস্টার হিসেবে কাজ করবে। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি শুরুর একাদশে নিয়মিত সুযোগ পাবেন নাকি সুপার-সাব হিসেবে খেলবেন, তা নিয়ে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মাঝে এখনও বিস্তর কৌশলগত বিতর্ক চলছে।

কেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হতে পারছেন না?

পরিসংখ্যান এবং অফিশিয়াল রেকর্ড বুক অনুযায়ী, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও তিনি টুর্নামেন্টের ইতিহাসের ওল্ডেস্ট প্লেয়ার বা সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হতে পারবেন না, কারণ এই রেকর্ডটি অনেক আগেই অন্য এক কিংবদন্তি নিজের করে রেখেছেন। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার সময় মিসরের কিংবদন্তি গোলরক্ষক এসাম এল-হাদারি ৪৫ বছর ১৬১ দিন বয়সে মাঠে নেমে এই কালজয়ী কীর্তিটি গড়েন। এর আগে ২০১৪ সালে কলম্বিয়ার গোলরক্ষক ফরিদ মন্ড্রাগন ৪৩ বছর ৩ দিন বয়সে খেলে এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে আউটফিল্ড বা মাঠের খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্যামেরুনের আইকনিক স্ট্রাইকার রজার মিলা ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ৪২ বছর ৩৯ দিন বয়সে খেলেছিলেন, যা রোনালদোর বর্তমান বয়সের চেয়েও বেশি। বিশ্বখ্যাত রেকর্ড ট্র্যাকার Guinness World Records এর দাপ্তরিক তথ্যমতে, মিসরের এসাম এল-হাদারি এখনও পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে ডেবিউ করা এবং ম্যাচ খেলা সবচেয়ে প্রবীণ ফুটবলার হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন।

রোনালদোর সামনে সুযোগ রয়েছে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক প্যাট জেনিংসের ৪১ বছরের রেকর্ডকে স্পর্শ করে ইতিহাসের চতুর্থ বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার। ২০২৬ সালের জুনে খেলা চলাকালীন রোনালদোর বয়স হবে ৪১ বছর ৪ মাস, যা তাকে পিটার শিলটন (৪০ বছর ২৯২ দিন) এবং ডিনো জফ (৪০ বছর ১৩৩ দিন) এর মতো সর্বকালের সেরা গোলকিপারদের ওপরে স্থান দেবে। স্ট্রাইকার বা ফরোয়ার্ড পজিশনে যেখানে প্রতি ম্যাচে গড়ে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দৌড়াতে হয়, সেখানে ৪১ বছর বয়সে খেলাটা একজন গোলরক্ষকের ৪৫ বছর বয়সে খেলার চেয়েও অনেক বেশি শারীরিক চাহিদাসম্পন্ন। তাই এককভাবে তালিকার শীর্ষে না থাকলেও একজন আউটফিল্ড আধুনিক ফুটবলার হিসেবে রোনালদোর এই অবস্থানকে ফুটবল বিশ্লেষকরা অলৌকিক এবং মানবীয় সীমার ঊর্ধ্বে বলে আখ্যায়িত করেছেন।

এক নজরে বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়দের তালিকা

খেলোয়াড়ের নামদেশের নামপজিশনবয়স (ম্যাচ খেলার দিন)বিশ্বকাপের সাল
এসাম এল-হাদারিমিসরগোলরক্ষক৪৫ বছর ১৬১ দিন২০১৮
ফরিদ মন্ড্রাগনকলম্বিয়াগোলরক্ষক৪৩ বছর ৩ দিন২০১৪
রজার মিলাক্যামেরুনফরোয়ার্ড৪২ বছর ৩৯ দিন১৯৯৪
প্যাট জেনিংসউত্তর আয়ারল্যান্ডগোলরক্ষক৪১ বছর ০০ দিন১৯৮৬
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোপর্তুগালফরোয়ার্ড৪১ বছর ৪ মাস (সম্ভাব্য)২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপে কি রোনালদোর সাথে আরও কোনো ‘চল্লিশোর্ধ্ব’ তারকা খেলছেন?

