অলিম্পিক ২০২৬ মিলানো কর্টিনা শীতকালীন অলিম্পিকের মশাল যাত্রা ১২ জানুয়ারি ২০২৬-এ তার এক ঐতিহাসিক পর্যায় সম্পন্ন করেছে। এই ৩৬তম ধাপে অলিম্পিক শিখা পিয়েমন্তের রাজকীয় ইউনেস্কো হেরিটেজ সাইট থেকে শুরু করে ইউরোপের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মন্ট ব্ল্যাঙ্ক পর্যন্ত ভ্রমণ করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। ক্রীড়া ও ঐতিহ্যের এই মেলবন্ধনে ইতালির জাতীয় ফুটবল দলের তারকা এবং কিংবদন্তি শীতকালীন অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনকে এক বিশ্বজনীন উৎসবে পরিণত করেছে। মিলানো কর্টিনা ২০২৬ অলিম্পিক মশালের ৩৬তম ধাপের যাত্রা পিয়েমন্তের ইউনেস্কো সাইট ও মন্ট ব্ল্যাঙ্ক ছুঁয়ে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি করেছে। বিস্তারিত পড়ুন।
কেন ৩৬তম ধাপটি অলিম্পিক মশাল যাত্রার জন্য এত তাৎপর্যপূর্ণ?
মিলানো কর্টিনা ২০২৬ অলিম্পিক মশাল যাত্রার ৩৬তম ধাপটি ছিল ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং দৃশ্যায়নের দিক থেকে অতুলনীয়। ১২ জানুয়ারি সকালে মশালটি পিয়েমন্তের রিভোলি থেকে যাত্রা শুরু করে, যেখানে এটি বিখ্যাত স্যাভয় রাজকীয় বাসভবন বা কাস্তেলো দি রিভোলি-তে প্রবেশ করে। এই প্রাচীন দুর্গটি বর্তমানে সমসাময়িক শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং ইউনেস্কো স্বীকৃত একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান। অলিম্পিক শিখার এই ঐতিহাসিক দুর্গে প্রবেশ ইতালির অতীত রাজকীয় গৌরব এবং আধুনিক ক্রীড়া উদ্দীপনার এক প্রতীকী মিলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই ধাপের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় যখন মশালটি পিয়েমন্তের বারোক স্থাপত্যের অন্যতম সেরা নিদর্শন ভেনারিয়া রয়্যাল প্যালেসে (Reggia di Venaria) পৌঁছায়। অলিম্পিকের অফিসিয়াল নিউজ অনুযায়ী, Olympics.com এই বিশেষ ধাপে ইতালীয় মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানা গিরেলি এবং কোচ আন্দ্রেয়া সোনসিন মশাল বহন করেন। তাদের এই অংশগ্রহণ ফুটবল এবং শীতকালীন অলিম্পিকের মাঝে এক অদৃশ্য সেতুবন্ধন তৈরি করেছে, যা গেমসের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই রাজকীয় পরিবেশ অলিম্পিক শিখার আলোকচ্ছটাকে আরও মহিমান্বিত করেছে যা ইতালীয় সংস্কৃতির প্রচারণায় বড় ভূমিকা রাখছে।
ভ্যাল ডি’আওস্তার পাহাড়ে শিখাটি কীভাবে সর্বোচ্চ উচ্চতা স্পর্শ করল?
পিয়েমন্তের সমভূমি ছেড়ে অলিম্পিক মশাল যখন ভ্যাল ডি’আওস্তা (Valle d’Aosta) অঞ্চলে প্রবেশ করে, তখন দৃশ্যাপট সম্পূর্ণ বদলে যায়। এই অঞ্চলের মূল আকর্ষণ ছিল ইউরোপের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মন্ট ব্ল্যাঙ্ক (Mont Blanc)। মশালের একটি ছোট অভিযাত্রী দল শিখাটিকে স্কাইওয়ে কেবল কারের মাধ্যমে পাহাড়ের একদম উপরের সোপানে নিয়ে যায়। ইউরোপের ছাদ হিসেবে পরিচিত এই ৩,৪৬৬ মিটার উচ্চতায় অলিম্পিক শিখার অবস্থান এক অনন্য ও রোমাঞ্চকর মুহূর্ত তৈরি করে। বরফে ঢাকা সাদা পাহাড়ের গায়ে মশালের আগুনের শিখা যেন শীতকালীন গেমসের মূল আমেজকে আরও গভীরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
ভ্যাল ডি’আওস্তা অঞ্চলের পর্যটন পোর্টাল LoveVDA এর তথ্য অনুযায়ী, এই যাত্রাটি কেবল পাহাড়ের চূড়ায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি আওস্তা উপত্যকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্য দিয়ে তার যাত্রা অব্যহত রেখেছিল। মন্ট ব্ল্যাঙ্ক থেকে ফিরে আসার পর মশালটি চ্যাটিলন (Châtillon) হয়ে আওস্তা শহরে প্রবেশ করে। উঁচু আল্পাইন ঢাল থেকে নেমে মশালটি যখন প্রাচীন জনপদে প্রবেশ করে, তখন হাজার হাজার স্থানীয় মানুষ ও পর্যটক এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদযাপন করেন। এই উচ্চতায় শিখা পৌঁছানো অলিম্পিক মশালের ঐতিহ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ, যা প্রায়ই বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গগুলোতে আলোকপাত করে।
অলিম্পিক ২০২৬ ৩৬তম ধাপের মশাল যাত্রা (১২ জানুয়ারি ২০২৬)
| স্থান | বিশেষ আকর্ষণ | বিশিষ্ট মশাল বহনকারী |
| রিভোলি | ইউনেস্কো হেরিটেজ সাইট (Castello di Rivoli) | পিয়েরপাওলো মাজা |
| ভেনারিয়া রিয়ালে | রাজকীয় প্রাসাদ ও বারোক স্থাপত্য | ক্রিস্টিয়ানা গিরেলি ও সোনসিন |
| মন্ট ব্ল্যাঙ্ক | স্কাইওয়ে কেবল কারের মাধ্যমে চূড়ায় আরোহণ | ছোট অভিযাত্রী দল |
| আওস্তা | ঐতিহাসিক কেন্দ্র ও রোমান থিয়েটার | ফেদেরিকো পেলেগ্রিনো |
| সেত্তিমো তোরিনেস | সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ কেন্দ্র | ডারডাস্ট (Dardust) |
৩৬তম ধাপে কারা ছিলেন মশাল বহনকারী প্রধান তারকা?
৩৬তম ধাপের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল এতে অংশ নেওয়া প্রথিতযশা মশাল বহনকারীরা। ফুটবলের দুনিয়া থেকে ক্রিস্টিয়ানা গিরেলি ছাড়াও পপ সংস্কৃতি ও সঙ্গীতের জগৎ থেকে উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত পিয়ানোবাদক এবং সুরকার ডারডাস্ট (Dardust)। তিনি মিলানো কর্টিনা ২০২৬ গেমসের অফিসিয়াল সাউন্ডট্র্যাক “Fantasia Italiana”-এর স্রষ্টা। ডারডাস্ট সেত্তিমো তোরিনেস-এ মশাল বহন করেন, যা অলিম্পিক গেমসের সাথে শিল্প ও সুরের এক নিবিড় যোগসূত্র স্থাপন করেছে। তার উপস্থিতি তরুণ প্রজন্মের মাঝে অলিম্পিক শিখা নিয়ে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করেছে।
যাত্রার শেষ লগ্নে আওস্তা শহরে মশালটি বহন করেন ইতালির কিংবদন্তি ক্রস-কান্ট্রি স্কিয়ার এবং অলিম্পিক পদক বিজয়ী ফেদেরিকো পেলেগ্রিনো। তিনি তার নিজ অঞ্চলে মশালের কলড্রন বা বড় অগ্নিপাত্রটি প্রজ্বলন করেন। ইতালীয় সংবাদ সংস্থা ANSA এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ফেদেরিকো পেলেগ্রিনো এবং আরিয়ানা ফলিসের এই মশাল প্রজ্বলন আওস্তার পিয়াজ্জা ডেলা রিপাবলিকা-কে এক উৎসবমুখর জনসমুদ্রে পরিণত করেছিল। কিংবদন্তি এই অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণ স্থানীয় জনগণের মাঝে অলিম্পিক উদ্দীপনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং শীতকালীন ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে এক নতুন আশার সঞ্চার করে।
আওস্তা শহরের রোমান ঐতিহ্যের মাঝে মশালের যাত্রা কেমন ছিল?
৩৬তম ধাপের সমাপ্তি ঘটে ঐতিহাসিক আওস্তা শহরে, যা তার সমৃদ্ধ রোমান ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত। মশালটি শহরের প্রাচীন গলি, রোমান থিয়েটার এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় এক অপার্থিব দৃশ্যের অবতারণা করে। আওস্তা শহরকে বলা হয় “আল্পসের রোম”, কারণ এখানে এখনও প্রাচীন রোমান আমলের গেটওয়ে, দেওয়াল এবং থিয়েটার অত্যন্ত সুন্দরভাবে সংরক্ষিত আছে। এই প্রাচীন পাথরের দেয়ালের মাঝে অলিম্পিক শিখার চলন যেন হাজার বছরের ইতিহাসকে এক সেকেন্ডে বর্তমানের সাথে যুক্ত করে দেয়। শহরের প্রতিটি কোণে স্থানীয় বাসিন্দারা মশালকে স্বাগত জানাতে ভিড় করেছিলেন।
আওস্তা শহরের এই উদযাপনটি ছিল মূলত আল্পাইন পরিচয় এবং অলিম্পিক চেতনার এক সংমিশ্রণ। ‘জারদিন দে ল’অটোনমি’ নামক স্থানে গেমসের আনুষ্ঠানিক ব্র্যাজিয়ারটি জ্বালানো হয়, যা ঐ দিনের যাত্রার সমাপ্তি ঘোষণা করে। ভ্যাল ডি’আওস্তা অঞ্চলটি সম্প্রতি ‘ইউরোপীয় রিজিয়ন অফ স্পোর্ট’ খেতাব অর্জন করেছিল, যা মশালের এই সফল যাত্রার মাধ্যমে আরও সার্থক হয়ে ওঠে। রোমান স্থাপত্যের পটভূমিতে মশালের আগুনের প্রতিফলন কেবল একটি ছবি নয়, বরং এটি মিলানো কর্টিনা ২০২৬-এর অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানসিকতার প্রতিফলন। এটি গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ঠিক এক মাস আগের এক বড় প্রস্তুতিমূলক ধাপ ছিল।
৩৭তম ধাপে মশালটি কোথায় যাচ্ছে?
৩৬তম ধাপের ঐতিহাসিক ভ্রমণের পর ১৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ মশালটি পুনরায় পিয়েমন্ত অঞ্চলে ফিরে আসছে। এটি ৩৭তম ধাপ হিসেবে ইভ্রিয়া (Ivrea), বিয়েলা (Biella) এবং নোভারার (Novara) মতো শহরগুলোর মধ্য দিয়ে যাবে। ইভ্রিয়া তার শিল্প ও সংস্কৃতির জন্য পরিচিত, যা ইউনেস্কোর আধুনিক শহর ব্যবস্থার অংশ। এছাড়া বিয়েরা অঞ্চলে টেক্সটাইল ঐতিহ্যের সাথে মন্ট ব্ল্যাঙ্ক ও মন্ট রোসার ভৌগোলিক সংযোগ মশাল যাত্রাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। বিয়েরার বিখ্যাত ওরোপা স্যাঙ্কচুয়ারি (Sanctuary of Oropa) এই ধাপের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণ হতে যাচ্ছে।
নোভারার সেন্ট গাউডেনজিওর ডোম (Cupola di San Gaudenzio) হবে ৩৭তম ধাপের সমাপ্তি বিন্দু। বিকেলের দিকে মশালটি পিয়াজ্জা মার্তারি ডেলা লিবার্তায় পৌঁছাবে এবং সেখানে শহরবাসীর উপস্থিতিতে ব্র্যাজিয়ার প্রজ্বলন করা হবে। পিয়েমন্তের কৃষি ও শিল্প প্রধান এই শহরগুলোর মধ্য দিয়ে মশালযাত্রা মূলত পুরো ইতালিতে অলিম্পিক মশালকে সবার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার একটি প্রচেষ্টা। প্রতিটি ধাপের সাথে সাথে গেমসের কাউন্টডাউন তীব্র হচ্ছে এবং পুরো ইতালি এখন অপেক্ষায় আছে ৬ ফেব্রুয়ারি মিলানোর সান সিরো স্টেডিয়ামে সেই ঐতিহাসিক উদ্বোধনী মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য।
FAQ:
১. ৩৬তম ধাপের যাত্রা কখন অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
৩৬তম ধাপের মশাল যাত্রা ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২. মন্ট ব্ল্যাঙ্কের কত উচ্চতায় মশালটি নেওয়া হয়েছিল?
মশালটি স্কাইওয়ে কেবল কারের মাধ্যমে মন্ট ব্ল্যাঙ্কের ৩,৪৬৬ মিটার উচ্চতার প্যানোরামিক সোপানে নেওয়া হয়েছিল।
৩. মশাল বহনকারী প্রধান তারকা কারা ছিলেন?
ইতালীয় ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানা গিরেলি, সুরকার ডারডাস্ট এবং অলিম্পিক পদকজয়ী স্কিয়ার ফেদেরিকো পেলেগ্রিনো অন্যতম মশাল বহনকারী ছিলেন।
৪. ৩৬তম ধাপে কোন ইউনেস্কো সাইটগুলো কাভার করা হয়েছে?
পিয়েমন্তের রিভোলি দুর্গ (Castello di Rivoli) এবং ভেনারিয়া রয়্যাল প্যালেস (Reggia di Venaria) এই ধাপে কাভার করা হয়েছে।
৫. ৩৭তম ধাপের যাত্রা কোথায় হবে?
৩৭তম ধাপটি ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইভ্রিয়া, বিয়েলা এবং নোভারার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হবে।
JitaBet , JitaWin , এবং JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন, তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!
উপসংহার:
৩৬তম ধাপের এই মশাল যাত্রা কেবল একটি রুট অতিক্রম নয়, এটি ছিল ইতালির আত্মা এবং তার সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের এক মহাকাব্যিক প্রদর্শনী। পিয়েমন্তের রাজকীয় ইউনেস্কো সাইট থেকে শুরু করে মন্ট ব্ল্যাঙ্কের আদিম শীতল উচ্চতা পর্যন্ত এই মশাল বহন করেছে সংহতি এবং শান্তির বার্তা। রিভোলি এবং ভেনারিয়া রিয়ালে-র মতো প্রাসাদের অলিন্দে মশালের শিখা যখন ইতিহাসকে স্পর্শ করছিল, তখন আওস্তার রোমান স্থাপত্যের গলিগুলো আধুনিক ক্রীড়া উদ্দীপনায় মুখরিত ছিল। এটি মিলানো কর্টিনা ২০২৬-এর অন্তর্ভুক্তিমূলক দর্শনকে সফলভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
অবশেষে বলা যায়, অলিম্পিক শিখাটি বর্তমানে যেখানেই যাচ্ছে, সেখানেই একত্বের এক শক্তিশালী আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। পিয়েমন্ত এবং ভ্যাল ডি’আওস্তার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সবাই এই যাত্রার অংশ হয়ে প্রমাণ করেছেন যে খেলাধুলা মানুষকে একত্রিত করার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। ইতিহাসের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এই মশাল আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মানুষের অদম্য সাহসিকতা এবং প্রতিযোগিতার সুন্দরতম রূপই হলো অলিম্পিক। ৩৬তম ধাপের এই রোমাঞ্চকর সমাপ্তিই মিলানো কর্টিনা ২০২৬-কে ইতিহাসের পাতায় এক অবিস্মরণীয় গেমসে পরিণত করার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।
For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News