এবারের ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপটি হতে যাচ্ছে ইতিহাসের অন্যতম এক ব্যতিক্রমী আসর, যেখানে মডার্ন স্পোর্টস সায়েন্সের কল্যাণে ৪০ বছর বা তার কাছাকাছি বয়সী একাধিক ফুটবলারকে মাঠ মাতাতে দেখা যাবে। এই তালিকায় পর্তুগিজ অধিনায়কের পরেই রয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ড জাদুকর এবং রিয়াল মাদ্রিদ লিজেন্ড লুকা মদ্রিচ এবং মেক্সিকোর গোলপোস্টের নিচে চিরসবুজ প্রহরী গুইলার্মো ওচোয়া, যারা দুজনেই এই টুর্নামেন্ট চলাকালীন বা তার আগেই ৪০ বছরে পা রাখছেন। ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, উন্নত ডায়েট, ক্রায়োথেরাপি এবং আধুনিক ফিটনেস ট্র্যাকিং প্রযুক্তির কারণে খেলোয়াড়দের পেশাদার ক্যারিয়ারের মেয়াদ আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। জনপ্রিয় স্পোর্টস পোর্টাল BeIN Sports এর বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, লুকা মদ্রিচ, এডিন জেকো এবং হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিডের মতো তারকারা আধুনিক ফুটবলের চড়া গতি ও তীব্র শারীরিক শক্তির লজিককে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এই বয়সেও বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এই প্রবীণ খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ তরুণ ফুটবলারদের জন্য যেমন অনুপ্রেরণাদায়ক, তেমনি এটি দলগুলোর রণকৌশলেও ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। কোচ রবার্তো মার্তিনেজ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “দলে যখন ক্রিস্টিয়ানোর মতো একজন অভিজ্ঞ এথলেট থাকে, তখন মাঠের কৌশল সাজানো সহজ হয় কারণ সে জানে কীভাবে চাপের মুহূর্তে ম্যাচ বের করতে হয়।” ২০২৬ সালের এই আসরটি তাই কেবল নতুন প্রজন্মের উত্থানের গল্পই লিখবে না, বরং এটি ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ জেনারেশনের বিদায়ী সুর বা ‘লাস্ট ড্যান্স’ হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। লিওনেল মেসি ৩৯ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার হয়ে এবং রোনালদো ৪১ বছর বয়সে পর্তুগালকে নিয়ে শিরোপার শেষ লড়াইয়ে নামবেন।

ষষ্ঠ বিশ্বকাপ অংশগ্রহণে রোনালদো কোন কোন অনন্য রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছেন?

যদিও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হতে পারছেন না, তবুও ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নামার সাথে সাথেই তিনি এমন কিছু বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নেবেন যা ভাঙা আগামী কয়েক দশকেও অসম্ভব। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম এবং একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৬টি বিশ্বকাপে (২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২, ২০২৬) অংশগ্রহণের অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করবেন এই সিআর সেভেন। এর আগে আন্তোনিও কারবাহাল, রাফায়েল মার্কেজ, লোথার ম্যাথিউস এবং লিওনেল মেসি ৫টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে যৌথভাবে রেকর্ডের অংশীদার ছিলেন, তবে রোনালদো এবার সবাইকে ছাড়িয়ে এককভাবে চূড়ায় আরোহণ করবেন। নাইজেরিয়ার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম Punch Newspapers এর ক্রীড়া কলামে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে রোনালদোর এই ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলা তার অবিসংবাদিত পেশাদারিত্ব এবং অতিমানবীয় মেধার এক জ্বলন্ত প্রমাণ।

এর পাশাপাশি রোনালদো যদি এই বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল করতে পারেন, তবে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতার তালিকায় রজার মিলার ঠিক পেছনেই দ্বিতীয় স্থানে চলে আসবেন। একই সাথে ভিন্ন ভিন্ন ৬টি বিশ্বকাপে গোল করার একমাত্র ঐতিহাসিক নজিরটি স্থাপন করবেন তিনি, যা এর আগে কোনো পুরুষ বা নারী ফুটবলার কল্পনাও করতে পারেননি। পর্তুগাল দলের অধিনায়ক হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ক্যাপ বা ম্যাচ খেলার নিজের রেকর্ডটিকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবেন। ভক্ত এবং ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, এই রেকর্ডগুলো রোনালদোকে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন এক উচ্চতায় বসাবে যেখানে পৌঁছানো যেকোনো সমসাময়িক খেলোয়াড়ের জন্য অলীক স্বপ্ন মাত্র।

এই বয়সেও রোনালদোর এমন অতিমানবীয় ফিটনেসের পেছনের মূল রহস্য কী?

৪১ বছর বয়সে এসে বিশ্বমানের গতি এবং স্ট্যামিনা ধরে রাখার পেছনে রয়েছে রোনালদোর কঠোর ও অত্যন্ত সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রা, যা বিশ্বজুড়ে ফিটনেস সায়েন্স এর নতুন এক বেঞ্চমার্ক তৈরি করেছে। রোনালদো প্রতিদিন কঠোর রুটিন মেনে প্রায় ৫ থেকে ৬ বার অল্প পরিমাণে উচ্চ প্রোটিন এবং কম চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ করেন, যেখানে প্রক্রিয়াজাত চিনি বা কোমল পানীয়ের কোনো স্থান নেই। তার ব্যক্তিগত ট্রেইনারদের দেওয়া তথ্যমতে, তিনি প্রতিদিন ৮ ঘণ্টার ঘুম নিশ্চিত করার পাশাপাশি দিনে কয়েকবার ছোট ছোট ‘ন্যাপ’ বা পাওয়ার স্লিপ নেন যা পেশির দ্রুত পুনর্গঠনে (Muscle Recovery) সাহায্য করে। তাছাড়া, ঘরে বসানো ব্যক্তিগত ক্রায়োথেরাপি চেম্বারে মাইনাস ১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় চিকিৎসা নেওয়া এবং নিয়মিত সাঁতার কাটা তার এই দীর্ঘায়ু ক্যারিয়ারের বড় শক্তি।

পর্তুগাল দলের মেডিকেল টিমের প্রধান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, “ক্রিস্টিয়ানোর শরীরের জৈবিক বয়স (Biological Age) তার আসল বয়সের চেয়ে অন্তত ১০ বছর কম; তার ফ্যাট পার্সেন্টেজ এবং মাসল মাস এখনও একজন ২৩ বছরের তরুণের মতো।” মানসিকভাবে জয়ের প্রতি এই তীব্র ক্ষুধা এবং কঠোর আত্মত্যাগই তাকে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করে রেখেছে। যখন তার সমসাময়িক খেলোয়াড়রা ধারাভাষ্য কক্ষে বা অবসরের পর আরাম আয়েশে দিন কাটাচ্ছেন, তখন রোনালদো কড়া রোদে মেদহীন শরীরে ঘাম ঝরিয়ে যাচ্ছেন কেবল দেশের জার্সিতে আরেকটি সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরার লক্ষ্যে।

FAQ

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বর্তমান বয়স কত এবং তিনি কোন ক্লাবে খেলছেন?

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বর্তমান বয়স ৪১ বছর (জন্ম: ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৫)। তিনি বর্তমানে সৌদি প্রো লিগের শীর্ষ সারির ক্লাব আল-নাসর (Al-Nassr) এর হয়ে পেশাদার ফুটবল খেলছেন।

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় কে ছিলেন?

ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হলেন উত্তর আয়ারল্যান্ডের নরম্যান হোয়াইটসাইড। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে যুগোস্লাভিয়ার বিরুদ্ধে মাত্র ১৭ বছর ৪১ দিন বয়সে মাঠে নেমে তিনি এই বিশ্বরেকর্ডটি গড়েছিলেন।

রোনালদো কি ২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের অধিনায়ক হিসেবে খেলবেন?

হ্যাঁ, প্রধান কোচ রবার্তো মার্তিনেজের অধীনে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দলের মূল অধিনায়ক এবং লিডার হিসেবেই স্কোয়াডে নেতৃত্ব দেবেন।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতার রেকর্ডটি কার দখলে?

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতার রেকর্ডটি ক্যামেরুনের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রজার মিলা (Roger Milla) এর দখলে। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ৪২ বছর ৩৯ দিন বয়সে গোল করে তিনি এই কীর্তি গড়েন।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এ পর্যন্ত কয়টি বিশ্বকাপ গোল করেছেন?

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এ পর্যন্ত পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে মোট ৮টি গোল করেছেন। ২০০৬ সালে নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই তিনি জালের দেখা পেয়েছিলেন।

২০২৬ বিশ্বকাপটিই কি রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে?

হ্যাঁ, বিভিন্ন সাক্ষাৎকার এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্য ২০২৬ সালের এই মেগা আসরটিই হতে যাচ্ছে তার খেলোয়াড়ী জীবনের শেষ এবং চূড়ান্ত বিশ্বকাপ অবয়ব।

JitaBet ,  JitaWin , এবং  JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন,   তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!

উপসংহার:

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ কেবল একটি দেশের স্কোয়াড ঘোষণার সাধারণ খবর নয়, বরং এটি বিশ্ব ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম এক রোমাঞ্চকর অধ্যায়। ৪১ বছর বয়সে এসে যেখানে অধিকাংশ অ্যাথলেটের শরীর জবাব দিয়ে দেয়, সেখানে রোনালদোর এই বিশ্বমঞ্চে প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে যে মানুষের ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। তিনি হয়তো মিশরের এসাম এল-হাদারির ৪৫ বছর বয়সের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হতে পারছেন না, তবে একজন আউটফিল্ড ফরোয়ার্ড হিসেবে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার যে রাজকীয় কীর্তি তিনি গড়তে যাচ্ছেন, তা ফুটবল ইতিহাসে তাকে চিরকালের জন্য অমর করে রাখবে।

এই টুর্নামেন্টটি রোনালদোর জন্য শুধু রেকর্ড গড়ার মঞ্চ নয়, বরং তার ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণতা—ফিফা বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটি ছোঁয়ার শেষ সুযোগ। ইউরো ২০১৬ এবং নেশনস লিগ জয়ের পর এই বৈশ্বিক ট্রফিটি নিজের শোকেসে তুলতে পারলে তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পূর্ণতা আসবে। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছেন ১৭ জুনের সেই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য, যখন এই ৪১ বছর বয়সী চিরসবুজ তরুণ পর্তুগালের লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়িয়ে ফুটবল মাঠের সবুজ ঘাসে বুটের শেষ আঁচড় কাটবেন। তিনি ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় না হলেও, তার এই অপ্রতিরোধ্য দীর্ঘায়ু ফুটবল বিশ্বকে আরও বহু বছর অনুপ্রাণিত করবে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এক অনন্য রোল মডেল হিসেবে দেদীপ্যমান থাকবে।

For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *